ভৈরব শহরজুড়ে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি নিম্নমানের মশার কয়েল ফ্যাক্টরি। আর এইসব নিম্নমানের মশার কয়েল বিক্রিও হচ্ছে অবাধে। কোম্পানির নাম ঠিকানাবিহীন এসব কয়েল স্থানীয়ভাবে তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি নামধারী কোম্পানির মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছে নকল কয়েল। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই বণির্ল মোড়কে হরেক নামের কয়েল বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে। এসব কয়েলের বিষাক্ত ধোঁয়া ঘরের ভেতর বায়ু দূষণসহ মানবদেহের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এমনকি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কারখানা শ্রমিকেরাও আক্রান্ত কয়েলের দূষণে।
এইসব কয়েলের রাসায়নিকের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন এলাকার লোকজন। এ থেকে মুক্তির জন্য এসব কারখানা বন্ধের দাবি জানান এলাকার মানুষজন।
জানা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মশার কয়েলের সবোর্চ্চ শূন্য দশমিক ৩ মাত্রার কেমিক্যাল ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। অধ্যাদেশ অনুসারে মশার কয়েল উৎপাদন, বাজারজাত ও সংরক্ষণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
এছাড়া অনুমোদনের পর পাবলিক হেলথ প্রডাক্ট (পিএইচপি) নম্বর ও বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়েই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বালাইনাশক পন্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার কথা। কিন্তু এ উপজেলায় এ আইন মানা হচ্ছে না। শহরের তাঁতারকান্দি, লক্ষ্মীপুর, কমলপুর, নিউটাউনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক মশার কয়েল তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে এসব কারখানায় ক্ষতিকর মশার কয়েল উৎপাদন করা হয়। এসব কারখানায় নামীদামী ব্যান্ডের মশার কয়েলও তৈরি হয়।

আকর্ষনীয় মোড়কে অসাধু ব্যবসায়ীরা শহরের আবাসিক এলাকায় স্থাপিত অবৈধ কারখানায় তৈরি করছে মানহীন নকল কয়েল। অধিক মুনাফার লোভে এসব কয়েল বাজারে বিক্রিও হচ্ছে দেদারছে। আর এইসব কয়েলের মোড়কে ব্যবহার করা হচ্ছে ভুয়া পিএইচপি নম্বর ও বিএসটিআইয়ের লোগো।
এই সব অবৈধ কারখানাগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কয়েল তৈরির কাজ। এমনি কি রাতেও চলে এইসব কয়েল উৎপাদনের কাজ।
পরে এসব কয়েল একশ্রেণী অসাধু কয়েল ডিলারের মাধ্যমে নামীদামী কোম্পানির কয়েলও কাটনের সঙ্গে নির্বিঘ্নে বাজারজাত করা হয়। এছাড়াও বাহকের মাধ্যমে রিক্সা ভ্যানে গ্রামের হাট-বাজারে সরবরাহ করা হয় নিয়মিত। আর এসব কিনে নিজের অজান্তে প্রতারণা শিকার হচ্ছে ক্রেতা সাধারণ।
আর এইসব ক্ষতিকর নিম্নমানের কয়েল অবাধে বিক্রি হলেও বন্ধের কোনো কার্যকর উদ্যােগ নেই সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর।
দেখা গেছে, বিএসটিআইয়ের অনুমতি তালিকার বাহিরে বাজারে সুপার, তুলসীপাতা, বস, ম্যাজিক,বাংলা কিলার, সেভেন ভোস্টার, সুপার যাদু, রকেটসহ বিভিন্ন নামের ব্যান্ডের কয়েল বিক্রি করা হচ্ছে। এসব কয়েলের গায়ে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম লেখা থাকলেও পূণাঙ্গ কোনো ঠিকানা নেই।
পৌর শহরের দোকানদার লিটন মিয়া বলেন, কোম্পানির লোক এসে কয়েল দিয়ে যায়।তাই এসব বিক্রি করছি। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন আছে কি না তা খেয়াল করিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, নিম্নমানের এইসব কয়েলে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
নকল এই সব কয়েলের ধোঁয়ায় শিশু ও বয়স্কদের হৃদরোগসহ ক্যানসার, শ্বাসনালীতে প্রদাহসহ বিকলাঙ্গ মতো বিভিন্ন প্রাণঘাতী অসুখের মুখে পড়ছেন। খাদ্যে ফরমালিন ও পানিতে আর্সেনিকের প্রভাব যেমন দীর্ঘমেয়াদী, তেমনি এসব কয়েলের বিষাক্ত উপাদান মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগের বাসা তৈরি করছে। এমনকি কয়েল কারখানার কর্মরত শ্রমিকদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।