শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

পরাজয়ের আশঙ্কায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে—-মাইকেল রুবিন

হাকিকুল ইসলাম খোকন
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৫০ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটি অবাধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে পরাজিত করতে না পারার আশঙ্কা থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার ও জামাতে ইসলামী দলটি যৌথভাবে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পথ বেছে নিয়েছে এমন মন্তব্য করেছেন আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন।

ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ (ISD) আয়োজিত বাংলাদেশ বিষয়ক এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

আইএসডির সভাপতি দস্তগীর জাহাঙ্গীর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও যুক্তরাষ্ট্র বংগবন্ধু পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী।

মাইকেল রুবিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলকে আইনি ও প্রশাসনিক কৌশলের মাধ্যমে মাঠের বাইরে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা আরও গভীর সংকট সৃষ্টি করছে। তিনি আরো বলেন আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মূল কারণ হলো একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক দলটিকে কোনোভাবেই পরাজিত করা যাবে না।

তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দমন করে স্বল্পমেয়াদে সুবিধা নেওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেয়।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর। তাঁর মতে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ড. নুরুন নবী তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রদর্শন এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিভাজনের রাজনীতি সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ড. দিলিপ নাথ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি বিরোধী মত দমনে মামলা, হয়রানি এবং ভয়ভীতির সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষমতা, প্রশাসন এবং রাজপথ, সব ক্ষেত্রেই নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। তাঁদের মতে, বিরোধী মত দমনে মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বক্তারা নির্বাচনব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংলাপটি পরিচালনা করেন আইএসডির পরিচালক সাংবাদিক শাবান মাহমুদ এবং কার্যনির্বাহী পরিচালক শায়লা আহমেদ লোপা। আলোচনায় অন‍্যান‍্যের মধ‍্যে অংশ নেন আমেরিকান নিরাপত্তা বিশ্লেষক জামাল হাসান, মুক্তিযুদ্ধে জনমত সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব গ্রেগ রাশফোর্ড, জিয়া করিম, আব্দুল কাদের মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন আইএসডির ভাইস প্রেসিডেন্ট সিনিয়র সাংবাদিক এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন সবুজ।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102