

জার্মানিতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশি হামিদুল খানকে সর্বোচ্চ সম্মাননা (ম্যানশেন ডেস রেসপেক্ট) দিয়েছে দেশটির হেসেন রাজ্য সরকার। গত ১০ জানুয়ারি হেসেন প্রদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ফ্রাঙ্কফুর্টের হেডারনহাইমের একটি মিলনায়তনে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মাননাটি তুলে দেন রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী প্রিসকা হিন্জ।
প্রবাসী হামিদুল খান দেশটির রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্য অভিবাসীদের অধিকার আদায় ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। পাশাপাশি দেশটির স্থানীয় বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে গড়া স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রতিষ্ঠান জার্মান বাংলা সোসাইটির মাধ্যমে খাবার বিতরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মাননা গ্রহণ করে স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন হামিদুল খান। তিনি বলেন, ‘আসলে পুরস্কারের জন্য সামাজিক কাজে যুক্ত হইনি। শুধুমাত্র মানুষের কষ্ট বুঝতে, সুখে ও দুঃখে কাছে থাকতেই সর্বস্তরের মানুষের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছিলাম। এ ছাড়া অনেক বছর ধরে আমি জার্মানির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ‘অবসর সময়ে আমি সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির কাজে ব্যয় করি। প্রবাসী ও স্থানীয়দের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপন করতেই ১৯৯৭ সালে জার্মান-বাংলা সোসাইটি গঠন করি। একইসঙ্গে জার্মানির মতো দেশে প্রথমবারের মত অভিবাসী বা ইমিগ্রেশন বইমেলা ও বঙ্গবন্ধু বইমেলার আয়োজনও নিয়মিতভাবে করে আসছি।’
এর আগে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্যও ২০২২ সালে হেসেন রাজ্য সরকার হামিদুল খানকে স্বর্ণপদক ছাড়াও দেশটির সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনও তাকে সম্মানিত করে। সম্মাননা অনুষ্ঠানে রাজ্যের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সমাজের সর্বস্তরের ব্যক্তি ছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ /এমএসএম