

স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল সার্ভিসের মতো দেশের বিচারব্যবস্থাও মানুষের জন্য জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
বুধবার (৭ জুলাই) আপিল বিভাগের ভার্চুয়ালি শুনানিতে এমন মন্তব্য করেন তিনি।বিধিনিষেধের কারণে বর্তমানে ভার্চুয়াল কোর্ট অনেকটা সফল উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্টের সাকসেস (সফলতা) অনেক বেশি। এ অবস্থার মধ্যে ফিজিক্যাল কোর্ট হলে আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলতে পারতো না। তার কারণ অনেক সিনিয়র আইনজীবীরা আসতেন না। তারা না আসলে আপিল বিভাগ চলতো না। এ অবস্থার মধ্যেও ভার্চুয়ালি আপিল বিভাগে দ্বিগুণ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।’প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্ট করাতে দেশের মানুষ বিচার পেয়েছে। মেডিক্যাল সার্ভিসের মতো বিচারব্যবস্থাও এসেনশিয়াল (অতিপ্রয়োজনীয়) সার্ভিস।’তিনি বলেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্ট হওয়াতে মানুষ অনেক সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু অসুবিধা হলো নিম্ন আদালতের। নিম্ন আদালতের বিচারককে কোর্টে যেতে হয়। বিচারকের সঙ্গে আদালতের পেশকার, গানম্যান, এমনকি একজন পুলিশ অফিসারকে যেতে হয়। আমাদের আপিল বিভাগের কোর্টের স্টাফরা তো বাসায় বসেই কাজ করছে। কোর্টে কোনো স্টাফ আসেনি। সুতরাং ভার্চুয়াল কোর্ট একটা বড় সফলতা।’সরকারের সদিচ্ছা ছিল বলেই ভার্চুয়াল আইন হয়েছে উল্লেখ করে দেশের প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘ভারতে এখনও ভার্চুয়াল আইন হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের একটা আদেশে ভারতের ভার্চুয়াল কোর্ট চলে। পাকিস্তানেও হয়নি।’এরপর আদালতের শুনানি বৃহস্পতিবার (৮ জুন) পর্যন্ত মূলতবি করেন তিনি। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ছাড়াও আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনসহ আইনজীবীরা যুক্ত ছিলেন।করোনার ছোবলে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে লকডাউন (বিধিনিষেধ) ঘোষণা করা হয়। সে সময় সব আদালতও বন্ধ ঘোষণা হয়। পরে ওই বছরের মে মাসে জরুরি ভিত্তিতে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ তথা ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার জন্য একটি আইন করা হয়। এরপর থেকে ভার্চুয়ালি দেশের উচ্চ আদালতে বেশিভাগ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।চলতি বছরের করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় গত ১ জুলাই থেকে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করে। এরপর সীমিত আকারে ভার্চুয়ালি চলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ। আর অতি জরুরি বিষয়ে শুনানির জন্য বিচারিক আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট চলে।