বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফর, কী বার্তা পেল বিশ্ব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪
  • ১১৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ন্যাটোর বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে হুমকি দেয়ার পর রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া গেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার (১৯ জুন) পিয়ংইয়ংয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয় পুতিনকে। উপিস্থিত ছিলেন স্বয়ং উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। এসময় পুতিনকে জড়িয়ে ধরে নিজেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন দুজনই।

কিম ইল সুং স্কোয়ারে একটি স্বাগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়া হয়েছে পুতিনকে। যেখানে একটি সামরিক ব্যান্ড এবং গণ সমন্বিত নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্টকে সফরের আমন্ত্রণ জানায় উত্তর কোরিয়া। চলতি বছরের মধ্যে যা পুতিন-কিম জং উনের দ্বিতীয় বৈঠক।

uuu
বিমানবন্দরে পুতিনের সঙ্গে কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় পুতিন বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনীয় ইস্যুসহ রাশিয়ান নীতির প্রতি আপনার (কিম জং উনের) নিয়মতান্ত্রিক এবং স্থায়ী সমর্থনের প্রশংসা করি।’

পুতিনের এই সফর নিয়ে রাশিয়ান সংবাদ মাধ্যমগুলোতে কিম বলেছেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যাকে গত শতাব্দীর কোরিয়ান-সোভিয়েত সম্পর্কের সময়ের সাথে তুলনা করা যায় না।’

পুতিন কেন হঠাৎ উত্তর কোরিয়া সফর করলেন তা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার ডংগুক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ইমেরিটাস অধ্যাপক কোহ ইউ-হওয়ান এএফপিকে বলেন, ‘ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র সমর্থন প্রয়োজন, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার চাপ কমাতে উত্তর কোরিয়ার খাদ্য, শক্তি এবং উন্নত অস্ত্রের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সমর্থন প্রয়োজন। আর সে কারণেই এই দুই নেতার বৈঠক।’

অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইউক্রেনে যুদ্ধে রাশিয়াকে গোলাবারুদ এবং ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার জন্য উত্তর কোরিয়াকে আগে থেকেই অভিযুক্ত করে আসছিলো। এর মধ্যে ফের এই দুই নেতার বৈঠক এখন সেই পালেই দিচ্ছে হাওয়া । একই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে যে পুতিনের এই সফর আরো সামরিক সরবরাহের দিকে নিয়ে যাবে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনঃব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বুধবার (১৯ জুন) পিয়ংইয়ংয়ে এ দুই নেতার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। দুই নেতাই এসময় তাদের সামরিক বন্ধন আরো দৃঢ় করতে সম্মত হন। এ জন্য একটি চুক্তির কথাও বলেন তারা।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম আদান-প্রদানের অভিযোগ অস্বীকার করে দুই নেতা বলেছেন, সামরিক সরঞ্জাম আদান-প্রদানের খবর গুজব। এসব বাস্তবে না ঘটলেও একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট আছে। কোনো ষড়যন্ত্র এতে ফাটল ধরাতে পারবে না। ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরো উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছাবে। এ সময় পুতিন পরবর্তী বৈঠক মস্কোকে হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা এতে সায় দিয়েছেন বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।

uuu
বিমানবন্দরে পুতিনের সঙ্গে কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

পুতিনের এ সফর ছিল ‘হাই প্রোফাইল’। তার সফরসঙ্গী হয়েছেন- রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভ, আলেক্সান্ডার নোভাক, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুসভ, উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যালেক্সি ক্রিভোরুচকো, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো, পরিবহনমন্ত্রী রোমান স্টারোভোইত, রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের প্রধান ইউরি বরিসভ, রেলওয়েপ্রধান ওলেগ বেলোজেরভ ও রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ কোঝেমিয়াকো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কথায় কথায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে রীতিমতো এক্সপার্ট উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তাই উত্তর কোরিয়াকে জমের মতো ভয় পায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেই গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়ার সম্পর্কের উন্নয়ন। এ সফর অনেকটা পুতিনের পক্ষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং সম্পর্ক পাকাপোক্ত করার আনুষ্ঠানিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। রাশিয়া যখন চোখে অন্ধকার দেখছিল তখনই হঠাৎ করে অস্ত্র দিয়ে মস্কোর সাহায্যে এগিয়ে আসে পিয়ংইয়ং। যদিও তা পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা বলে অস্বীকার করেছে দুই দেশই।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা খুব একটা সফল হয়নি। পশ্চিমা বিরোধী মনোভাব আর ইউক্রেন যুদ্ধ দেশ দুটিকে আরো কাছে এনেছে। পুতিনের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরো বেশি মজবুত করবে এমনটাই বিশ্বাস করছেন বিশ্লেষকরা।

তাই এই সফরে তীক্ষ্ণ চোখ রাখছে পর্যবেক্ষকরা। কিমের দেশ থেকে ভিয়েতনামে যাবেন পুতিন। সেখানেই দুই দিন সফর করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রকে খেপিয়ে তুলতে কমিউনিস্ট শাসিত দেশটি সফর করবেন পুতিন।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102