

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় সংসদের বর্তমান হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর গাড়িবহরে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ২ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতের পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রথম দফায় শান্তিরহাটস্থ মাদ্রাসা গেটে বেলা ১১টায় হামলার ঘটনায় এক নারী ও হুইপের ভাইসহ ৫ জন আহত হয়। সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় মাহমদ নগর এলাকায় সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় হুইপের গাড়িবহরে গুলি, রাম দা দিয়ে কুপিয়ে ৬টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয় ২ জন। এসময় আহত হন হুইপের ছোট বোনসহ ২০ জন।
গুলিবিদ্ধ দুইজন হলেন- মুহাম্মদ মনির (৪২) এবং ইদ্রিস (৪০)। পরিচয় পাওয়া আহতরা হলেন- হুইপের ভাই ফজলুল হক চৌধুরী মহব্বত (৫৫), রেখা চৌধুরী (৪০), নাজমা আক্তার (৩০), বেলাল চৌধুরী (৫৫), আরিফ (৩২), আবু তৈয়ব (৩২), রিমন (২৭), মিনহাজ উদ্দিন (২৫), মানিক (৪০), ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন সরওয়ার (৩৩)।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১২ আসনে পটিয়ার বর্তমান এমপি সামশুল হক চৌধুরী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর তাদের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পটিয়া। আতঙ্ক বাড়ছে ভোটারদের মাঝে।
সামশুল হক চৌধুরীর প্রধান সমন্বয়ক নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন জানান, বেলা ১১টার দিকে নির্বাচনী প্রচারণার গাড়িবহর নিয়ে শান্তির হাট বাজার অতিক্রম করার সময় প্রথম দফায় হামলার শিকার হয়। নৌকা প্রতীকের স্লোগান দিয়ে ১৫ থেকে ২০ জন হামলা চালায়। তাদের হামলায় হুইপের ভাই ফজলুল হক চৌধুরী মহব্বতের মাথা ফেটে যায় এবং নাজমা আক্তার নামের এক নারীর কাপড় পোশাক ছিঁড়ে ফেলে। এসময় তার মোবাইলও ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। তিনি বলেন, সন্ধ্যায় উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের মোহম্মদ নগর এলাকায় গণসংযোগের সময়ও আরেক দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। এসময় দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়। ৬টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই নৌকার কর্মী-সমর্থকরা বাধা দিচ্ছেন। সশস্ত্র অবস্থায় তারা হামলা করছেন। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। আশা করছি- প্রশাসন এসব বিষয়ে নজর দেবে।
পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম বলেন, ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রচারণার সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। হামলাকারীর সংখ্যার চেয়ে পুলিশের সংখ্যা খুবই নগন্য ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
নিউজ /এমএসএম