সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

চট্রগ্রামে শেখ রাসেল ছোটোদের বইমেলা ও শিশুসাহিত্য উৎসব শুরু

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৪৩ এই পর্যন্ত দেখেছেন

শ‌হিদুল ইসলামঃ বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী শেখ রাসেল ছোটোদের বইমেলা ও শিশুসাহিত্য উৎসব শুক্রবার চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারি ভবনে শুরু হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মেলা উদ্বোধন করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন।

তিনি বলেন, শেখ রাসেল বিশ্ব শিশুর প্রতীক। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট কালো রাতে শেখ রাসেল হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে লঙ্ঘিত হয়েছে বিশ্বমানবতা। ঘাতকরা কেবল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি একে একে হত্যা করেছে পরিবারের সদস্যদের। তাদের নির্মমতা থেকে রক্ষা পায়নি ছোট্ট রাসেলও। চট্টগ্রামে শেখ রাসেল বইমেলা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন। শিশুসাহিত্যকরা ছড়া-কবিতা, গল্প-উপন্যাসে শেখ রাসেলকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন। শেখ রাসেলের আদর্শ আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সাহিত্যিক ড. আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক আমীরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কমু, নগর পরিকল্পনাবিদ লেখক প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া।

স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির পরিচালক রাশেদ রউফ। সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী আয়েশা হক শিমু।

খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম বলেন, শিশুদের বইমুখী করে তোলা অভিভাবকদের দায়িত্ব। তাদের কেবল পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না সাহিত্য জগতেও বিচরণে সুযোগ করে দিতে হবে। বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবী থেকে অনেক কিছু হারিয়ে গেছে, হারিয়ে যাবে। কিন্তু বই কখনোই হারিয়ে যাবে না।মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কমু বলেন, যারা শিশুসাহিত্য চর্চা করেন তারা দেশ কাল এবং শিশুমনন ধারণ করেন। তাদের লেখালেখিতে শিশুরা সঠিক পথের দিক নির্দেশনা পায়।

প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া বলেন, শিশুদের মেধার বিকাশে শিশুসাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এখন শিশুদের সমৃদ্ধ অতীত নেই, সোনালি শৈশব নেই। তারা বড় হচ্ছে রোবটের মতো। তাদের এই সংকট থেকে উত্তরণে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করা জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে ড. আনোয়ারা আলম বলেন, শেখ রাসেল শুভবোধ সম্পন্ন শিশুদের প্রতীক। শেখ রাসেলের আদর্শ, শুভবোধ এবং মানবিক গুণের আলোকে আমাদের শিশুদের গড়ে তুলতে হবে। তিনি পাঠ্যপুস্তকে শেখ রাসেলের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

এরপরে অনুষ্ঠিত হয় ‘পথ খুঁজছে শিশুসাহিত্য’ বিষয়ক সেমিনার। কবি ওমর কায়সারের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক আনজীর লিটন। আলোচক ছিলেন কবি আবু মুসা চৌধুরী, ছড়াশিল্পী রোমেন রায়হান, ছড়াকার সিতাংশু কর, শিশুসাহিত্যিক আজিজ রাহমান, শিশুসাহিত্যিক জাকির হোসেন কামাল।

শিশুসাহিত্যিক বিপুল বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক কাঞ্চনা চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় ছড়া-কবিতা পাঠে অংশ নেন অপু চৌধুরী, অপু বড়ুয়া, অভি ওসমান, অরূপ পালিত, আকাশ আহমেদ, আজিজা রূপা, আ ফ ম. মোদাচ্ছের আলী, আবদুল্লাহ ফারুক রবি, আবিদ শাহরিয়ার খান, আনজানা ডালিয়া, আনোয়ারুল হক নূরী, আমান উদ্দীন আবদুল্লাহ, আরিফ নজরুল, আলম মাহবুব, আলী আকবর বাবুল, আল-হাসনাত মাসুম শিহাব, আরাফাত হোসেন কাউসার, আসিফ ইকবাল, আহসানুল হক, ইকরামুল হক ইলি, ইমরান পরশ, ইসমত আরা নীলিমা, ইসমাইল জসীম, ওবায়দুল সমীর, এমিলি মজুমদার, এয়াকুব সৈয়দ।

বইমেলায় মোট ১২টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ করেছে। এগুলো হলো কথাপ্রকাশ, চন্দ্রাবতী একাডেমি, আদিগন্ত, বাঙালি, শৈলী, শব্দশিল্প, প্রজ্ঞালোক, অক্ষরবৃত্ত, রাদিয়া, শালিক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102