

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ একশো এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট এজেন্সিগুলোর সিন্ডিকেট ভাঙতে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সোমবার হাইকোর্টে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মাসুদ হোসাইনের দ্বৈত বেঞ্চে এই তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এতে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতারিত কর্মীদের সব টাকা ফেরতেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গেলো ৩১ মে মালয়েশিয়া যাওয়ার চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেয়েও যেতে পারেননি ১৭ হাজার ৭৭৭ বাংলাদেশি। কর্মী পাঠানোর সময় শেষ হওয়ায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করেও যেতে পারেন নি বলে অভিযোগ তাদের। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে তদন্ত কমিটি করে মন্ত্রণালয়। হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন এক আইনজীবী।
তদন্ত শেষে সোমবার হাইকোর্টে প্রতিবদন দাখিল করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। জড়িত ১০০ এজেন্সিকেই ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে অভিযোগকারীদের সমস্ত টাকা ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘এক একজন শ্রমিক ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করেছে। কোনো শ্রমিক বাড়ি বিক্রি করেছে, কোনো শ্রমিক ঋণ করেছে, এভাবে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক টাকা দিয়েছে।’
তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সরকার নির্ধারিত প্রায় ৮০ হাজার টাকার বেশি নিয়েছে যেসব এজেন্সি তাদেরর বিরুদ্ধে ব্যবস্থারও সুপারিশ এসেছে। গুটিকয়েক এজেন্সি নয়, সব বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে, মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলোচনা করে এজেন্সি নির্ধারণের বিধান সংশোধনেরও কথা বলা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘সরকারের কাছে একজন পিটিশনকারী হিসেবে আবেদন থাকবে যারা ভুক্তভোগী তাদের সমপরিমান টাকা যেন ফেরত দেওয়া হয়। তারা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তাহলে সেই ক্ষতির পরিমাণ যেন দেওয়া হয়।’
একমাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার সরকারের সাথে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে, আবারও কর্মী পাঠানোর আবেদন করবে বাংলাদেশ।
নিউজ /এমএসএম