রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় ভারত

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১
  • ৩৭৩ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলে ঐকমত্য রয়েছে। তাই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে মেলবন্ধনকে জোর দিচ্ছে ভারত।

আজ বুধবার প্রথম আলো কার্যালয়ে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী এ মন্তব্য করেন। আজ বিকেলে ঢাকায় ভারতের ১৭তম হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন। তাঁকে স্বাগত জানান প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রথম আলোর বিভিন্ন বিভাগ ঘুরিয়ে দেখান এবং কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন সম্পাদক। এরপর সম্মেলনকক্ষে পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিক্রম দোরাইস্বামী।

আলোচনার শুরুতেই পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনারের সামনে প্রথম আলোর কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। পরে প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনান। আর অতিথিকে মির্জা গালিবের দুটি শের এবং ভারতীয় সিনেমা পাকিজা থেকে একটি পঙ্‌ক্তি পাঠ করে শোনান প্রথম আলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রধান জাভেদ হুসেন।

মতবিনিময়ের শুরুতে প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, এ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর। মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশক পূর্তিতে শিল্প, সংস্কৃতি, প্রকাশনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের এক সঙ্গে উদ্‌যাপনের সুযোগ আছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রথম আলো এরই মধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘দুই নিকট প্রতিবেশীর সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক লাভের বিষয়টি জড়িত। এর ভিত্তিতে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। আর যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করলে এটা অনস্বীকার্য যে ভারতের স্বার্থেই বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা জরুরি।

আর এক দশকজুড়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলে এই ঐকমত্য হয়েছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা গুরুত্বপূর্ণ।’

খোলামেলা আলোচনার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে বলে মনে করেন ঢাকায় ভারতের শীর্ষ এই কূটনীতিক। তাঁর মত হচ্ছে, বোঝাপড়ার জন্য খোলামেলা আলোচনা জরুরি।

ঢাকায় দায়িত্ব পালনের সময় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। ভারতের সহায়তায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে যাতে বেশিসংখ্যক মানুষের সুফল নিশ্চিত হয়, সে বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মসহ যাঁরা সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন, তাঁদের সবার সঙ্গে মতবিনিময় করতে চান বিক্রম দোরাইস্বামী।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু রাজনীতিবিদ বা ব্যবসায়ী নয়, ভারতের অগ্রাধিকার হচ্ছে বাংলাদেশের যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছানো। এরই অংশ হিসেবে প্রথম আলো পরিদর্শনে আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেই সব জনগণের কাছেও আমরা পৌঁছাতে পারি, যাদের কাছে আমরা সরাসরি পৌঁছাতে পারি না।’

বিক্রম দোরাইস্বামীর স্ত্রী সংগীতা দোরাইস্বামীর পূর্বপুরুষেরা চট্টগ্রামের বাসিন্দা। গত বছরের ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে যান। সেই সফরের কথা উল্লেখ করে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, চট্টগ্রামে পূর্বপুরুষের ভিটেয় গিয়ে তাঁর স্ত্রী বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। ১০০ বছর আগে তাঁর স্ত্রীর প্রপিতামহের সময় যেমনটা ছিল, ঠিক তেমনি রয়েছে বাড়িটা। রান্নাঘর, নিচতলাসহ বাড়ির মূল কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেখান থেকে সংগীতা তাঁর মা আর মামাকে ভিডিও কল করে তাঁদের সেই বাড়িটা দেখিয়েছেন। হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই আবেগ সীমান্তের দুই পারের মানুষের কাছে এখনো জীবন্ত।

মত বিনিময় সভায় প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমীন, উপ–সম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি ও বিশেষ বার্তা সম্পাদক শওকত হোসেন, প্রথম আলো অনলাইনের ইংরেজি বিভাগের প্রধান আয়েশা কবীরসহ পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102