

স্টাফ রিপোর্টার: আগস্টের নেপথ্য নায়কদের পাশাপাশি ১/১১-এর সময়ে বিশ্বাসঘাতকদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
শনিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মহিলা শ্রমিক লীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।নানক বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে নেপথ্যে থেকে যারা কলকাঠি নেড়েছে তাদের আজ পর্যন্ত মুখোশ উন্মোচন করা হয়নি বলেই ১/১১’র অঘটনের সময়ও শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি।এ সময় ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তুলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রতিরোধ-প্রতিবাদের অভাব ছিল সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন নানক।তিনি বলেন, আমরা যখন ঘুরে বেড়িয়েছি চাতক পাখির মতো।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আহ্বানের প্রত্যাশায়। তখন প্রতিবাদের আহ্বান আসেনি। অনেক কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তাই অনেক কথা বলা যাবে না।নানক বলেন, সেদিন কে যে কাক আর কে কোকিল? কে আমাদের পক্ষে আর কে আমাদের বিপক্ষে? খুনি মোশতাক যখন বঙ্গবভনে সংসদ সদস্যদের ডাকল আমরা এমপিদের বাড়িতে বাড়িতে চিঠি নিয়ে গিয়ে হুমকি দিয়েছি। বঙ্গভবনে মোশতাকের ওই সংসদীয় সভায় উপস্থিত হওয়া যাবে না। তারপরও কিন্তু অনেকেই সেই সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। বিভ্রান্ত করা হলো দেশের মানুষকে। বিভ্রান্ত করা হলো বিশ্ববাসীকে।সেই প্রেক্ষাপটের কথা তুলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার দুই-তৃতীয়াংশ মন্ত্রী সেদিন খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন।

সেদিন সেনাবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান, পুলিশের আইজি বাংলাদেশ বেতারে গিয়ে সেই সরকারের প্রতি আস্থা জানিয়েছিল। এ কথা কিন্তু আমরা ভুলিনি।সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একটু প্রতিবাদ চেয়েছিলাম। বাঙালি একটি প্রতিবাদের ডাক চেয়েছিল। বাঙালি একটি প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিল। সেদিন নেতৃত্বের দুর্বলতা, নয় নেতৃত্বের কাপুরুষতা, নয় নেতৃত্বের ভীরুতা, নয় নেতৃত্বের আত্মসমর্পণের কারণে আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে, ওই খুনি শাহরিয়ার-নূর-ডালিম-রশিদসহ খুনি মোশতাকদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরে প্রতিরোধ গড়তে পারিনি।নানক বলেন, ১৫ আগস্টে দৃশ্যমান যারা খুনি সেই দৃশ্যমান খুনিদেরকে আমরা চিনেছি মাত্র। কিন্তু অদৃশ্যমান যারা পিছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে তাদেরকে আজ পর্যন্ত বের করা হয়নি। তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হয়নি। তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। আর তাদের উন্মোচন করিনি বলে এক/এগারোর অঘটনের ঘটন পটীয়সীদের সময়ও শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, আমরা তাদেরকেও চিহ্নিত করতে পারিনি।১৫ আগস্টের এই নেপথ্যদের যদি খুঁজতে যাই তাহলে একাত্তরকে খুঁজে বের করতে হবে। একাত্তরকে জানতে হবে। একাত্তরে স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধচলাকালে কারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল? কারা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছে? জিয়াউর রহমানের মতো লোকেরা যারা আইএসআইয়ের অনুচর হিসেবে গোয়েন্দা হিসেবে দায়িত্বপালন করেছে। তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।চিহ্নিত করতে পারিনি বলেই সবসময় একটি অজগর সাপ, একটি জাতিসাপকে নিয়ে পথ চলেছি। আর সেই জাতিসাপ-অজগর সাপ সময়ের অপেক্ষায় ছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।নানক বলেন, রণাঙ্গনের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে পাকিস্তানি-চীন-মার্কিন শক্তি পরাজিত হলো এবং এ দেশীয় রাজাকার আল-শামস আল-বদররা পরাজিত হলো, আত্মসমর্পণ করলো আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে, সেই তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি। তাই আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। একাত্তরে কারা পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করতে চেয়েছিল? কেন তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি। কেন তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে চিহ্নিত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারিনি? আর পারিনি বলেই তারাই ১৫ আগস্ট ঘটিয়েছে।১৫ আগস্টের ঘটনায় নেপথ্যের নাটের গুরু তথা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নাটের গুরুদেরও মুখোশ উন্মোচন করতে না পারার প্রসঙ্গ তুলে নানক বলেন, সেই কারণে আমরা শত্রু-মিত্রকে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছি। আর শত্রু-মিত্রকে যদি চিহ্নিত করতে না পারি তাহলে একসঙ্গে শত্রুকে নিয়ে পথচলা যায় না। জাতিসাপকে নিয়ে একসঙ্গে পথচলা যায় না। তাই জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর উপপ্রধান থাকাকালীন তিনি তার দায়িত্বপালন করেননি।সেদিন যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল তারা কিন্তু জয় বাংলা স্লোগানের বদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে পাকিস্তানি কায়দায়, পাকিস্তানি প্রেতাত্মা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সুরাইয়া আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি শামসুন নাহার এমপি বক্তব্য রাখেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রহিমা আক্তার সাথী সভা পরিচালনা করেন।