

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে নারী ফুটবল দল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ১-৩ গোলে হারিয়ে জয়োল্লাসে মেতেছে সাবিনা-মারিয়ারা। এই আনন্দে ভাসছে দেশের ফুটবলাঙ্গন। সেই আনন্দে শামিল হয়েছেন আলোচিত মুখ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক লাইভে এসে অনেক কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন।
লাইভের শুরুতে সুমন বলেন, বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন। প্রথমেই নারী ফুটবল টিম এবং টিমে থাকা সবাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মেয়েরা যে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছে এটাই ছিল বাংলাদেশ। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে একটা সময় ছিল, কায়সার হামিদদের সময়ে, কোনো দেশকে পাত্তাই দিতো না। তখন বাংলাদেশ হেসেখেলে সাতটা-আটটা করে ভুটানকে গোল দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন নিচে নামতে নামতে, বারবার বলি যে এই বাংলাদেশ থেকেই আমার ফুটবল একাডেমির জন্ম। এখন সারা বাংলাদেশেই ফুটবল খেলে বেড়াই। দেখুন ৪৩ বছর বয়সে এতগুলো ট্রফি অর্জন করেছি।
সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, আমি শুধু এইটুকু বলতে চাই, কোনোদিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নেতা হতে যাবো না। কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সালাউদ্দিন সাহেব, এই সালাম মোর্শেদী সাহেব যারা আছেন, তারা থাকলে দেশের উন্নয়ন তত বেশি দেরি হবে। এরা হচ্ছে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ হওয়া নেতৃত্ব। যারা বাংলাদেশের এই ছেলেদের ফুটবলটারে অন্তত ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি তাদের বিরোধিতা করি দেশের ফুটবলের স্বার্থে। আমার এদের সঙ্গে কোনো বিরোধিতা নেই। আমার এদের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই।
সুমন বলেন, সালাউদ্দিন সাহেবের দুর্নীতি বা আমরা বারবার বলি যে, তাদের এই ধরনের বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও নেতৃত্বে থাকা মানে এখানে একটা দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন আমি সরাসরি সালাম মোর্শেদী সাহেবের বিরুদ্ধে বাড়ির দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ এনেছি? দুদকে পর্যন্ত অভিযোগ করেছি, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এত ব্যর্থ এবং দুর্নীতিবাজ মানুষরা যখন ফুটবলের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ দল চালায় তখন তাদের পক্ষে কোনোদিনই রহমত নাজিল হবে না।
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে সুমন বলেন, মেয়েদের যে টিমটা তাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো দেখেছেন, তারা বলেছেন, একক প্রচেষ্টায়, কখনো নিজের টাকায়, কখনো নিজের সম্বল হারিয়ে তারা আজ এ জায়গায় এসেছে। এ জায়গাটা এখনো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়নি। আমার দাবি থাকবে সরকারের কাছে আপনারা দেখুন ফুটবল পুনর্জাগরনের জন্য যা যা করা দরকার, ৪৩ বছর বয়সেও আমি টেনে যাচ্ছি।
‘একটা ম্যাচ খেললে কী পরিমাণ কষ্ট হয় শরীর কেমন ব্যথা করে। তারপরেও মৃতপ্রায় ফুটবলটারে বাঁচাইয়া রাখার জন্য এই বয়সে কষ্ট করে যাচ্ছি। আরও বেশি কষ্ট করে যাবো যতোদিন পর্যন্ত শক্তি থাকবে সামর্থ্য থাকবে, ততদিন চেষ্টা করে যাবো।’
নেতৃত্বে যেতে চান না দাবি করে সুমন বলেন, কোনোদিন আমি ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে যেতে চাই না, কোনোদিনও না। তবে আমার একটাই অনুরোধ, আমাদের যে সক্ষমতা আছে সেটা আমাদের মেয়েরা প্রমাণ করেছে। এতদিন ঘুমিয়ে থাকার পর আজ আমাদের মেয়েরা প্রমাণ করছে যে কতটুকু সক্ষমতা।
তিনি বলেন, শুধু সক্ষমতা না, কতটুকু সক্ষমতা বুঝতে পারছেন! একটা টিম আমাদের এই মেয়েদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। এটাই কিন্তু বাংলাদেশ। সোনার বাংলা এবং বঙ্গবন্ধুর যে সোনার বাংলা এই সোনার বাংলার মানুষ একদিন সারা পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবে এটাই আমাদের হওয়ার কথা। আমি এই কথাটাই বারবার বলার চেষ্টা করছি।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম