

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটের প্রচারে দলীয় নেতাকর্মী মাঠে নামানো। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লার সামনে এমন চ্যালেঞ্জের অন্যতম প্রধান কারণ দুটি। এক. গত বছর মহানগর ও ওয়ার্ডের দুই শতাধিক নেতাকে শোকজ নোটিস দেয়া। তাদের মধ্যে অনেককে দলের সক্রিয় দেখা গেলেও এখনো ক্ষোভ কাটেনি। দুই. গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৭৬ জন কাউন্সিলরের মধ্য ৬১ জন কাউন্সিলর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। তাদেরকে নৌকার পক্ষে কাজ করানো কঠিন হবে। দলীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়গুলো জানা গেছে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, জাহাঙ্গীর আলমকে ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের পর তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত বছরের ১ জুন দুই শতাধিক নেতাকে শোকজ নোটিস দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ। জাহাঙ্গীর ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। তাকে বহিষ্কারের পর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয় মো. আতাউল্লাহ মণ্ডলকে। তিনিই শোকজ নোটিসে স্বাক্ষর করেন। শোকজ নোটিসপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে ১৯ জন মহানগর কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। শতাধিক নেতা নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের কমিটিতে আছেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ওই সময়ের কমিটির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নয়ন, সহসভাপতি ও গাজীপুর আদালতের জিপি আমজাদ হোসেন বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মোকসেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সিটি কাউন্সিলর মো. রফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন মিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল আলম, ক্রীড়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান তরুণ, সদস্য ও সিটি কাউন্সিলর আজিজুর রহমান শিরিষ, সদস্য রজব আলী ও আব্দুর রশিদ, উপদেষ্টা রিয়াজ মাহমুদ আয়নাল প্রমুখ।
২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় জাহাঙ্গীর আলম বহিষ্কার হওয়ার পরও তার সঙ্গে যারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বা সখ্য বজায় রেখেছেন তাদের চিহ্নিত করতে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওসমান আলীকে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ ভিত্তিতে ওইসব নেতাকে শোকজ করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে শোকজের চিঠি দেয়া হয়। জাহাঙ্গীর আলমকে দলে ফিরিয়ে নিলেও সেই শোকজের বিষয়টি নেতাকর্মীর মনে দাগ কেটে আছে।
শোকজ নোটিস পাওয়া কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের কাগজকে বলেন, তাদের শোকজ করা হলেও পরবর্তী পদক্ষেপ কী তা এখনো জানানো হয়নি। তবে দলের কঠিন সময়ে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই যোগাযোগ করবে। কয়েকজন নেতা বলেন, ২৫ মে সিটি নির্বাচন। এ সময় তুচ্ছ অজুহাতে দল থেকে বাদ দেয়া এবং দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়। যা দলের জন্য শুভকর নয়। এ সময় নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে দলের নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান ভোরের কাগজকে বলেন, শোকজ নোটিশ পাওয়া কিছু নেতার শোকজ তুলে নেয়া হয়েছে। আবার কিছু নেতাকে সতর্ক করা হয়েছে। আমরা সব নেতার সঙ্গে কথাবার্তা বলছি। আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, শোকজ পাওয়া নেতাদের মধ্যে প্রায় সবাই আগের কমিটির বিভিন্ন পদে ছিলেন। এখন ওই কমিটিও নেই, আর তারা কোনো পদে নেই। শোকজ পাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা বা কী বার্তা- সেই সম্পর্কে আমরা অবগত নই।
এদিকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে প্রায় ৫ মাস আগে। গত বছরে ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আজমত উল্লাহ খানকে সভাপতি ও আতাউল্লা মণ্ডলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কথা ছিল মহানগর সম্মেলনের আগেই নগরের ৯টি থানা ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু কেবল দুটি থানার পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ৩টি থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা দিয়েই আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হয়। সম্মেলনে বলা হয়েছিল সব থানা ইউনিটের কমিটি দ্রুত ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এখনো হয়নি ৭ থানা ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এ নিয়ে ওইসব ইউনিটের সাধারণ নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। তবে পদ পাবে না এ আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চান না। এসব নেতাকে আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাঠে নামাতে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নিউজ /এমএসএম