

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভাষাভাষী ও জাতিসত্তার মানুষ আজ তাদের নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রসার ঘটিয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। চট্টগ্রামের এই অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ বৈচিত্র্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে।
শনিবার (৯ মে) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রামে বসবাসরত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রকৌশলী পরিবার আয়োজিত বৈসুক, সাংগ্রাই, বিঝু, বিষু, বিহু, চাংক্রান, চাংলান ও পাতা উৎসবের পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান এমপি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামে কর্মরত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, নিজেকে ভালোবাসুন, দেশের মানুষকে ভালোবাসুন। আপনাদের পরিচয়, ঐতিহ্য ও কৃষ্টি নিজের কাছে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সবার কাছে ছড়িয়ে দিন। আপনাদের ইনোভেশন ও সকল উন্নয়ন কাজ দেশের মানুষের কল্যাণে এবং দেশের সমৃদ্ধিতে নিবেদন করুন।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি আরও উল্লেখ করেন যে, পার্বত্য জনগোষ্ঠীর মানুষ তাদের মেধা, শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে সমৃদ্ধ করছেন। প্রকৌশলী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আমাদের অহংকার। আমরা বাংলাদেশী। পার্বত্য জনগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের স্বকীয় ঐতিহ্য ভুলে যাননি, বরং তা ধারণ ও সংরক্ষণ করে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করছেন।
বক্তব্যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী পাহাড়ি মানুষদের ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে দীপেন দেওয়ান বলেন, বিএনপি সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্তার পরিচয় ও অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হয়ে সকল সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করছে। মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সবসময় পার্বত্যবাসীর কল্যাণে পাশে থাকবে এবং সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রকৌশলী প্রু মং রাখাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিজস্ব ঐতিহ্যের পোশাকে সজ্জিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, পাহাড়ি প্রকৌশলীগণ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।