

হাওরাঞ্চলের কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কৃষি ঋণ মওকুফ, সরকারি সহায়তা দানের স্বচ্ছ তালিকা সহ বিভিন্ন দাবিতে হাওর রক্ষা আন্দোলন মৌলভীবাজার আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে হাওরপাড়ের কৃষক ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
কৃষক, বর্গাচাষি কৃষক, ও মৎস্যজীবীদের কৃষি ঋণ মওকুফ, সরকারি সহায়তা দানে স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ, হাইল হাওর, কাউয়াদিঘি হাওর সুরক্ষা আদেশ জারিসহ মনু সেচ প্রকল্প সময়োপযোগী সংস্কারের দাবীতে হাওর রক্ষা আন্দোলন মৌলভীবাজার এর উদ্যোগে এই বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
হাওর আন্দোলন মৌলভীবাজার এর সদস্য সচিব খছরু চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব আসম সালেহ সোহেল।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু, দৈনিক যুগান্তর মৌলভীবাজার প্রতিনিধি হোসাইন আহমদ, ছাত্র নেতা বিশ্বজিৎ নন্দী, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা মৌলভীবাজার (সদর) প্রতিনিধি ও হাওর আন্দোলন মৌলভীবাজার এর নির্বাহী সদস্য দেওয়ান মোনাকিব চৌধুরী, কৃষক নেতা সামছুদ্দিন মাষ্টার, হাওর আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য ও কৃষক নেতা খায়রুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, নাট্যকার ও হাওর আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য শাহীন ইকবাল, কৃষক প্রতিনিধি মো রাজন মিয়া, সোনা মিয়া প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, কৃষক সমাজ আজ সর্বশান্ত। তারা আজ ঋণে জর্জরিত। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার কথা বলা হলেও অস্বচ্ছ এই তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ কৃষকের নাম নেই। আমরা এর নিন্দা জানাই।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি জীববৈচিত্র্য অর্থনীতিতে হাওর অঞ্চলের অবদান অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে হাওরের বিস্তির্ণ জলরাশি দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৃতিক মৎস্য ভান্ডার। এই হাওর গুলোকে সরকার যেমন অবহেলিত রেখেছে, তেমনি লুটেরা শ্রেণীর প্রাণ আরএফএল, ইসলাম এগ্রোভেটসহ জাতীয় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো দখলে নিয়ে দূষনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর সাথে যোগসাযোশে রয়েছে দুর্নীতি গ্রস্থ আমলাতন্ত্র। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় হাজার হাজার একর পাঁকা ধানের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। যা কৃষকদের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’।
সভাপতির বক্তব্যের শেষে প্রেসক্লাব চত্বর থেকে শুরু হয়ে একটি শোভাযাত্রা কালেক্টটরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।