

জামায়াতের সহযোগী সংগঠনের লাগাম টানতে না পারলে মব জাষ্টিস থামবে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জঙ্গি না হয়েও জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিনত হতে পারেঃ ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জাতিসংঘ ইরান বিষয়ক তদন্ত কর্মকর্তা।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন একটি সেমিনারে বক্তব্যে বলেন বিগত সরকারের মব জাষ্টিস এখনো চলমান রয়েছে, এখনো রাষ্ট্রে ফৌজদারি অপরাধ চলছে, এটা রাষ্ট্র এবং জনগনের জানমালের উপর হুমকি।
রাষ্ট্র কে মেরামত করার নামে গত ১৮ মাসের সরকার রাষ্ট্রের উপর প্রতিশোধ নিয়েছেন এমনটা মনে হয়। তখনকার রাষ্ট্রের প্রধান উপদেষ্টা মব জাষ্টিস কে উস্কে দিয়েছেন এমন টা শোনা যায় তবে জনগন এমন আশা করেননি।
রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা যদি ভাল না থাকে তবে রাষ্ট্রের জনগন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভেঙে পড়ে। আগেই আমাদের জনগনের নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।
আমরা অনেক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খেয়াল করে দেখছি রাষ্ট্রের একটি রাজনৈতিক দল ১৮ মাসে যে ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে জনগনের কথা ভুলে গিয়ে উশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করেছে, তারা এখনো আর সরকার কে সহযোগিতা করেন না।
এমনিতেই পৃথিবীর সব খানে বাংলাদেশে জঙ্গি আছে কিনা তা নিয়ে তারা চিন্তা করে, আমাদের চিন্তা বিদেশিরা করেন, তার পরে যদি কোন দল সন্ত্রাস কে উস্কে দেয়, রাজনীতিতে অরাজকতা সৃষ্টি করে তবে সেই দল রাজনৈতিকভাবে দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আমরা দেখতে পেয়েছি একটি জঙ্গি গোষ্ঠী বাংলাদেশের মিডিয়া গুলিতে জালাও পোড়াও করেছিল, তারা কিন্তু দেশের বাহিরে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
জামায়াতের সংগঠন ছাত্র শিবিরের লাগাম টানুন, তারা সমাজে বেয়াদবি ও অসদাচরণ ছড়িয়ে দিচ্ছে, এটা মোটেও শোভনীয় নয়, তাদের আচরণ আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, তারা শিক্ষকদের কে বৃদ্ধাঙুলি দেখাচ্ছে, তাদের দাম্ভিকতা সমাজে বেয়াদবি শিখাচ্ছেন।
ছাত্রদের লেখাপড়া শেষ করার আগেই তারা এমপি মন্ত্রী হতে চান, এই উশৃংখল ছাত্ররা জাতিকে কিছু দিতে পারবে না। আমরা অতীতে এমন রাজনীতি দেখিনি, ছাত্ররা জাতির আগামীর ভবিষ্যৎ, সেই ছাত্ররা যদি শিক্ষককে আঙুল উচিয়ে দেখান তবে তারা জাতির জন্য হুমকি।
জামায়াতে ইসলামী দল এমনিতেই কলঙ্কিত ইতিহাস বহন করে চলছে তার পরে যদি আবার নতুন করে রাষ্ট্রকে ভুল পথে চালানোর জন্য তাদের ( শিবির) সহযোগিতা করতে থাকেন তবে তারাও আর ভুল থেকে উঠে আসতে পারবে না।
এই ছাত্র শিবির বর্তমানে গিনি পোকার মতো ছড়িয়ে পড়েছে, এদের মুখে মিষ্টতা থাকলেও ভিতরে অসম্ভব হিংস্রতা। জামায়াতের উচিৎ ওদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক শিক্ষা দেওয়া। এরা রাজনীতি জানে না। এরা লাখ লাখ ভুয়া আইডি খুলে মানুষ কে যা – ইচ্ছে তাই বলে গালিগালাজ করছেন, এখন একটা কথা চালু করেছে তারা ভারতের দালাল, যারা রাজনীতি করেন না তারা কি করে ভারতের দালাল হয়, এখন জামাত শিবিরের শ্লোগান ই ভারতের দালাল গালি দেয়া।আপনারা একটি ধর্মের লেবাজে চলে যদি মানুকে এভাবে বিভৎস ভাষায় গালিগালাজ করেন তবে এক সময় এটা ঘুরে দাড়িয়ে বুমেরাং হতে পারে।
ভারত বা অন্য দেশ আমাদের প্রতিবেশী, তাদের সাথে আমাদের বানিজ্যিক সম্পর্ক, প্রতিটি রাষ্ট্রের সাথে আমাদের বানিজ্যিক ও কুটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দরকার কিন্তু কাউকে আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগ দেয়া উচিৎ নয়।
সরকারি দলের সহযোগি সংগঠন গুলিকেও গঠন মুলক আচরণ করা উচিৎ, দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, দলের সহযোগিতায় সংগঠন অপরাধ করলে তখন মুল দল দায় না নিয়ে বলে দেন এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়, এটা অপরাধ, কারন দল তাকে মন্দ কাজ করার জন্য উস্কে দিচ্ছেন।
সরকারের উচিৎ অনৈতিক রাজনীতি চর্চার পথ বন্ধ করা, তা না হলে আমাদের আগামী প্রজন্ম বিপদে পড়বে।