

অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ‘বীরনিবাস’ আবাসিক প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন বলছে, প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৫ হাজার ৮৭৯টি বীরনিবাস নির্মাণ করা হয়েছে গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে।
‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী উন্মুক্ত টেন্ডারের (ওটিএম) মাধ্যমে কাজ হওয়ার কথা; কিন্তু কাজ করা হয়েছে এলটিএম অর্থাৎ গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে। অনুমোদিত ‘ওটিএম’ ক্রয় পদ্ধতিকে ‘এলটিএম’ পদ্ধতিতে পরিবর্তন করার নির্দেশনা ডিপিপিতে নেই। নিয়ম অনুযায়ী ডিপিপি পরিবর্তন করতে হলে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের নিয়ম রয়েছে; কিন্তু এখানে পরিকল্পনা কমিশন থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, বীরনিবাস নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। শ্রমিকদের দক্ষতার অভাবেও কাজের গুণগতমানে ত্রুটি আছে। কিছু দেয়ালে ফাটল আছে; ত্রুটি পাওয়া গেছে দরজায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মধ্যবর্তী মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি রয়েছে; কিন্তু কোনো মূল্যায়ন হয়নি। নলকূপের গভীরতা কম হওয়ায় সমস্যা আছে সুপেয় পানি সরবরাহেও। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কোনো সভা হয়নি; পাওয়া যায়নি কোনো অডিট আপত্তি।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ডিপিপির বাইরে গিয়ে গোপন টেন্ডারে কাজ হয়ে থাকলে সেটি অবশ্যই নিয়মবহির্ভূত। সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল চার হাজার ১২২ কোটি টাকা। পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিলের। প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার কথা চলতি বছরের অক্টোবরে।
আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, ডিপিপিসহ আনুসঙ্গিক কাগজপত্র পর্যালোচনা, মাঠ পর্যায়ে ভৌতকাজ পরিদর্শন এবং অবকাঠামোসমূহের উপযোগিতা ও ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে নিবিড় পরিবীক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সরেজমিনে সংখ্যাগত জরিপ ও গুণগত জরিপ/মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থবছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, ব্যয় বরাদ্দ, অর্থ ছাড় ও অর্থ ব্যয়, অঙ্গভিত্তিক বাস্তব ও আর্থিক অগ্রগতির তথ্যাদি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন অগ্রগতি, নির্মাণকাজের গুণগতমান, বীরনিবাসের নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন, কাজের পরিমাপ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণসহ নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিরুপণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান কাজ হলো- বীরনিবাস নির্মাণ। ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৬৬০টি বীরনিবাস (লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৯ শতাংশ) নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৭৯টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে (অগ্রগতি ২০ শতাংশ)। হস্তান্তর হয়েছে পাঁচ হাজারের মতো।
১২ হাজার ৩৪০টি (প্রায় ৪১ শতাংশ) বীরনিবাসের দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। এপ্রিল ২০২৩ পর্যন্ত বাস্তব কাজের অগ্রগতি ২১ দশমিক ২৮ শতাংশ। নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন ও অনুমোদন করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।
প্রকল্পটির কার্যক্রম দেশের ৮ বিভাগের ৬৪টি জেলার সব উপজেলা ও মহানগরে একই সঙ্গে চলমান। এমন অবস্থায় বাকি ১২ হাজার ৩৪০টি বীরনিবাস নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বানসহ বাকি সব কার্যক্রম এক বছর সময়ের মধ্যে সম্পাদন করা সম্ভব বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজ /এমএসএম