শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

মোস্তাফিজ ভাইয়ের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করছি : শরিফুল

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১
  • ২১১ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ইউকেবিডি ডেস্ক: আগে ৬ ম্যাচে নামের পাশে ছিল ৮ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ৩৩ রানে ৩ উইকেট (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৩ জুলাই হারারেতে)। ওই ম্যাচগুলোয় তার প্রচন্ড গতি এবং শর্ট অফ লেন্থ থেকে বল ওঠানোর সামর্থ্যের প্রমাণ মিলেছে।কিন্তু পঞ্চগড়ের ২০ বছর বয়সী বাঁ-হাতি ফাস্টবোলার শরিফুল ইসলাম যে শুধুই জোরে বল করতে পারেন তা নয়, তার বলেও যে কারুকজা আছে, তিনিও পারেন স্লোয়ার দিতে, তার কৌানিক ডেলিভারিও যে অনেক বেশি কার্যকর- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে শেরে বাংলার স্লো পিচে সে সব সত্যের দেখাই মিলছে।যেখানে বাড়তি গতি সঞ্চারের চেয়ে শরিফুল অনেক ভেবে চিন্তে, মেপে আর হিসেব কষে বোলিং করেছেন।

কখনো বাঁ-হাতি কৌনিক ডেলিভারি আবার কোন সময় স্লোয়ারে অসিদের নাকাল করে ছেড়েছেন। আবার মাঝে-মধ্যে কাটারও ছুড়েছেন এ তরুণ।মোট কথা স্লো পিচে বাড়তি গতি বাদ দিয়ে ভাল লাইন ও লেন্থের পাশাপাশি স্লোয়ার-কাটারের অনুপম মিশেলে এক নতুন শরিফুলের দেখা মিলছে এবার। এমন বোলিং ক্যারিশমার কারণেই গত চারম্যাচে শরিফুলের নামের পাশে জমা পড়েছে (২/১৯, ২/২৭, ২/২৯ এবং ১/৮) ৭টি উইকেট।হঠাৎ কী এমন হলো যে- শরিফুল জোরে বল করা কমিয়ে এতসব কারুকাজ আয়ত্বে আনলেন? তাকে স্লোয়ার এবং কাটার শেখালেন কে? এটুকু পড়ে নিশ্চয়ই ভাবছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনই বুঝি শরিফুলকে বদলে দিয়েছেন।আসলে শরিফুল বদলেছেন তারই অগ্রজপ্রতিম মোস্তাফিজের হাতের ছোঁয়ায়।

আজ রোববার শরিফুল নিজেই তা জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় নিজের বোলিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শরিফুল জানান, ‘মোস্তাফিজ ভাইয়ের কাছে আমি শেখার চেষ্টা করছি যে, উনি কিভাবে কাটার দেন। আমি এখনও চেষ্টা করছি অনুশীলনে। কিন্তু ম্যাচে এখনও এটা চেষ্টা করিনি। উনার সিস্টেমটা একদমই ভিন্ন ধরনের। আমি শিখছি।’শরিফুল যোগ করেন, মোস্তাফিজ তাকে বলেছেন যে, মিরপুরে ডানহাতিদের জন্য কাটারটা খুবই বিপদজনক। কারণ হালকা থেমে একটু টার্ন করে স্পিনারদের মতো। তো উনি এটাও বলেছেন যে কাটারটা বেশি বেশি ব্যাবহার করত পারি।প্রসঙ্গতঃ এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোস্তাফিজ আর শরিফুল খেলেছেন একই ক্লাবে, প্রাইম ব্যাংকের হয়ে। এতে করে মোস্তাফিজের সান্নিধ্যও পেয়েছেন বেশি। মোস্তাফিজ তাকে সব সময় পজিটিভ থাকার পরামর্শ দেন, একথা জানিয়ে শরিফুল বলেন, ‘আমি শেষ বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি খেলেছি মোস্তাফিজ ভাইয়ের সাথে। এরপর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলেছি এবং এখন জাতীয় দলে খেলছি। ওনার সাথে বোলিং করার মজাই আলাদা। উনি সবসময় ইতিবাচক কথাই বলেন। ব্যাটসম্যানকে খুব জলদি পড়তে (রিড) পারেন।

কোনটা করা উচিত বা ভাল, কোনটা করা উচিত না, এটা বলে দেন। আমি যখন বোলিংয়ে আসি তার আগেই আমাকে বলে দেন কী করা উচিত। এই হিসেবে, এমন কিছু একজন অভিজ্ঞ কেউ যদি বলে দেন, আমি তো এতটা অভিজ্ঞ না আর উনি এখন বড় মাপের ক্রিকেটার, তো তার পরামর্শগুলো নিলে খুব সহজ হয়। আমি নিজেও অনেক সময় তাকে ডাকি পরামর্শের জন্য।’প্রায়ই দেখা যায় যে শরিফুল শুরুতে রান দিয়ে ফেলেন। এ ফাস্ট বোলারের অকপট স্বীকারোক্তি, এটা তার সহজাত বৈশিষ্ট্য। তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলার সময়ও নাকি বোলিংয়ের শুরুতে রান দিয়ে ফেলতেন। শরিফুল বলেন, ‘আমি প্রায় ম্যাচে এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি যে প্রথম দিকে রান দেই। অনূর্ধ্ব-১৯, ‘এ’ দল বা জাতীয় দল যাই বলেন না কেন। যখন শুরুর দিকে রান দেই তখন আমি ভাবি যে আমার হাতে এখনও ১২ বল আছে কামব্যাক করার। আমি একটা ভাল ব্রেক থ্রু দিলে দলের জন্য ভাল হবে। এই ইতিবাচক মনোভাব থাকে যে দুই ওভারে ভাল করে দলকে অনেক উপরে নিয়ে যাব। যুব দলে খেলার সময় থেকেই এই রকম একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে যে শুরুতে খারাপ করলেও শেষদিকে ভাল করবো। ’তার দুই সিনিয়র ভাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর সাকিব আল হাসানের কথাও বলতে ভুল হয়নি পঞ্চগড়ের এ দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলারের। তার ভাষায়, ‘রিয়াদ ভাই-সাকিব ভাই সবসময়ই ইতিবাচক থাকেন। স্কোর যতই হোক না কেন, আমরা নামার আগে খুব ইতিবাচক কথা বলি।

যখন সিনিয়ররা আমাদের জুনিয়র কাউকে যদি কোন ইতিবাচক কথা বলে তখন এমনিতেই আমাদের মধ্যে সাহস আসে। তো একটা ইতিবাচক কথা সবসময়ই খেলার অনেক কিছু বদলে দেয়, এটা অনেক বড় একটা অংশ।’

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102