বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হৃদয়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত প্রবাসীদের অর্থায়নে খাদ‍্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদের দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হযরত শাহ জালাল (র.) মাজারে রাজনৈতিক শ্লোগানের নিন্দা ও প্রতিবাদ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ট্রলি সেবায় টাকা আদায়ে নিষেধাজ্ঞায় স্বেচ্ছাসেবকদের ক্ষোভে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল সাউথ ওয়েষ্ট রিজিওনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সোয়ানসি মৌলভীবাজার এসোসিয়েশনের ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত যশোরে হোটেল থেকে ব্যবসায়ীর মৃতদেহ উদ্ধার

দালালদের মাধ্যমে নয় বৈধপথে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৪৪৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

মোহাম্মদ মাহামুদুল, মালদ্বীপ থেকে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী বাংলাদেশি ও মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ। 

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বিকালে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ইস্কান্দার স্কুলের হলরুমে মালদ্বীপের বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে ওই নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে মালদ্বীপে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পথচলায় প্রবাসীদের বিভিন্ন অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই দেশটা এগিয়ে যাক। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছি। অর্থনৈতিকভাবে আমাদের দেশ শক্তিশালী হোক। 

আমরা আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মনির্ভরশীল হই। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল বা আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে পরনির্ভরশীল করেছিল। সেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক। 
তিনি বলেন, আমরা যখন সরকারে এসেছি তখন থেকে প্রচেষ্টা চালিয়েছি আমাদের দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মনির্ভরশীল হবে। মালদ্বীপে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানো সহজতর করা হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্স পাঠানোর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের রেমিটেন্স প্রবাসীরা পাঠাচ্ছে। আমরাও করোনাকালে তাদের প্রণোদনা দিয়েছি। ফলে আজ রেমিটেন্স বেড়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণলায়ে যারা কর্মরত বা বিদেশে যারা কর্মী পাঠায় তাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। কারণ দায়িত্বটা আপনাদের ওপর বর্তায়। আসলে মানুষ অনেক সময় নানাধরনের কথা চিন্তা করে। ভাবে যে, বিদেশে গেলে বোধহয় অনেক অর্থ উপার্জন করব। অনেকে আবার দালালের খপ্পরে পড়ে অন্ধকার পথে পা বাড়ায়।

প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হবেন না। দালালদের খপ্পরে পড়বেন না। দালালদের মাধ্যমে নয় বৈধপথে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে যে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি তার মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করার সুযোগ আছে। আর এই নিবন্ধনকৃতদের যেখানে কাজের সুযোগ হবে, সেখানে তাদের পাঠানো হবে। সেজন্য আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। কিন্তু আপনারা যদি কারও প্ররোচনায় বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়েন, সেটা নিজের জন্য, পরিবারের জন্য খুবই কষ্টকর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের দেশের যেমন কাজের অভাব নেই, খাবারেরও অভাব নেই আল্লাহর রহমতে। কাজেই এখন আর সোনার হরিণ ধরার পেছনে দয়া করে অন্ধের মতো ছুটবেন না। আপনারা নিবন্ধন করে তার মাধ্যমে যান, সেটাই আমরা চাই। প্রবাসী শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও অবহিত করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সবরকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের অর্থনীতিকে সচল রাখা, ফরেন রিজার্ভ বাড়ানো ক্ষেত্রে প্রবাসীদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে। তার জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নিয়েছি। আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। হয়তো যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে আমরা পারিনি। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবো। ইতোমধ্যে ৯৯ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। যাদের ভূমি নেই, গৃহ নেই, তাদের আমরা ঘর করে দেব- মুজিববর্ষে এটাই আমাদের অঙ্গীকার ছিল; আমরা সেটাই করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। রাষ্ট্রদূত বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন যার ডাকে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে এবং ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা সেই মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট নিহত সবাইকে। 

প্রবাসীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ দুলাল মাতবর। তিনি তার বক্তব্যে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— দূতালায়প্রধান মোহাম্মদ সোহেল পারভেজ সিআইপি, আলহাজ সোহেল রানা, মালদ্বীপে বাংলাদেশি শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একজন আহমেদ মুক্তাদী, মালদ্বীপে বাংলাদেশি শিক্ষক, ডাক্তার বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি। 

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102