রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

শাহজালাল দরগা শরিফ এবং বর্তমান সমস‍্যা—অধ‍্যপাক ড. এ কে আব্দুল মোমেন

অধ‍্যপাক ড. এ কে আব্দুল মোমেন
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

সিলেট থেকে অনেকে আমাকে অনুরোধ করেছেন যে “আপনি তো শাহজালাল এবং শাহ পরান মাজার দুটোর জন্য যথেষ্ট বরাদ্দ নিয়ে এসেছিলেন, সে সব বরাদ্দ দিয়ে কি কি কাজ হয়েছে, ইত্যাদি“। উল্লেখ্য যে, আমি বরাদ্দের অনুমোদন নিয়ে আসি তবে কাজ সরকারি নিয়মে করা হয় যা তদারকি করার দায়িত্ব আমার ছিল না। সরকারের সব কাজই খুউবই ধীরগতিতে হয় যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

তখন ২০১৫ সাল। আমি নভেম্বরের ২৭ তারিখ দেশে ফিরি। সিলেটে ফিরে দেখি সিলেটের উন্নয়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেধরণের উন্নয়ন তখনো হয়নি দেখে খারাপ লাগে। তখন আমার বড়ভাই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি কি কি করা দরকার তা জানাতে বলেন। আমি তখন অনেকগুলো দাবির প্রতি উনার দৃষ্টি গোচর করি যার মধ্যে ছিল (১) ঢাকা-সিলেট ৪-লেন মহাসড়ক (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ৪-লেন থেকে ৬-লেনে উন্নীত করেন। ধীরগতি সম্পন্ন যানবাহনের জন্য দুই পাশে দুটি রোড অনুমোদন দেন), (২) সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরকে সত‍্যিকারভাবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ, (৩) শাহজালাল ও শাহপরান মাজার এলাকাকে টুরিস্ট বান্ধবকরণ, (৪) সিলেটের ছোট ছোট গিনজীমার্কা রাস্তাগুলোকে প্রশস্তকরণ, (৫) ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সেবার মান উন্নয়ন, ইত্যাদি । তাছাডা নিউ ইয়র্কের খলকু সাহেব ৬টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য অনুরোধ করলে তাও লিপিবদ্ধ করি।

আমি তখনো মন্ত্রী মিনিস্টার হয়নি। আমি তখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। সেই প্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে বেঙ্গাল গ্রোপ। তারা মুলত ছবি বা আর্ট সংগ্রহ করেন, তারা ক্লাসিক‍্যাল বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং নগর উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। তাদের প্রতিষ্ঠানে দেশী বিদেশী অনেক স্বনামধন্য আর্টিটেকচাররা এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদরা কাজ করেন। তারা বুড়িগঙ্গা নদীর উন্নয়নে এবং ঢাকার যানজট নিরশনে অনেক কাজ করেন। রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতা স্তম্ভের ডিজাইন তাদেরই একজন প্রকৌশলী করেন।

বেঙ্গলে আমার প্রথম কাজটি হয় মহাকালি থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত রাস্তা অর্থাৎ সেতু ভবন থেকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তাটা ঝানজট মুক্ত রাখা। সরকার তখন অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে সেতু ভবন থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়কের পাশে জমি বরাদ্দ দিচ্ছিলেন। যেমন রেডিসন হোটেল। আমার এখন ঐসব ঠিক মনে নেই, তবে প্রায় ১২ টি প্রতিষ্ঠান রাস্তার পাশের জমি বরাদ্দ নিচ্ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বললাম যে এয়ারপোর্ট সড়কের পাশের জমি বরাদ্দ বাতিল করেন এবং বরাদ্দ বন্ধ করেন। কারণ ঐসব এলাকায় বড় বড় বিল্ডিং এবং অফিস আদালত তৈরি হলে প্রত‍্যক প্রতিষ্ঠানে অনেক যানবাহন থাকবে এবং তারফলে আগামীতে ঝানজট এতো বাড়বে যে এয়ারপোর্টে হেঁটে হেঁটে যেতে হবে।

ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কারণ তিনি তাৎক্ষণিক সব বরাদ্দ বাতিল করেন এবং নতুন কোনো বরাদ্দ দিতে বারণ করেন। সেতু ভবণ এবং রেডিসন হোটেল তৈরি হয়ে গেছে, সুতরাং সেগুলো ভাঙ্গার প্রয়োজন নেই।
২০১৫,সালে জাতিসংঘে যখন “ঠিকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হয় তখন গুচ্ছ শহর পরিকল্পনা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। আগামীতে জীবনমান উন্নয়নের জন্য কি ধরণের শহর গড়ে তোলা উচিত তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় । পরিবেশ বান্ধব এবং যানজটমুক্ত শহর গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়। আমি আধুনিক শহরের পরিকল্পনা সিলেটে বাস্তবায়ন করতে পারি কিনা তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করি ।

বেঙ্গল আর্কিটেকচার প্রতিষ্ঠানে অনেক ভালো ভালো নামীদামী প্রকৌশলী ও নগর বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ড. খালেদ আশরাফ যার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় আমেরিকায় অবস্থিত পৃথিবীর বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এম-আই-টিতে। উনি ওখানে তখন পিএইচডির ছাত্র ছিলেন। একসময় আমি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতাম। আমি বেঙ্গল গ্রোপকে বল্লাম যে সিলেটে বিছিন্নভাবে অনেক অনেক ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে, রাস্তাঘাট নিমার্ণ হচ্ছে, এবং আমার ভয় হচ্ছে যে আগামীতে শহরকে আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করতে অনেক বেগ পেতে হবে। সুতরাং এটাকে যানজটমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক শহরে রূপান্তর করার জন্য কি কি করা দরকার তা আমাকে জানান।

বিদেশে প্রত‍্যেক বড় বড় শহরে রিং রোড থাকে তাতে সহজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয় এবং নদীর উভয় পাড়ে সুন্দর দৃষ্টি নন্দিন ট্রাফিক লাইট বিহীন রাস্তা থাকে। নদী হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের বড় হাতিয়ার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে আমাদের দেশে নদীর সৌন্দর্য আমরা উপভোগ করতে পারি না। তাদেরে সুরমা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার ব্যবস্থা করা এবং ঝানজটমুক্ত শহর গড়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে আমি অনুরোধ করি।

তারা জানালেন যে, তারা শুধু শহর উন্নয়নের পরিকল্পনা না করে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে উৎসাহী এবং তা তারা বিনা পয়সায় করতে রাজি। ইউরেকা, ইউরেকা— আমি সাথে সাথেই রাজি হলাম।

তারা অনেক গবেষণা করে “আগামীর সিলেট” নামে একটি মহা পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন এবং এর উপর জনগণের মতামত জানার জন্য পর পর দুইবার সিলেটে সাপ্তাহ ব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। আমি তাদের মহাপরিকল্পনা সরকারের বিভিন্ন জনের সাথে শেয়ার করি। তাছাড়া সিলেটের মেয়র সাহেবসহ অনেক অনেক নেতা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথেও শেয়ার করি।

তখন আমি সরকারকে বল্লাম যে, শাহজালাল ও শাহপরান মাদারগুলোর উন্নয়ন করলে দর্শনার্থীদের যেমন ভালো সেবা দেওয়া যাবে এবং একি সময়ে মাজার সংলগ্ন এলাকার উন্নয়ন সম্ভব। প্রতিদিন বিশেষ করে বৃহস্পতি-শুক্র-শনিবারে সিলেটের প্রায় হোটেলের সব সীট বুক থাকে। বহু টুরিস্ট সিলেটে আসেন এবং এদের অধিকাংশই মাজার পরিদর্শন করেন। অনেকে আবার দূর দুরান্ত থেকে যেমন চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-কুমিল্লা-নোয়াখালী-নেত্রকোনা ইত্যাদি শহর থেকে সারা রাত বাস দিয়ে সিলেটে আসেন এবং তখন তারা মাজার শরিফে যান। তাদের প্রয়োজন হয় বাথরুমের। তবে মাজারে বাথরুমের সংখ্যা নিতান্ত কম। আমি প্রস্তাব করলাম যে একটি ৬-তলা বিল্ডিং তৈরি করে ওখানে অনেক অনেক বাথরুম এমনকি গোসলের ব্যবস্থা করা দরকার। মক্কা শরিফে এক সময় বাথরুম কম ছিল, তবে বর্তমানে বাথরুমের অভাবে নাই। গোসলেরও অভাব নাই। দ্বিতীয়ত অনেক সময় মুসল্লিরা নামাজের জায়গা পাননা। সুতরাং পুকুর পাড়ের তিন তলা বিল্ডিং এর নীচ তলা খুলে দিয়ে সেখানেও নামাজের জায়গা করা যেতে পারে।

শাহজালাল মাজারের ঢুকতে গেলে বিশেষ করে ভি-আই-পি গাড়িকে বেক করে টার্ণ নিতে হয়। যাতে সহজেই গাড়ি টার্ন নিতে পারে তার জন্য ব‍্যবস্তা করতে হয়।

এক সময় দরগার পূর্ব পাশের রাস্তাটা খোলা ছিল, রিক্সা যেত। তখন সহজেই মিরের ময়দান যাওয়া যেত । এখন তা বন্ধ করে দিয়ে হোটেল ও দোকান বানানো হয়েছে। হোটেলের নীচ দিয়ে রাস্তা তৈরি সম্ভব। পবিত্র মক্কা শরিফ থেকে বের হওয়ার জন্য প্রায় ১২ টি রাস্তা হোটেল বা বড় বড় বিল্ডিং এর নীচ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং কিছু দোকানপাট ও হোটেলের নীচতলা দিয়ে রাস্তা তৈরি করা সম্ভব । তাদেরে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে ।

শাহজালাল মাজার শরিফে মহিলাদের নামাজের জায়গা খুবই সীমিত— ৮/১০ জনের বেশি এক সাথে নামাজ পড়তে পারে না। তাই সেখানে অধিকতর জায়গা তৈরি করতে হয়। সমস্যা হলো মহিলাদের নামাজের জায়গা দুতলা বা তিন তলা করা যাবে না যেহেতু তা শাহজালাল সাহেবের কবরগা থেকে উঁচু হয়ে যাবে। মাদারের উন্নয়নের জন‍্য অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন এবং এলজিআরডিকে এর উন্নয়নের দায়িত্ব দেন। তবে বছর দুই তিনেক পার হবার পরও এলজিআরডি কাজ ঠিকমতো করছে না দেখে আমি এর দায়িত্ব দেই (তখন আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক সাহেবকে। আরিফুল হক চৌধুরীর ইংজিনিয়াররা এসব কাজ সম্পন্ন করতে আরো অধিক বরাদ্দ প্রয়োজন বলে জানান। তারা প্রায় ৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ চান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা নীতিগত ভাবে অনুমোদন দিতে রাজি হন।

সিলেট সিটি করপোরেশন কাজটা শুরু করেন। প্রথমে মহিলাদের নামাজের জায়গা বৃদ্ধির কাজটি আমি মেয়র আরিফুল হক সাহেবকে লিয়ে উদ্বোধন করি।

শাহপরানের মজার সংলগ্ন এলাকায় উন্নয়নের জন্য আরো বৃহৎ পরিসরে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। অর্থমন্ত্রী প্রথম কিস্তিতে ৬ কোটি টাকা ঢাকা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব‍্যাংক থেকে সংগ্রহ করেন। এই বরাদ্দ দিয়ে সিলেট শহরে কয়েকটি চত্বর নির্মাণ করার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহপরান মাজারের প্রবেশ পথে একটি দৃস্টিনন্দিন সুন্দর গেইট হবে যাতে রাস্তা পারাপার সহজ হয়। অবৈধ ভাবে দখলকৃত সরকারি জমি দখলমুক্ত করে শাহপরান মাজারে যাওয়ার রাস্তা অনেক বড় করা হবে। রাস্তার পাশের ছড়াটা উদ্বার করে তার পাশ দিয়ে ওয়াকউয়ে তৈরি করা হবে। শাহপরান মাজারে যে পুকুর আছে তার চারিদিকে কেনোপিসহ টেবিল লাগানো হবে যাতে দর্শনার্থীরা সেখানে এসে প্রয়োজনে খাওয়া দাওয়া করতে পারেন কিনবা অবসর নিতে পারেন ।

উপজেলা প্রশাসনের যে দপ্তর রয়েছে সেখানে অনেক খালি জায়গা আছে। সেখানে দর্শনার্থীদের জন্য বাস এবং গাড়ি রাখার জন্য পার্কিং নির্মাণ করা হবে এবং তার পাশে সুন্দর দৃষ্টিনন্দিন ক‍্যফেটেরিয়া থাকবে যেখানে দর্শনার্থীরা খাওয়া দাওয়া করতে পারবেন এবং বাথরুম ব্যবহার করতে পারবেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে সিলেট-তামাবিল সড়ক যা শেখ হাসিনার সরকার ৪-লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয় সে সড়কে বাস-গাড়ি ইত্যাদি যাতে চলাচল বিঘ্নিত করতে না পারে তার জন্য রাস্তাযর উপরে পার্কিং না করে তাদের উপজেলা প্রান্তরের খালি জায়গায় পার্কিং ব‍্যবস্তা করা।

প্রথম কিস্তির কাজটি শুরু হয়। তবে কাজের দীর্ঘ সূত্রিতা আমাকে হতাশা করে। তাই উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক সাহেব এবং ইউনিয়ন কাউন্সিল চেয়ারম্যান জনাব আফসার সাহেবকে যৌথভাবে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের প্রচেষ্টায় দখলকৃত কিছু জমি দখলমুক্ত করে কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ করতে দোকানিরা রাজি হন। বেঙ্গলের প্রকৌশলী বেগম তানিয়া অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে কাজের অগ্রগতি দূর্বল এবং আশানুরূপ হয়নি। সুখের বিষয় যে, প্রশাসনের প্রচেষ্টায় ছড়ার পাড়ের কিছু দখলকৃত জমি উদ্বার করা হয়। তবে রাস্তাটা এখনো প্রশস্ত হয়নি। ছড়ার পাশে গাছ লাগিয়ে তাকে দৃস্টিনন্দিন এখনো করা হয়নি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহপরান কমিউনিটি ক্লিনিক যা আমি অনেক অনেক কস্ট করে তৈরি করি তার সাথে শাহপরান মাজারের সম্পৃক্ত করার কথা ছিল । উল্লেখ্য যে, কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি সড়ক বিভাগের ছিল তবে তা অবৈধভাবে দখলকৃত ছিল। সৈয়দ ইফতিখার হোসেন পিয়ার সাহেবের প্রচেষ্টায় এবং তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক সাহেবের সহযোগিতায় শাহপরান কমিউনিটি ক্লিনিকটি তৈরি হয়। এই ক্লিনিক তৈরির পেছনে একটি করুণ ঘটনা রয়েছে ।

বড়ভাই মুহিত সাহেবের নির্বাচন প্রচারণা যখন আমি করছিলাম তখন এক বয়স্ক ভদ্রলোক জানালেন যে, তার ছেলের বৌ এবং সদ‍্যজাত নাতি অত্র এলাকায় হাসপাতালের অভাবে মারা যায়। শাহপরান থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যেতে অনেক সময় লাগে। তিনি প্রেগন্যান্ট বৌমাকে নিয়ে স্কুটারে করে ওসমানী হাসপাতালে নিতে নিতে বৌমা মারা যায় এবং সেই সাথে নব শিশুও। তিনি অত্র এলাকায় একটি হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের অনুরোধ করেন। নির্বাচনের পর আমি বস্টনে ফিরে আসি তবে সেই করণ কাহিনী কখনো ভুলতে পারিনি। তাই মুহিতভাই যখন মন্ত্রী হলেন তখন তাকে ঐ শাহপরান এলাকায় একটি হাসপাতাল বা ক্লিনিক তৈরির সুপারিশ করি। তিনি বল্লেন তুমি জমি জোগাড় কর এবং বাকিটুকু আমার উপর ছেড়ে দিও। যাই হোক শেষ পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিক হয়েছে — এটাই আমার শান্তি ।

লেখকঃ অধ‍্যপাক ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক মন্ত্রী ও জাতিসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধি 

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102