

মোঃসুমন আহমদ,কমলগঞ্জ: কমলগঞ্জে জমে উঠেছে আসন্ন ঈদুল আজহার কোরবানীর পশুর হাট। স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছিল হাটের বেচাকেনা। শুক্রবার বিকেলে কমলগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট আদমপুর বাজারে সরেজমিন দেখা যায়, হাটে বিপুল পরিমান গরু, মহিষ ও ছাগলের বেচাকেনা হচ্ছে। সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় পশুর হাট। বাজারে আগত লোকজন কেউই স্বাস্হ্য বিধির পরোয়া করছে ন না।
রামপুর গ্রামের ক্রেতা রমুজ মিয়া জানান, লকডাউন শিথিল হওয়ায় আদমপুর গরুর হাটে গরুর বাজার ঊর্ধ্বমুখী। এতে ক্রেতারা খুশি না হলেও খামারি ও বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে। গত সোমবার হাটে যে গরুর দাম ছিল ৬০-৬৫ হাজার সেই গরু শুক্রবার ৭০-৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই পশুকে খাওয়ানো ও রাখার বিষয়টি ঝামেলা মনে করে শেষ দিকে গরু কিনছেন। তাই এখন ক্রেতা বেশি।
আদমপুর বাজারের পশুর হাটে দেখা যায়, দেশি গরুতে বাজার সয়লাব। বিক্রেতারা বড় গরুর দাম হাঁকছেন ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া সর্বনিন্ম ৪০-৫০ হাজার টাকাও মিলছে গরু। কোরবানি দাতারা বড় গরু বেশি কিনছেন।আদমপুর এর খামারিরা বলেন, ‘গরুর বাজার প্রথমদিকে একটু মন্দা গেছে তবে এখন দাম বাড়তির দিকে।’আদমপুর বাজার ইজারাদার জুয়েল চৌধুরী জানান, করোনা মহামারীর কারণে এবার আমরা খুব লোকসানে আছি। গত সপ্তাহে এ পশুর হাটে তেমন বেচাকেনা হয়নি। লকডাউন শিথিল হওয়ায় শুক্রবার মোটামুটি বেচাকেনা হয়েছে। তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তিনটি স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ও প্রায় ৪ শত লোকের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেদায়েত আলী জানান, উপজেলায় কোরবানি ঈদ উপলক্ষে প্রস্তুত গরুর সংখ্যা ৬ হাজার। এ উপজেলায় অর্ধশতাধিক খামারি রয়েছে। এবার চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত গরু রয়েছে। কোরবানির জন্য ক্রেতারা যাতে সুস্থ সবল পশু পেতে পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আগে থেকেই খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হাটগুলোতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য পুলিশ প্রশাসনও কাজ করছে। স্বাস্হ্য বিধি না মানলে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা দুরুহ হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।