

ওয়েলসের রিভার আস্কের তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক শহর নিউপোর্ট, যার ইতিহাস ২,০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। এর সূচনা হয় কেল্টিক বসতি থেকে এবং কাছাকাছি কেয়ারলিয়নে ১ম শতাব্দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রোমান ঘাঁটি ছিল। পাবর্তীতে এটি একটি মধ্যযুগীয় বন্দর ও দুর্গনগরীতে পরিণত হয় এবং ১৯শ শতকে একটি প্রধান কয়লা রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত বিকশিত হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের মধ্যে রয়েছে ১৮৩৯ সালের চার্টিস্ট বিদ্রোহ, ১৯০৬ সালের ট্রান্সপোর্টার ব্রিজ এবং ২০০২ সালে শহরের মর্যাদা লাভ।
ঐতিহাসিক এই শহরে শতবছর পূর্ব থেকেই বসবাস শুরু হয় বাংলাদেশীদের। সে সময়ে শিক্ষাদীক্ষার দিক থেকে আমাদের বাংলাদেশী কমিউনিটি ছিলো বলতে গেলে শূন্যের কোটায়। বর্তমানে আমাদের প্রজন্ম লেখাপড়া করে শিক্ষাদীক্ষায় অনেক এগিয়ে গিয়েছে। সরকারী, বেসরকারী অফিস, আদালতে চাকুরী, ব্যবসা সহ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ছাড়াও এদেশের মেইনস্ট্রীম রাজনীতিতে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েছে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা।
তারই ধারাবাহিকতায় নিউপোর্ট সিটি থেকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশী বংশদ্ভুত ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর রশিদ চৌধুরী সেনেড ইলেকশন ২০২৬ এ অর্থাৎ চলতি বছরের ৭ই মে তারিখে ওয়েলস লিবারেল ডেমোক্রাট এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
একজন সংবাদকর্মী হিসেবে মো: হারুন-উর রশিদের সাথে আমার দীর্ঘ দিনের পরিচয়। তিনি বিভিন্ন চ্যারিটি, সামাজিক সংগঠন সহ লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সদস্য, জনমত পত্রিকা, চ্যানেল এস টিভির সিনিয়র সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মিডিয়ার সাথে জাড়িত। তাঁর পরিচিতি সারা যুক্তরাজ্যে। তার দেশের বাড়ি সিলেট জেলার ওসমানী নগরের তাজপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামে।
ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর রশিদ এমপি পদপ্রাথী হওয়ার খবর জানিয়ে আমাকে ফোন করে দোয়া চাইলেন। শুনে খুশি হলাম। খুশি হলাম এ জন্য যে, আমাদের বর্তমান প্রজন্মের একজন রাজনীতিবিদ অন্তত: প্রথমবারের মতো নিউপোর্ট থেকে এমপি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এ দাঁড়ানোটা শুধু তার নিজের জন্য নয় বরং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে আর এভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিজয়ী হয়ে একদিন তারা বাংলাদেশী কমিউনিটির মুখ উজ্বল করবে।
সাংবাদিক হারুন এর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হলো। তার মধ্যে থেকে কিছু কথা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো
আপনার শৈশব ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে কিছু বলবেন?
আমি ওসমানী নগরের তাজপুর ই্উনিয়নের একটি সাধারণ পরিবারে জন্মগস্খহণ করেছি। গ্রামীন পরিবেশে বেড়ে ওঠা আমাকে বাস্তব জীবনকে কাছ থেকে বুঝতে সাহায্য করেছে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনা ও সামাজিক কাজে আগ্রহ ছিল।
যুক্তরাজ্যে আপনার পথ চলা কিভাবে শুরু হয়?
পড়াশুনা ও রুজি -রোজগারের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে আসি। বিদেশের মাটিতে এসে প্রথমে অবশ্যই জীবন সংগ্রাম করতে হয়েছ্। ধীরে ধীরে ব্যবসা, কমিউনিটি কাজ ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি।
রাজনীতিতে আসার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা কি?
একটি রাজনৈতিক পরিবারে আমার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলাম। স্কুল ক্যাপ্টেন, কলেজ ছাত্র সংসদে ভিপি, জিএস নির্বাচন করেছি। সেই থেকে মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছাই আমাকে রাজনীতিতে এনেছে। দীর্ঘদিন থেকে কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থেকে দেখেছি, অনেক সমস্যার সমাধান নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে থেকেই সম্ভব।
আপনার নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো কি কি?
আমি মূলত: তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছি- মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনীতি। এছাড়া ছোট ব্যবসা, অভিবাসী কমিউনিটি এবং তরুণদের উন্নয়ন নিয়েও কাজ করতে চাই।
প্র্রবাসী কমিউনিটির জন্য আপনার পরিকল্পনা কি?
আমাদের কমিউনিটি সমাজে অনেক অবদান রাখছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে আছে। আমি চাই তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক- শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায়। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
কমিউনিটি কাজের অভিজ্ঞতা কি ভাবে মূলধারার রাজনীতিতে সহায়তা করবে?
আমি বিভিন্ন সংগঠন ও চ্যারিটির সঙ্গে কাজ করেছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে মানুষের প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করেছে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান ভাবতে শিখিয়েছে।
তরুণ ভোটারদের জন্য আপনার বার্তা কি?
তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তারা যেন সচেতন ভাবে ভোট প্রদান করেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নেন। আমি তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরী করতে চাই।
নির্বাচনে জয়ী হলে আপনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য কি?
আমি চাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কি?
আমি আপনাদেরই একজন। আপনাদের আশা-আকাঙ্খা নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সমর্থন পেলে আমি আপনাদের কন্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবো। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর রশিদের নির্বাচনী প্রচারণায় তার দল এবং এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে জোড়েশুরেই চলছে। বিজয়ের ব্যাপারে তিনি খুবই আশাবাদী। আমরাও আশা করবো হারুনুর-অর রশিদ এই নির্বাচনে বিজয়ের মালা পরে সবাইকে আনন্দিত করবেন। শুভ কামনা রইলো তার জন্য।