বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ওয়েলস আওয়ামী লীগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন ইউনুছিয়া মহিলা মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগের যাত্রা শুরু কানেক্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্য অনলাইন প্রেসক্লাবের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে পড়া আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরবে? হাই ভোল্টেজ তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে মেকানিকের মর্মান্তিক মৃত্যু সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনু‌ষ্ঠিত যানজট নিরসনে ফুটপাাত দখলমুক্ত অভিযান অনুষ্ঠিত দৈনিক আজাদ বাণী পত্রিকার ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে প্রস্তাবে

ওয়েলস আওয়ামী লীগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন

শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-কে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ।

এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রবিরোধী ও ইতিহাসবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মকিস মনসুর এবং ওয়েলস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মালিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করা হয়েছে, যা ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশকে পরবর্তীতে কথিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা হয়েছে, যা কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক বহুমত এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক ধারার দিকে ঠেলে দেয় এবং গণতন্ত্রের মূল চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নির্ভর করে জনগণের সমর্থনের ওপর। জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কোনো সংগঠনকে দমন-পীড়ন, নিষেধাজ্ঞা বা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। বরং এসব পদক্ষেপ সমাজে অস্থিরতা, বিভাজন এবং অনাস্থা সৃষ্টি করে।

নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের ইতিহাস তুলে ধরে উল্লেখ করেন, দলটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রায় একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের আমলে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ অধ্যাদেশের আওতায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফার মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন দেয়।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করলেও, সেই দমন-পীড়ন বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক হামলা ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েও দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

ইতিহাসকে নিষিদ্ধ করা যায় না—বাংলাদেশের শেকড়ের বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্তের জবাব দেবে জনগণ বলে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা গণমানুষের সংগঠন। এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে যার স্থান—কোনো কাগুজে আইনে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের নাম, মানচিত্র, স্বাধীনতা, সংবিধান—এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এগুলো এক দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের ফল, যেখানে নেতৃত্ব, ত্যাগ আর সংগ্রাম মিলেই রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে বলে অভিমত ব্যাক্ত করে
বিবৃতিতে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের ধারাবাহিকতায় সব বাধা অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে তারা গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102