

স্টাফ রিপোর্টার: স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে নিয়ে সংসদীয় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কমিটির বৈঠকে তাকে ডাকা হলেও উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কমিটি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়।রোববার ( ২০ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ ফ ম রুহুল হক, মো. আব্দুল আজিজ, সৈয়দা জাকিয়া নুর, রাহগির আলমাহি এরশাদ (সাদ এরশাদ) এবং মো. আমিরুল আলম মিলন অংশ নেন।জানা যায়, বৈঠকে কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর এখন পর্যন্ত কত টাকার মাস্ক ও কিট কেনা হয়েছে, ভ্যাকসিন সংকট মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, ভ্যাকসিন জি-টু-জি নাকি এজেন্টের মাধ্যমে আনা হচ্ছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আইসিউ ও অক্সিজেনের বর্তমান অবস্থা এবং সম্ভাব্য সংকট থেকে উত্তরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করলেও ডিজি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মো. আমিরুল আলম মিলন টেলিফোনে জাগো নিউজকে বলেন, পৃথিবীজুড়েই করোনা মহামারি চলছে। বৈঠকে এসব বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ছিলেন না। এটা কিভাবে হয়? তাই বৈঠকে ডিজি না আসায় এমপিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন এ ব্যাপারে বক্তব্য দেয়ার পর কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম ডিজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।কমিটির আরেক সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, স্বাস্থ্যের ডিজি বৈঠকে না আসায় আমরা নাখোশ হয়েছি।জানা গেছে, বৈঠকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রীঘোষিত প্রণোদনা’ এখনও না পৌঁছানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। কমিটি সহজতর প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে তাদের পরিবারের নিকট প্রণোদনার অর্থ পৌঁছানোর সুপারিশ করা হয়।কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, অনেকে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে যে, তারা প্রণোদনা পাননি। অনেক ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই মানুষগুলো মারা গেছে। তাদের পরিবার নিঃস্ব। তারা প্রণোদনা ঠিকমতো না পাওয়ায় তাদের পরিবার কষ্টে থাকছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি, দ্রুত এই প্রণোদনা যাতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
সরকারিভাবে টিকা উৎপাদনের চিন্তা
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের গবেষক সানজান কে দাস স্বাস্থ্য সচিবের কাছে সরকারি পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে অবকাঠামো তৈরি করতে একটি প্রস্তাব পাঠান। সানজান দাসের টিকা তৈরির প্রযুক্তির আরএনডি ও প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগসের বিদ্যমান কিছু অবকাঠামো এবং নতুন কিছু যন্ত্রপাতি কিনলে টিকা উৎপাদন সম্ভব বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টির কারিগরি দিক পর্যালোচনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে।কমিটির আগের বৈঠকে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ‘উৎসাহ’ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় জানায়, তিনটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের টিকা তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এগুলো হলো- ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এর মধ্যে ইনসেপ্টার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন রেডি টু ফিল এবং মাস্টার সিড উভয় প্রক্রিয়ার সক্ষমতা রয়েছে। পপুলারের মাস্টার সিড হতে উৎপাদনের সক্ষমতা নেই। হেলফ কেয়ার অনুমোদন পেয়েছে তবে এখনও উৎপাদনে যায়নি।