বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

দিই বাংলার পাঠক প্রিয় গুণীজন

জন্মদিনে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কিছু শ্রেষ্ঠ কবিতাগুচ্ছ

কবি বিদ‍্যুৎ ভৌমিক
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

আমি এবং বিপরীতে আমার অতীত

একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ যার শরীরে প্রতিদিনের পড়া ময়লা ধুতি আর কুচকে যাওয়া শ্যাওলা রঙের সার্ট , চোখে শক্তপোক্ত কালো ফ্রেমের চশমা , পায়ে বেশ পুরোনো দু’জোড়া কম পয়সায় কেনা চটি ! ইনি কে , কি বা তার অতীত – বর্তমান – ভাবিষ্যৎ ; কিম্বা পরিচয়ের ইতিবৃত্ত , সেটা জানার ইচ্ছা নিয়ে আমার মাথা নষ্ট করার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই বললেই চলে । তবে লোকটার চলা – ফেরা ভাব ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে , উনি এক গভীর অনিশ্চয়তায় মগ্ন হয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ! ওর চিন্তায় ছেতলা ধরার মতো যত রাজ্যের জট পাকিয়ে গেছে ; সেগুলোকে সঙ্গে নিয়ে মন্থর গতিতে মধ্যাহ্নের সূর্য মাথায় নিয়ে হেঁটে চলেছেন ,……. বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর ক্লান্তিতে হঠাৎ থেমে গিয়ে রাস্তার পাশে একটা গাছের নিচে দাঁড়ালেন । চৈত্রের সূর্য তখন মাথার উপর ভিষণ ভাবে প্রকট হয়েছে ; তার মধ্যে অসম্ভব দাবদাহ চারধার ! হাঁসফাঁস অবস্থা ! পকেট থেকে একটা ছোট্ট শতছিন্ন কাপড় বের করে দু’চোখের চশমাটা মুছে ফেলতে ফেলতে ঘামে ভেজা মুখটাও মুছে নিলেন !

আমিও ইচ্ছাহীন হলাম , মন বদল করে অপরিচিত মানুষটার পাশে এসে নিঃশব্দে দাঁড়ালাম ,…… কি কারণে ওর পিছু পিছু এতটা এসে আমার পা গিয়ে থামলো লোকটার শরীরের একেবারে কাছাকাছি ; সেটা জ্ঞানত আমার উপলব্ধির বাহিরে I

আমি যে ওনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছি সেটা উনি লক্ষ্যই করেন নি , তাম্র বরণ লোকটা একেবারেই কঠিন নির্বিকার ; কিসের দুঃশ্চিন্তায় সারাক্ষণ ডুবে আছেন তা একমাত্র ঈশ্বরী জানেন ! জামার বুক পকেট থেকে একটা চারমিনার বের করে কাপা কাপা হাতে সিগারেট ঠোঁটে নিয়ে দেশলাইয়ের খোলে সর্বশেষ বেঁচে থাকা অবশিষ্ট কাঠিটা ক্রমাগত বারুদের উপর ঘোসতে ঘোসতে কিছুতেই জ্বালাতে পারছিলেন না ওই নির্লিপ্ত চারমিনার ,…… আমি আমার গ্যাস লাইটার দিয়ে ওনার অনুমতি ছাড়াই সিগারেটটা ধরিয়ে দিলাম I লোকটা সামান্য মাথাটাকে ঘুরিয়ে আমার দিকে এক পলক তাকিয়ে ঠোঁটের জ্বলে ওঠা সিগারেটটা আয়েস করে টানতে টানতে ধোঁয়ার কুন্ডলি ছাড়তে লাগলেন !

আজ যেন অন্য রকম একটা দিন ; অন্যান্য দিনের তুলনায় সূর্যের তেজ অনেকটাই বেশি , বাতাসও বইছে না থম মেরা আছে ! আমিও ভাবিনি কখনো এই পথে অপরিচিত লোকটার পিছু পিছু অজান্তেই চলে আসবো ,……. গ্রামের পথ , চারপাশটা ভিষণ নিঃস্তব্ধ নির্জন ! একটা কাক পক্ষীর দেখাও মিলছে না এখানে ! মানুষটা কথা নেই বার্তা নেই এক মনে সিগারেট টেনে চলেছেন এক জায়গায় থিতু হয়ে দাঁড়িয়ে । সময় খারাপ হলে মানুষ এই পথের পথিক হয় ? অনেক্ষণ এভাবেই ওনার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল ; মুখ ফসকে বলেই ফেল্লাম ,….. আপনি কে ? কোথা থেকে আসছেন , যাবেন কোথায় ? লোকটা একমুখ সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে অবশিষ্ট টুকরোটা মাটিতে ফেলে দিয়ে আমার দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন ! ওর চশমার কাঁচে ঘেরা চোখ দুটো যেন বহু যুগের হিসেব গুনছে , কাকে যেন উদভ্রান্তের মত খুঁজে চলেছেন ! অবশেষে লোকটা আমার কাঁধে ওনার ডান হাতটা রাখলেন আর নিষ্ঠুর একটা নিঃশব্দ হাসি মুখে নিয়ে বললেন ; “আমি তোমার ফেলে আসা অতীত ! আমার বর্তমান – ভবিষ্যৎ – অতীত নিয়ে জানার ইচ্ছা তোমার ছিল না তো , তাই তোমার চোখের সামনে পৃষ্ঠা মেনে ধরলাম ; এবার যতইচ্ছা পড়ে নাও !” ওই কথা বলতে বলতে মানুষটা আবার মাথায় সূর্য নিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন ; অনেকটা দূরের রাস্তা দিয়ে চলে যেতে যেতে অনেক দূ-রে দিনের বাতাস পোড়া আলোর ভেতর পথে ধোঁওয়ার আঁকার নিয়ে নিমেষের মধ্যে মিলিয়ে গেলেন ! একটি বারের জন্যেও ফিরেও তাকালেন না ! আমি দূরের পথে যেখান থেকে অদৃশ্য হয়েছেন লোকটা সেই অচেনা জায়গাটার দিকে নিঃস্পলক তাকিয়ে রইলাম ,……. এটাও কি সম্ভব , সত্যি সম্ভব ? মনের ভেতরটা তখন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল ওই সব চিন্তা করতে করতে , আমি কি কোন ভাগ্য বলে সত্যি সত্যি আমার অতীতকে দেখতে পেয়েছি ? এসব চিন্তা করতে যে পথ ধরে হেঁটে এসেছি সেই পিছন ফিরে চলতে শুরু করলাম !!

_________________________________
আমার কি মৃত্যু আছে

এক আবর্তে পথ হারিয়ে ঘুরপাক খেতে খেতে ভুলেই গেছি , আমি নয় নয় করে কয়েকটা মৃত্যুর পর জন্মের পর জন্ম নিয়ে কয়েকবার একই জায়গায় এসে থিতু হয়ে দাঁড়িয়েছি ! প্রতিবারের মৃত্যু গুলো নিদারুণ হলেও স্বাভাবিক ; তবু সে এভাবেই মরণের ডাকে সাড়া দিয়েছে বেশকিছু স্মৃতি সঞ্চয়ের অভিনব অভ্যাস গড়ে তোলার ইচ্ছায় !

ভিষণ অন্ধকার নিয়ে রাত কাটে নির্ঘুমতন্ত্রের ভেতর ; স্বপ্ন – টপ্ন , প্রেম – ট্রেম , রাগ – অভিমানের মতো বস্তু গুলোর একটাকেও আমি বুঝি না , চিনি না ,….. এরা আমার কাছে একশ শতাংশ অপরিচিত ; কেউ আমার নয় ! কঠিন হয়ে পড়েছে জীবন , এখানে নিয়ম করে ঘুমিয়ে থাকাটা বহু প্রাচিন সময়ের প্রচলিত একটা আঁধার । তাই রাত পার হয়ে গেছে এভাবেই নিঃসঙ্গ একা একাই ; আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না সঙ্গী হতে !

ভুলেই গিয়েছিলাম আমি বোলে নিজের কেউ ছিল , আছে , থাকবে ,….. অথচ এই সব ছায়ার মতো দেখতে প্রতিবারের শরীর পালটানো হাটা চলা – কথা বলা – রাগ পিড়িত করা সময় কাটানো রক্ত মাংসের চেহারা গুলোকে স্মৃতির ভেতর ঢুকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছি ,….. এখানে কেউ কেউ আমার আবার মৃত্যু হয়েছে দেখে বুক চাপড়ে কাদবে ! আমি কি মরবো , মরতে পারি , এই মৃত্যু কি আগেও ছিল ; আমার কি মৃত্যু আছে ? অথচ এই দেহ থেকে বেরিয়ে যখনই ঘুরতে ঘুরতে এক জায়গায় এসে যেই দাড়িয়েছি ; বিপরীতে ছায়ার মতোই কয়েকজন পথ আগলে রাখে ,….. এরপর আবার জন্মদোষের জন্য প্রস্তুত হবার পথ বেছে নেবার ক্ষণ রচনায় চরিত্র হলাম ; আবার নাটক শুরু !!

__________________________________________
কথায় কথায় সত্যি কথাটা

যতবার নির্বাসন টির্বাসন নেব ভেবেছি , প্রতিটা জন্মের ঘর – সংসার এবং অন্যান্য এতকালের স্মৃতি ফেরত মুখ গুলো হাসি মুখে রাস্তা আগলে দাঁড়ায় ; ওরা আঙুল উচিয়ে একবারের জন্যেও দরজার বাহিরের পথ দেখায় নি । মুখ ফুটে বলে নি , “তোমার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে” ! এবার শেষ বারের মতো নিজের ইচ্ছাতেই প্রস্তুত হয়েছি খুঁজে নিতে অন্য একটা পথ ; বিবর্ণ হয়ে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের হারিয়ে যাওয়া সময় , যার জন্যে সহজেই সিদ্ধহস্তে ডান হাতের কবজীতে ধারণ করতে পারি ; ওখানে পৌঁছে আমার ইহকালের দোষগুন আঙুল গুনে গুনে হিসেব করবো ! এভাবেইে কঠিন হয়ে চলেছে আজীবনের পার্থিব মায়া ; অথচ সব কিছু ভুলে যেতে হবে যদি একবার সম্মতি দেয় মন ,…… মনের কি দোষ , সে তো অন্য সব দৃষ্টির কাছে অহর্নিশ মাথা নিচু করে থাকে !

ইদানিং প্রত্যেকটা সময়- দিন-ক্ষণ , পুরোনো ক্যালেন্ডারের পাতার পিছনে মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে নিঃশব্দে পা ফেলে ফেলে মুত্র বিষর্জন করার অছিলায় পাশের ঘরে গিয়ে টর্চ লাইট জ্বেলে নিঃশব্দে লিখে রাখি ; যদি জয়ীতা সুখনিদ্রা ভেঙে জেগে উঠে আমাকে কথায় কথায় নানান প্রশ্নবাণে জর্জিরিত করে !

একবার বছর দশেক আগে ডাক এসেছিল ; মরতে মরতে বেঁচে গেছি ,…. ভাগ্যিস জয়ীতা ছিল ! উচ্চ রক্তচাপ ! পাশের ঘরে লিখতে লিখতে ওই ঘটনা ঘটে ছিল ! মূহুর্তের মধ্যে সমস্ত শরীর ঘেমে উঠেছিল ! চোখে অন্ধকার ছাড়া অন্য কিছু উপলব্ধি করতে পারছিলাম না ! এরপর থেকে সেইযে ব্রেকফাস্টের পর প্রেসারের ওষুধ ধরলাম ; আজও সে নিত্যসঙ্গী ! মেপে কথা বলা , চর্বি জাতীয় খাবার ত্যাগ , চট করে মোবাইলে প্রকাশকদের সাথে চিৎকার করে মাথা গরম না করা এবং বেশি রাতে বই পড়া ও লেখালেখী সঙ্গে অতি মাত্রায় চা – ধুম্রপান সবকিছু এবার থেকে সোলো আনাই বন্ধ ; চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ ,….. ওইসব জ্ঞান বাক্য টাক্য আমার থেকে বেশিটাই শুনেছে জয়ীতা , মানতে বাধ্য করিয়েছে এই পত্নীনিষ্ট অধমকে !

শেষ পর্যন্ত ফল পাচ্ছি , প্রতিরাতে নিময় করে দশটার মধ্যে খাওয়া দাওয়া সেরে মশারি তুলে সো-জা বিছানায় ; মোবাইলটা শেষ পর্যন্ত আমার হাত থেকে স্থানানতরিত হয়েছে ! ওটা এখন দশটার পর বইয়ের সেল্ফে রাখাই থাকে ,…… এসব না মানলে মধ্যরাত অব্দি চলতেই থাকবে লম্বা হেস্ত নেস্থ , আশে পাশের বাড়ির লোকজনও শেষ পর্যন্ত টের পেয়ে যাবে আমাদের ছায়ানীড়ে কুরুক্ষেত্র হচ্ছে ! যাই হোক , এটা আমার গতজন্মের কর্মফল ,….. বেল পাকলে কাকের কি ; এটা আমার থেকেও বেশি জয়ীতা ভালো ভাবে জানে ! তাই নির্বাসন টির্বাসন , গোটা ব্যাপারটা এখানেই ইতি টানলাম । শেষ পর্যন্ত হাসি মুখে সবটাই মেনে নিলাম , এটা কি জয়ীতার প্রতি আমার ভালোবাসার মূল্যায়ণ ; তাই ওর জন্য এতকালের মনের জানালাটা খুলে দিলাম , ও যেন এই জানালা দিয়ে একটু খুশি – খুশি অক্সিজেন পায় !!

_________________________________

মনে মনে বেঁচে আছি

কিছু কিছু আলো আছে , অন্য রাস্তা দেখায় । তবে এই আলোরা অন্য ক্ষেত্ৰে অচ্ছুত জাতীয় ; নতুবা ঘৃণ্যতম বেইমান ! এই বিচ্চুরণে চোখ বুজেও স্মৃতি স্পষ্ট দেখায় ,…… অথচ এই অমেয় আলোতে মধ্যরাতে স্বপ্নের শর্তগুলো জটিল হয়ে ওঠে ; যদি ভা-লো-বা-সা হঠাৎ করে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে বসে !

কিছু কিছু সত্য আছে , আলাদা করে হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে ততোটাই কষ্ট হয় ; যতোটা সহজ করে চেনা যায় ওকে ,…. মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় !
এই এক লেগে থাকা স্পর্শ ; যেটা আমৃত্যু লালন হয় গোপনে যতনে ,….. অথচ এই অপ্রমেয় সত্যের পথে দু’এক জন বহুযুগ ধরে বুক ভরা যন্ত্রনা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এখনো !

নতুন কিছু মৃত্যু আছে , শরীর ছেড়ে দিলেও ওরা কিন্তু মনে মনে বেঁচে আছি ভাবে ; তবু কেন জানিনা এরা চিরকাল জন্মের পর মরণ হলে অজ্ঞাতবাস থেকে বেরিয়ে আসার পথ ভুলে যায় ,….. জন্মঘরের দরজা ওদের জন্য বন্ধই হয়ে থাকে !
যদিও একই সঙ্গে এই মৃত্যুর হাত ধরে আমি অচল সময়ে পথহীন পথে কত জন্মের পর আবার দীর্ঘ কয়েকটা বছর কাটিয়ে অবশেষে মৃত্যু এলে একা একা হেঁটে গেছি ; এটা বুঝে উঠতে পারিনি , এ আমার অক্ষমতা !!

________________________________

অগণ্য সরীসৃপের ছোবল

_এই অঘ্রাণেও
বেঁচে থাকবে অগণ্য সরীসৃপ , শীত ও প্রেত চিরহরিৎ বৃক্ষের অতলান্ত নীচে রাত্রির শিশিরের মত প্রতাঘ্ন বিষ গভীরতর দাঁতের কালকূট দংশনে – পীড়নে সর্বাত্মক জ্বালায় ; সমস্ত স্তব্ধতা নির্জন মৌন হাহাকারে অকৃপণ নির্ঘুমে একাকার ! এই অঘ্রাণে জানলা ভাঙে ঔষধি রাতের যৌনভূক চাঁদ ; চোখের তলানি ছেঁচে অবিরাম চুম্বনে সহজ সত্যে অতীব সঙ্গমে পোড়ে ,—–
এই মেয়েলি বয়স গর্ভের অনন্ত অতলান্ত কালহরণে তুষ্ট ! এভাবেই রাত পার হয় প্রতিদিনের মতো !

অন্য এক শীতল প্রহর লাশকাটা ঘরে শেষ রাতে পরম আদরে মৃত নখের বিনম্র আঁচোড় খেয়ে নিদারুণ অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে চলে ; নিঃশব্দে ! এটাও অপ্রমেয় ভাবে উলঙ্গ হয় মনে মনে ; অতিরিক্ত তীব্র হলাহলে আদীম বিলাসিতা ফুলশয্যার রাতে ফুল গুলোকে সকাল হলেই মৃত ঘোষণা করে !

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভেঙে একা একা রাত ডুবে গেছে অনন্তকালের গর্ভে ,……. কঠিনতম শোকে বহুকাল ঘুমিয়ে অতি প্রাচীন পরজন্মের দেহের অসুখ – বিসুখ ; সেইযে ভেতরের বয়স বস্ত্রহীন নগ্ন আবেগ নিঃশব্দে ও ভয়ে চোখে রাখে প্রহরশূন্য শীতল চিবুক !

এখন অঘ্রাণ ; ফুলের পরাগ মেখে মৃত্যুদ্যুত বহুক্ষণ ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার শরীর ছেড়ে বেরিয়ে আসার প্রতিক্ষা করছিল দর্পণের বিপরীতে ; কোথাকার চেনা রাতে মৃত্যু এসে উলঙ্গ হয়ে লুকিয়ে ছিল উষ্ণ চাদরে ……

এভাবে গরল জমে শরীরী স্মৃতিতে ; স্বপ্নহীন অথচ নির্ঘুম আঁধার ডুবে মরে স্বপ্নে ও ধ্যানে !

সে কি নারী ? মূর্তিমতী অভাগী ঈশ্বরী ; সে কী ছায়া অথবা অতীব অলীক কল্পনা ?

যাবতীয় অনিয়মে ভীষণ সর্বনাশী ? নিঃসঙ্গ নীরব ,……
ভয় হয় এই বিষ যদি প্রতিবারে মৃত্যুর আগে আমাকে অহর্নিশ দংশায় !

বুকময় আগুন সাজিয়ে রাখি রাত ভোর ,—– মধ্যরাতে দরজায় বিষময় আঘাত ; ক্রমাগত অনন্ত ছোবল !! প্রাণেতে অহর্নিশ চলতেই থাকে ঈর্ষার আচোড় !

এই ছিল পরজন্মের সাথে একান্নভাগ মিলন ইচ্ছায় ; অযথা কারণে !

কোনো কিছুর মধ্যে নিস্পৃহ একক নিঃসঙ্গ ; দুঃখ নিয়ে গভীরের স্মৃতিগুলো ; জীবন বেঁধেছে কিছুকাল নির্জন শব্দহীন ,
শ্মশান থেকে দূরে সরে – সরে থাকে নিজের প্রতিটা মানুষের বিদ্যুতি আলোকে মাখা শরীর , …… কাছে থেকে দূরে সীমাহীন অনেকটা সময়ের উলঙ্গ যাপন ! এভাবেই কেটে যায় আকাশ দিঘিতে কালবাস ; এভাবেই মৃত্যুর পর অন্য অন্য রাস্তায় জায়গা ছেড়ে দেই আমার আমিকে !

এতকালের চরিত্র গুলো কালবিলম্বে নিঃশব্দে এই ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ায় ;
কথাহীন ওরা তবু ভবিষ্যৎ ভেবে কষ্টে কষ্টে কিছুটা জীবন কাটায় ! এখানে ঈশ্বর ও প্রেত চোখ বুজে শুয়ে থাকে , অন্যপ্রান্তের বিবিধ স্বপ্নগুলো নিছক ভাস্যে আড়ালে কাঁদে !
সব কিছুর পরেও কবিতা গুলি লুকিয়ে রাখি চলে যাবার এক মূহুর্ত আগে ; শেষ পর্যন্ত সেই পরিচিত গন্ধে ঘুম ভাঙে ভুল স্বপ্নে ! সেখানে চরিত্র পোড়ার গন্ধ অমলিন ; স্মৃতি বিজড়িত সময়ে নিবিড় করে সোহাগ ছাড়ায় ৷ আমিও আগের মত আর নেই ; মন ভালো নেই ; স্বপ্ন ও বাস্তবতা আমাকে নরকের ভেতর রাস্তায় ডাকে ! যদিও নির্বাচিত প্রেমগুলো অস্বাস্থ্য রুগ্ন ; তবুও একবার মরতে চাই মৃত্যুর পর ! এভাবেই বহু প্রাচীন সময় ধরে স্বপ্ন পুড়েছে মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ; তবুও পরবর্ত্তী জীবনের সময় পথে একান্নভাগ মিলন ইচ্ছায় ! অযথা কারণে !

কোনো কিছুর মধ্যে নিস্পৃহ একক নিঃসঙ্গ ; দুঃখ নিয়ে গভীরের স্মৃতিগুলো ; জীবন বেঁধেছে কিছুকাল নির্জন শব্দহীন ,
শ্মশান থেকে দূরে সরে – সরে থাকে নিজের প্রতিটা মানুষের বিদ্যুতি আলোকে মাখা শরীর , …… কাছে থেকে দূরে সীমাহীন অনেকটা সময়ের উলঙ্গ যাপন ! এভাবেই কেটে যায় আকাশ দিঘিতে কালবাস ; এভাবেই মৃত্যুর পর অন্য অন্য রাস্তায় জায়গা ছেড়ে দেই আমার আমিকে !

এতকালের চরিত্র গুলো নিঃশব্দে দরজায় এসে দাঁড়ায় ;
কথাহীন তবু ভবিষ্যৎ ভেবে কষ্টে কষ্টে কিছুটা জীবন কাটায় ! এখানে ঈশ্বর চোখ বুজে শুয়ে থাকে , অন্যপ্রান্তের স্বপ্নগুলো নিছক ভাস্যে আড়ালে কাঁদে !
সব কিছুর পরেও কবিতা লুকিয়ে রাখি চলে যাবার এক মূহুর্ত আগে ; শেষ পর্যন্ত সেই পরিচিত গন্ধে ঘুম ভাঙে ভুল স্বপ্নে ! সেখানে চরিত্র পোড়ার গন্ধ ,….. নিবিড় করে সোহাগ ছাড়ায় ৷ আমিও আগের মত আর নেই ; মন ভালো নেই ; স্বপ্ন ও বাস্তবতা আমাকে নরকের ভেতর রাস্তা থেকে ডাকে ! যদিও নির্বাচিত প্রেমগুলো অস্বাস্থ্য রুগ্ন ; তবুও একবার মরতে চাই মৃত্যুর পর !

_________________________________

একটা লাসের জীবন

আকাশ চোখ , বায়ুমন ঘোরে একটা সংবাদে বড় কষ্টে – অসুখে ; স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে থাকতে ঘুম ঢাকে কদাচিত্ অনাবিল নিঝুম যন্ত্রে তন্ত্রে !
চোখের ক্যানভাসে অন্যায় অত্যাচারের অস্থির প্রদর্শন আঁকা হতে থাকে , তবু অন্য পথে অন্যমনস্ক পা বাড়ায় অন্ধ সময় ; কথাঠোট গুলো জীবন বিক্রি নিয়ে গোপনে গোপনে চাপা আলোচনা করে খুন হয়ে যাওয়া মৃত যুবকের লাশের ছায়ার কাছে এবং দূরে অদূরে !

এখানে ওখানে নামহীন বিক্ষিপ্ত শরীর গুলো বিশেষ অতিথির ছদ্মবেশ ধারণ করে , তবু অবলা চাঁদের বুকে খুন হয়ে যাওয়া কমরেডের ইতিহাস শ্রাবণের মেঘ ঢেকে দেয় চটুল কৌশলে ,…. এইতো এসে হাজির হলো কিছু রাত পোকা ; পোশাক হারিয়ে গেছে ওদের পাশের গলিতে ! ওরা চিরকালীন নগ্ন ; ধীর শব্দে কথা বলে ওঠে ঝিঝি ও অন্য পোকা মাকড়ের দলবল ; রাস্তা অবরোধ নিয়ে লাল গুড়ির পথে একে একে পা মেলায় নিঃশব্দে বর্তমানে বোবা হয়ে যাওয়া কাস্তে হাতুড়ির লাল ফেস্টুন !

এভাবেই কেটে গেছে চৌতিরিশটা বছর ! এখন পরবর্ত্তী অন্য সময় ; চোখে চোখ রেখে রাস্তায় রাস্তায় মৌন মিছিল চলে দিনে ও রাতে ! ঘরে ঘরে তিন বেলা বোকাবাক্সে রঙিন দৃশ্যের কোলাজ দেখে মনে মনে প্রতিবাদে মানববন্ধন একটু একটু করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ,….. যদিও এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক এবং অন্যান্য খবর মাঝখানে বিরতি টানে ; বোকা বোকা অস্থির বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্যালাক্সির দর্শকদের কিছুক্ষণের জন্য ভুলিয়ে দেয় খবরের কঠিন সত্যতা !

রাত পোহালেই নরম রোদে ভোট দিতে পথে এসে দাঁড়ায় টিভি চ্যানেলের পর্দায় দেখা খুন হয়ে যাওয়া ওই বাড়ির প্রিয়জন হারানোর চেনা মুখ গুলো ! এর মধ্যেও চ্যানেলে চ্যানেলে টি.আর.পি বারানোর অপচেষ্টায় টেলিকাস্টের প্রতিযোগিতায় সজন হারানো মানুষগুলোর অসহায় মুখ ও শরীর দেখে দেশবাসী ! ওই ভোটের লাইনে বোধ ও বিবেকের দংশন জ্বালায় ভিরের মধ্যে চোখ ভিজে যায় কারও কারও ,…. এই যে সময় ধরে আমিও চলেছি সবার সাথে সাথে কাস্তে হাতুড়ির লাল ঝান্ডার স্বপ্ন বুকে জড়িয়ে নিয়ে ! শেষ পর্যন্ত কবেকার অভিশপ্ত অন্ধকার নিয়ে নিরবে নিভৃতে কাঁদে কমরেডের বিধবা মা ….. বিচার অন্য রাস্তায় এসে মিলিয়ে যায় অবাক বিস্ময়ে !! এটা কী ম্যাজিক রিয়্যালিটি ; তবুও প্রতিবাদ ঘণিভূত হয় মিছিলে মিছিলে , কাগজে কাগজে , স্বপ্নে ও জাগরণে !!

_________________________________

একমাত্র সেই মেয়েটার জন্যে

চুলের সেভাবে যত্ন নিতো না বললেই চলে ; তবু তার এত সুন্দর কুঁচকুচে কোমোর টপকানো ঘন মেঘের মতো কালো চুল ! চাঁপা ফুলের মত মুখে যেন অহর্নিশ হাসির ঝিলিক মেখে আছে ,….. শরীরটায় তের নদীর ঢেউ খেলানো বাহার I মেয়েটা আমার বাড়ির পাশ দিয়ে প্রতিদিন অপরাজিতা রঙা নীল ফিতে দু’ই বেনুনীতে বেঁধে দুলিয়ে দুলিয়ে স্কুলের পথে একা একা হেঁটে যেত ! আর আমি ঠিক ওই সময় ওকে কিছুক্ষণের জন্য দেখার উদ্দেশ্যে জানলায় সামনে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বসে থাকতাম !

অনেক দিন পর এ’পাড়াতে এভাবে মেঘ গর্জনের সাথে প্রবল বেগে হাওয়ার সাথে বৃষ্টি হচ্ছে ! রাত বারটা বেজে সতেরো মিনিট ,…. লোডসেডিং হয়েছে মিনিট পাঁচ সাতেক ; আমাদের পাড়াতে কয়েক বছর পর কারেন্ট চলে গেছে ! চতুর্দিকের ঘন অন্ধকার থেকে অঝোর ধারায় ঝরে পড়ছে বৃষ্টি I বাতাসে ভেসে আসছে সোদা গন্ধ ,…… বেশ স্বপ্ন স্বপ্ন চারপাশটা মনে হচ্ছিল ; রাত যেন বৃষ্টি ও বাতাসের বহুমাত্রিক ধ্বনি ছন্দে মেতে উঠেছে ! বেশ রাত করে লেখার অভ্যাস ; এটা আমার বহু বছরের কবিতাচর্চার একমাত্র সঠিক সময় ! এই আধার ক্ষণ থেকে বেরিয়ে এসে দিনের অন্য যে কোন সময় লিখতে বসলে কিছুতেই সাদা পৃষ্ঠায় এক কলমও এগোও না বর্ণ অক্ষর বৃন্দের শব্দরা ,…… খাটের বিছানায় কোলের ওপর কোল বালিশ নিয়ে বসে বাম হাতের দুই আঙ্গুলের ফাঁকে নিরবে জ্বলছে সিগারেট ; তার ধোওয়া কুন্ডলী পাকিয়ে ঘর ময় ঘুরে বেরাচ্ছে ! এই সময় বৃষ্টির শব্দ গুলো দু’ই বেনুনীর সেই আমার বাড়ির সামনে দিয়ে স্কুলে যাওয়া নাম পরিচয়হীন কিশোরী মেয়েটাকে ভীষণ ভাবে মনে করাচ্ছিল ! দু’ই আঙুলের ফাঁকে একা একাই পুড়ে ছাই হচ্ছিল আমার সিগারেট ,…. মেয়েটার কথা মনে করতে গিয়ে ওটাকে ঠোঁটের স্পর্শ দিতে ভুলেই গিয়েছিলাম !

সেদিনের সেই আকাশ নগ্ন করা বৃষ্টির রেশ কাটতে সময় লেগে ছিল , তবুও লোডসেডিং এর ভেতর সারা রাত ধরে ঝির-ঝির করে ঝরে ছিল ! হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেলাম আমার নাম ধরে ডাকা ডাকিতে ,….. বাড়ির গেটের সামনে ঝির ঝিরে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে ছয়জন ছায়ামূর্তীর আমার নাম ধরে হাক ডাক দিচ্ছে ! পাজামার দড়িটা শক্ত করে বেঁধে হাতের সামনে একটা সব সময় পড়া জামা শরীরে গলিয়ে কোন রকমে রাস্তায় বেরিয়ে এলাম ! বৃষ্টি তখনো জল তরঙ্গের শব্দ তুলে টিপ টিপ করে ঝরেই চলেছে ,…… “রানা খবরটা শুনেছিস ? প্রদীপদার বোনটা আজ বিকেলের দিকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে সুইসাইড করেছে , তোকে আমাদের সাথে একটু বেরোতে হবে !” কোথায় ? “আগে প্রদীপদার বাড়ি , ওখান থেকে সোজা হসপিট্যাল I”

সেদিন ওই বৃষ্টির রাতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত গড়িয়ে সকাল সাড়ে সাতটা বেজে গিয়ে ছিল ! মেয়েটার আশি শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল , শুধুমাত্র মুখটুকু আগুন ছুতে পারেনি ; অমলিন ছিল ! প্রদীপদার আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশি কালিবাবুর শ্মশান ঘাটে জমায়েত হয়ে ছিল ,…… বৃষ্টি আর লোডসেডিং এর রাতে মেয়েটার চেহারাটা এমনকি মুখটা পর্যন্ত ভালো করে দেখতে পাচ্ছিলাম না । প্রদীপদা যখন ওর ছোট বোনের মুখাগ্নি করতে গেল সেই আগুনের লেলিহান শিখায় মেয়েটার মুখটা দেখে অন্তর গভীরে চমকে উঠলাম ! একি , এতো সেই মেয়েটা ; যাকে একপলক দেখার ইচ্ছায় রোজ রোজ সকাল দশটায় ঘরের জানলা খুলে রাস্তার দিকে তাকিয়ে বসে থাকতাম ! এই মর্মান্তিক ঘটনাটা কিভাবে ঘটলো , সেটা নয় রইল ……. সেদিন ওর চিতার আগুনের বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিরবে চোখের জল ফেলেছিলাম , আশে পাশের কেউ বুঝতেই পারিনি আমার মনের অতলান্তে তখন নামহীন ভালোবাসা জ্বলে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিল !!

_________________________________

তিরিশ বছর পর

সহজ সত্যে হাত বাড়িয়ে দিলাম , তবু তুমি অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে দু’ পা উল্টো দিকে ঘুরে হাঁটতে শুরু করলে ,….. আমি তখন তোমার ভালোবাসার একেবারে ডুবে গেছি , এই এক জায়গায় রাস্তার কোলাহলের জটিল শব্দের ভেতর পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম তোমার পথের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ; তুমি যেতে যেতে একটি বারের জন্যেও পিছন ফিরে তাকালে না ! কথা রাখলে না ! শেষ পর্যন্ত চৈত্রের বাতাস বইতে বইতে হঠাৎ করেই নিঃশব্দে চুপ হয়ে গেল চারপাশ ; কি-ভাবে কি-করে ,….. শেষ উত্তরটুকু জানার আগেই মৃত্যুর ওপারে রাস্তা সহজেই ধরলে তুমি আকাশনীলা !

আমার কাছ থেকে রাস্তা পেরিয়ে এক মনে দূ-রে চলে যেতে যেতে কি ভাবছিলে কে জানে ; উল্টো দিক হঠাৎ প্রচন্ড বেগে ব্রেক ফেল করে আসা একটা বিশাল যন্ত্র দানব তোমার লাবণ্য মাখা শরীরটাকে মারলো ধাক্কা ; দূর থেকে যতটা দৌড়ে আসা যায় ছুটে এলাম , চারপাশ গিজ-গিজ মানুষের ভিড়ে ,…… পুলিশ ঘিরে রেখেছে তোমার রক্তাত্ব শরীর ! রাস্তার মধ্যে এদিক সেদিক বিক্ষিপ্ত চাপ চাপ জমাট বাঁধা রক্ত লেগে আছে ! তোমার নিথর হয়ে যাওয়া শরীরটা উপুর হয়ে বাম দিকে মাথা কাত হয়ে চোখ খুলে শুয়ে আছে ; যেন তুমি এত লোকের মাঝখানে থেকেও আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছো আকাশনীলা ! ওই দৃষ্টিতে যেন এক অদৃশ্য আকাশ লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখে মৃদু হাসছিল !

তিরিশটা বছর কি ভাবে যে তোমায় ছারা কেটেছে , সেটা আমি ছারা কেইবা জানে ,…. সে কথা নাই বা বললাম !!

_________________________________

সেই পাঁচ বছরের মেয়েটা

এক বেঞ্চে শরীর ঘেঁসে বসে থাকতো সেই পাঁচ বছরের ছোট্ট ফুটফুটে মেয়েটা ; ওর নাম প্রিয়ংবদা ,…… একই শ্রেণীতে আমরা দুজন এক সাথে তখন পড়তাম । দুজনে টিফিন পিরিয়ডে খাবার ভাগ করে খেতাম । ওর সাথে তাড়ি – ভাব সবই বেমালুম চলতো , মেয়েটা একদিন স্কুলে না এলে ভিতরে গভীরে দুঃখে দুঃখে মন খারাপে চারটে পিরিয়ড কিভাবে যে কেটে যেত ; সেটা একমাত্র আমি ছাড়া কেউই জানেনা !

আমাদের বাড়ির দাদা – দিদি – জেঠু – জেঠিমা সবাইকে ওর কথা গল্প করে ছিলাম ,….. এমন কি আমার জেঠতুতো দিদি রাঙাদি’কেও বলেছি ; বাড়ির বড়রা আমার মুখে সে কথা শুনে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা তামাসা মজা করতো ! প্রিয়ংবদাকে ওই ছোট্ট বয়সে বলেছিলাম ; তুই আমাকে বিয়ে করবি , যেমন বাবা মা একসাথে থাকে ? সেই কথা শুনে মেয়েটা ওর দুহাতে মুখ ঢেকে খিল খিল করে হেসে উঠেছিল ! ও আমার কথায় কি বুঝেছিল কেজানে ! লজ্জায় লাল হয়ে স্কুল ছুটির পর এক হাতে জলের বোতল অন্য হাতে এ্যালুমুনিয়মের বইপত্রের বাক্স নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে তর তর করে নিচে নেমে স্কুল কম্পাউন্ডে এসে হাঁপাতো ! আমি আমার ওইটুকু বয়সে পাগলের মত ওর অপার সৌন্দর্যকে ভরপুর মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখতাম !

বেশ কয়েক দিন ধরে মেয়েটা স্কুলে আসছিল না ; একদিন ছুটির ঠিক আগের পিরিয়ডে কমল বাবু আর নতুন দিদিমণির ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রিয়ংবদাকে নিয়ে কথা হচ্ছিল ,……. আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ওদের দু’জনের ওদের কথা শুনছিলাম ! ওই ছোট বয়সের বুদ্ধি দিয়ে বিচার করার সেই শক্তি আমার কি তখন থাকতে পারে ? আমি তখন পাঁচ পেরিয়ে ছয় বছরে পা দিয়েছি ! বাবার পাশে শুয়ে ছিলাম , ঘুম মোটেই আসছিল না ! দক্ষিণ দিকের জানালাটা খোলাই ছিল ; ওই জানালা দিয়ে বাইরের আকাশে ঝলমলে তারাদের দেখছিলাম আর মনে মনে প্রিয়ংবদার কথা ভেবেই চলেছি । ঘুম যেন সেদিন রাতে আমার দু’চোখ থেকে পালিয়েছে ! সেদিন স্কুলে কমল বাবুর কথাটা শুনে নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারছিলাম না ! ভিতরে ভিতরে তখন একা নিঃসঙ্গ হয়ে গেলাম , সেদিন রাতে আমি না ঘুমিয়ে সেই ছোট্ট প্রিয়ংবদার কথা মনে করে চোখের জলে মাথার বালিশ ভিজিয়েছি ! ভিষণ কষ্ট হচ্ছিল কমল বাবুর কথাগুলো শুনে । ও আর স্কুলে আসবেনা , ওর ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়েছে ! ওর বাবা মা কলকাতায় ডাক্তার দেখিয়ে প্রিয়ংবদাকে নিয়ে দেশের বাড়িতে চলে গেছে !

আজ এখন আমার ছাপান্ন পেরিয়ে সাতান্ন বছরে পৌঁছেও সেদিনের সেই প্রথম প্রেম যায় ছবি আমার মনের মধ্যে এঁটে বসে আছে , সেই ছোট্ট প্রিয়ংবদাকে আমি ভুলে যাই নি ; ভুলে যেতে কিছুতেই পারবো না ! ও কি বেঁচে আছে , কি জানি ; হয়তো আছে !!

_________________________________

এর কি হিসেব আছে

অযোথা কথা ছিঁড়ে বেরিয়ে না এলেই তো পারা যেতো ; বাতাসের কাছে এর কি হিসেব আছে ? অন্য রকম কথা পেড়ে জাগিয়ে তুলতে মন বেহায়া চিরকাল , তবুও লজ্জা চোখে দৃশ্য থাকুক তোমায় সঙ্গে নিয়ে ।

হাত ফেরত অন্য পত্রে শব্দতে ভাঁজ লেগে আছে , ঘুম চোখ বেমালুম ভুলে যায় বাকি অংশের পথ । ঠিকানা কিনতে সময় হয়েছে দায়ি ; তবু স্পর্শ ছোঁয়ায় স্বস্তি হারায় ছাপন্ন বছর !

যেটুকু রেখেছি আকাশ জুড়ে মেঘে ঢাকা তারাদের কাছে , হাত ধরে বলেছি তোমায় । ঘুম থেকে উঠে আসে অন্য কিছু স্মৃতির অতীত ; যাবতীয় ভেদ গুলো নির্জনে হাবুডুবু খায় !

নতুন দিনে কথা হোক মনের দর্পণে , রক্তের টান তবু চিনে গেছে সহজ শরীর ; এভাবেই শুরু থেকে শেষ বারবার , বিপরীতে গড়ে ওঠে মিথ্যার প্রাচীর !

চটুল কিছু চাহুনি দেখে দেখে পেয়েছি অন্যান্য রঙ চঙে বিচার ; এই নিয়ে নিয়মিত মৃত্যু আসে মৃত্যু যায় ,…. অথচ এভাবেই বুকের মধ্যে জ্বলে পুড়ে ছাই হয় আমার ভালোবাসা !!

_________________________________

এই পথে একজনই চলেছে 

মাঝ রাতে কেউ একজন মাঝে মধ্যেই এই পথ ধরে হেঁটে বাড়ি ফেরে । ও যেভাবে চলে যেন বহুকালের হাজার স্বপ্ন সওদা – বিক্রি করে যেন ফিরছে ! হঠাৎ করেই চলে আসা আপদকালীন ঝড় বৃষ্টির ভেতর এতকালের দোষ ত্রুটি , অমনোযোগের ধুলো , কিছু কিছু মান অভিমান , জন্মঋণ এবং চরিত্রের ভেতর বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্ন ভাবে এঁটে বসে থাকা ক্লেদ গুলো ধুতে ধুতে স্তব্ধ নিঃশব্দ নির্জনতাকে ধ্বংশ করবে বলে দুর্বোধ্য কবিতার জটিল স্তবক উচ্চস্বরে ব’লতে ব’লতে সময় মত ঘরে ফিরে আসে !

চোখে না দেখলেও ওর চলার শব্দ গুলো আমার খুবই চেনা হয়ে গেছে ! এই রাস্তায় সন্ধ্যার পর থেকে অতল শান্ত মধ্যরাত সাত তারাতারি করে ঘোনিয়ে আসে ; আজ এখানে ঝড় বৃষ্টির ভেতর নিঃসঙ্গ নিঝুম স্তব্ধ চারপাশ । এরই ভেতর দিয়ে পা ঠুকে ঠুকে চলেছেন তিনি নিজের ঠিকানায় ,….. সেই অদেখা শব্দ তুলে অনেকটা দূ-রে চলে যেতে – যেতে – যেতে অকস্মাৎ নিমেশে মিলিয়ে যায় ওর উচ্চারিত কবিতার স্তবক !

যদিও এই সময় আমি রোজই নির্ঘুম জেগে থাকি কলম সঙ্গী হয়ে বেশ কিছু শব্দ অক্ষর জড়ো করতে । এই পথে কোনদিন আমি একবারও ওর জন্য অপেক্ষায় দাঁড়াইনি ; তবু আজ এই ঘরের ভেতর থেকে মনে হয় রাস্তাটা সময় শূন্য হয়ে ভিজেই চলেছে বৃষ্টির ভেতর !

একবার শুধু স্বপ্ন ছুঁয়েছি হৃদয়তান্ত্রিক অনুভূতিতে ; ভুলোক্রমে হঠাৎ যদি আমিতেই না নাকি , মনের রাস্তায় এতকালের কান্নার শব্দ গুলো বৃষ্টিধারায় বোবা হয়ে যাবে ,….. এই ঘরে আমি ছাড়া আর কেউ থাকেনা ; থাকার কথাও নয় ! বাহিরেও আমি , তবু কেন জানিনা এসময়ে এই মাঝ রাতে আমার শরীর থেকে নিভৃত গোপনে বেরিয়ে এসে রাস্তায় হাঁটি ; অথচ আজ হঠাৎ করেই দারুণ সর্বনাশে বিপর্জয় ঘটে গেল ,…… অনেকটা পথ চলে এলে হিসেব থাকেনা ঘর ঠিকানার ! বহু কঠিন চেষ্টাতে এই ঘরের দরজা খুলতে কিছুতেই পারিনা , সেই থেকে আজও একই ভাবে যুগ যুগ ধরে হেঁটে যেতে যেতে আমার মনের কাছে হেরে যাওয়া , শেষ পর্যন্ত প্রতিটা জন্মে আমির সঙ্গী হতে পারিনি ,… একটা আবর্তের মধ্যে অশরীর ঘুরে মরেছি !!

_________________________________

ইচ্ছা নির্বাসন

হাত শূন্য জন্মদোষে থাকলেও ওখানে আমার নামের আগে বসবে বলে চন্দ্রবিন্দুর চাঁদ অলক্ষে ওত পেতে ছিল !
স্বপ্ন কুড়িয়ে পেতে এভাবেই ইচ্ছা নির্বাসন নিতে হবে ; লুকিয়ে যাবার অভ্যাস থাকবে মৃত্যুকতক ! শেষ কথা বলতে না হয় ভুল শুনছি ; তবুও বাতাস বয়ে যাক মুখ বন্ধ হলে !
যেতে হবে ফুল চন্দন ধূপ ধূনোর গন্ধ নিয়ে , শেষ স্বপ্নটা লালনে – পালনে – যতনে অনেক দিন ধরে দেখে আসছি অপরিবর্তিত ; একে অমৃত দান করুন হে অদেখা ঈশ্বর ,…..

চলেছি শেষ যাত্রায় , এই পথ ধরে কতযে চলেছি ! সব কিছু যেন অকস্মাৎ চোখের ভেতর কালো পর্দা টেনে দিয়েছে বিধি ; অন্য কিছুর জন্যেও আর এক বারও জেগে উঠবো না আমি ,….. শেষ পর্যন্ত চলে যেতে হচ্ছে ভালোবাসাহীন ! রোজ এভাবে শুরু , এভাবেই শেষ হয় মৃত্যু আসার গল্প ; তবুও সঞ্চয় হয় হঠাৎ করে পাওয়া উপেক্ষা ভরা নিদারুণ অপমান , ছোট খাটো কষ্ট ও গ্লানি অফুরান মান – অভিমান । হাত ফেরত স্পর্শ এবং অন্যান্য কবিতার স্তবকের চেনাশোনা শব্দ ; এসব নিয়ে মনে মনে কথা হলেই বুক জ্বলে ওঠে অসহ্য পিড়ায় ! তবুও রোজ এভাবেই চোখ ভিজে ওঠে স্মৃতিময় কান্নায় , এভাবেই শেষ হয়ে গেছে আমার আমিত্ব ভরা সময় ,…… সবাই কাছে থাকতেও এতকালের নিঃসঙ্গ নির্জনতা এক জায়গায় এসে জড়ো হয় , ওখানে নিভৃত গোপনে সব কিছু নিয়ে পুড়ছে পুরানো প্রেম ; আমার ভালোবাসা !!

রোজ এভাবে শুরু , এভাবেই শেষ ; তবুও সঞ্চয় হয় কষ্ট – অভিমান ,….. হাত ফেরত স্পর্শ এবং অন্যান্য স্তবকের চেনাশোনা শব্দ , এসব নিয়ে কথা হলেই বুক জ্বলে ওঠে অসহ্য পিড়ায় ! তবুও রোজ এভাবে শুরু , এভাবেই ধিরে ধিরে শেষ হয়ে যায় আমার স্মৃতিছুট্ সময় !!

_________________________________

চৈত্রের বারো তারিখ

ছাদে উঠলেই সত্যি সত্যি আকাশটা আমার হয়ে যায় ! ঝড় উঠলেই মনে মনে উচ্চারণ করি ; আসে পাশের বাতাস সঞ্চয় করে তোমাকে উপহার দেব নবনীতা , মাঝ রাতে লোডসেডিং হলে তোমার না গরম লাগে !
প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশ করতে করতে সিঁড়ি ভেঙে ছাদে যাই , আর আকাশটাকে ধীরে ধীরে আমার করে ফেলি ,…… আজ চৈত্র সংক্রান্তির দিন ; ভোর থেকে সূর্যের দেখা সাক্ষাৎ নেই । কোথায় যে প্রথম প্রেমে পড়ার মত মুখ লুকিয়েছে ! পুরো আকাশটা থৈ – থৈ করছে ধূসর রঙের মেঘে ,…… দু’চার ফোটা বৃষ্টি আমার মাথায় পড়ে থেমেও গেছে ! থম থম করছে চারপাশটা ! আজ নবনীতার সাথে বিকেলে সন্ধ্যার পর কোন্নগড় স্টেশনের এক নম্বার প্ল্যাটফর্মে ফ্লাইওভারের কাঠের সিঁড়ির উপর দেখা করার দিন ,…… মনটা উড়ু – উড়ু ! বহুদিন পর অনেক সকালে ঘুম ভাঙেছে ; রাতে ওকে নিয়ে সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে সমস্ত রাতটা নির্ঘুমই কেটেছে ! ভোরের দিকে চোখটা লেগে গিয়ে ছিল , হঠাৎ ওপাশ ফিরে শুতেই ঘুমের ঘোরে আমার হাত লেগে খাটের গা ঘেঁষে টেবিলে রাখা জলের বোতলটা মেঝেতে পড়ে গেলো ; ব্যাস বিনে পয়সায় কেনা ঘুমটা চটকে চুয়ান্ন হয়ে গেল ! তড়িঘড়ি করে উঠে পড়লাম ,…….

বিকেলের দিকে এভাবে মুষলধারে বৃষ্টি হবে , সেটা ভাবিনি ! এতটাই তিব্র বৃষ্টির ছটা ; প্ল্যাটফর্মের সামনের দিকের লোকজন , ট্রেনের আসা যাওয়া দেখা অদে খার ভেতর যেন ভূত – ভবিষ্যৎ নিয়ে বিক্ষিপ্ত ঘোরা ফেরা করছে ! সব কিছু ঝাপসা ঝাপসা হয়ে আছে , কিছুই বোঝা যাচ্ছে না ! বৃষ্টির ধারাবাহিকতার ভেতর ক্ষণে ক্ষণে মেঘের গর্জন থেকে থেকে বিদ্যুতের ছটা ; সব কিছু যেন আমার এগিয়ে আসা সন্ধ্যার সময়টাকে বিষিয়ে তুলেছে ! ছাতাটা আয়ত্বের বাইরে , কিছুতেই বাতাসের দাপটে স্থির থাকতে পারছে না । এদিক সেদিক করতে করতে কতবার যে উল্টে পাল্টে যাচ্ছে , সেই করণে আদ্যোপান্ত ইচ্ছাহীন স্বপ্নের সাথে ভিজে ওঠা !

এভাবে বৃষ্টির ভেতর নিঃসঙ্গ একা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ; চশমাটা বেফান্তু আমার চোখে , সেটাও জলের ছিটেতে অপ্রয়োজনিও ! তা সত্ত্বেও আমার চোখেতে নজরহীন হয়ে ভিজেই চলেছে ,……

কতকালের স্থির হয়ে থাকা সময়টা ক্যালেন্ডারে লাল অক্ষর হয়ে অনেক বছর ধরে একই রকম থেকে গেছে ; সেদিন সেই ঝড় বৃষ্টির সন্ধ্যেতে নবনীতা কোন্নগড় স্টেশনে আমার সাথে দেখা করতে আসেনি ; অথচ প্রতি বছর চৈত্রের বারো তারিখ এলেই কথা রাখতে প্ল্যাটফর্মের সিঁড়ির উপর বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকি ,….. এই বুঝি নবনীতা এলো !

কবি পরিচিতিঃ এই সময়কার বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক। জন্ম ১৮ ই এপ্রিল ১৯৬৪ হুগলী জেলার শ্রীরামপুর। পশ্চিম বঙ্গের কবিতা প্রেমীদের  কাছে তিনি শ্রদ্ধা এবং গণ ভালোবাসার কবি। কবিতা রচানার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ইতিমধ্যে তিনি পেয়েছেন। ২০২২ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য সম্মান এবং সংবাদ
এখন পত্রিকা থেকে তাঁকে ২০১৫ “বাংলা শ্রী” সম্মান
দেওয়া হয়। তাঁর লেখা বেশকিছু গ্রন্থ বাজারে এসেছে । তন্মধ্যে ১) নির্বাচিত কবিতা ২) কথা না রাখার কথা ৩)
নীল কলম ও একান্নটা চুমু  ৪) গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়েছিল ৫ ) শুধু প্রিয়ংবদার জন্য। তাঁর কবিতা বর্তমান প্রজন্মের  কাছে আদর্শ বলা যায়। দুই বাংলার এই জনপ্রিয় কবি ব্যক্তিত্বের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি বেতার ও দূরদর্শন এবং বিভিন্ন youtube channel এ নিয়মিত ভাবে প্রচারিত হয়ে থাকে।

গুণী এই বাচিক শিল্পীর জন্মদিনে ইউকে বিডি টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

 

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102