রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ঈশ্বরদী উপজেলায় ১১ হাজার ২৫৮ বাগানে ৬শ’ কোটি টাকার লিচু

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ১ জুন, ২০২২
  • ২৫০ এই পর্যন্ত দেখেছেন

মো. আক্তারুজ্জামান মিরু: লিচু ভাণ্ডারখ্যাত হিসেবে দেশজুড়ে ঈশ্বরদীর সুমিষ্ট রসালো লিচুর বেশ কদর রয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলাতে ৩ হাজার ১শ হেক্টর জমির ১১ হাজার ২৫৮ বাগানে ৮ হাজার কৃষক লিচু আবাদ করেছেন। এসব বাগানে এবার মিলবে ১৭১ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার সুস্বাদু রসালো লিচু। বর্তমানে লিচুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে পাকা লিচু।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন লিচু চাষি ও বাগান মালিকরা। কৃষক ও কৃষিবিভাগ আশা করছে, লিচু উৎপাদন চলতি বছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। লিচু চাষি আর স্থানীয় কৃষিবিভাগের অনুমান, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২৫৫ কোটি বেশি অর্থাৎ ৬০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঈশ্বরদী উপজেলার লিচুগ্রাম হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন লিচুর বাগান ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি প্রতি হাজার লিচু আকারভেদে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

লিচুর দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছরে ৯০ শতাংশ লিচুর জমিতে বাম্পার ফলনে ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৮০টি গাছে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার লিচু ধরেছে। যদি পাইকারিতে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার-আড়াই হাজার টাকায় লিচু বিক্রি করা যায়, লিচু চাষি ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের অনুমান প্রায় ৬০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি করা সম্ভব হবে। ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আবাদ হয়েছে সুমিষ্ট লিচু।

জৈষ্ঠ্যের শুরুতে মোজাফফর (দেশি) জাতের লিচু টক তবে পরিপক্ব হলে বেশ মিষ্টি বলে অল্প হয় চাষ। বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচুর আঁটি সাধারণত আকারে ছোট, রসালো, মাংসল এবং বেশ সুগন্ধ বলে এলাকাজুড়ে এই লিচুর আবাদ ও চাষিদের সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। মধু মাস জৈষ্ঠ্যের শুরুতে গাছে গাছে ঝুলছে লাল লিচু। এ মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত গাছে থাকবে লিচু। চলতি বছরে উপজেলায় লিচু গাছের মুকুল আসা থেকে শুরু করে গুঁটি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি গাছে লিচু আসা, ফল পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় খুশি স্থানীয় লিচু চাষি ও বাগান মালিকরা। ঈশ্বরদী উপজেলার সব ইউনিয়নেই লিচুর চাষ হয়।

সলিমপুর, সাঁহাপুর, পাকশী ইউনিয়নজুড়ে মাঠের পর মাঠ শুধুই লিচু। এছাড়া দাশুড়িয়া, লক্ষ্মীকুন্ডা, সাঁড়া ইউনিয়নে কমবেশি দেখা যায়। প্রতি ১ হেক্টর জমিতে ১৫টি লিচু গাছ লাগানো হয়ে থাকে। ৫ বছর পর কৃষকের পরিশ্রম সার্থক হয় অর্থাৎ গাছে মুকুল আসা শুরু করে। চলতি অর্থবছরে ফলন্ত লিচু আবাদী জমির পরিমাণ ২ হাজার ৭৯০ হেক্টর। ঈশ্বরদী-পাকশী আঞ্চলিক সড়কের বাঘইলের সৌখিন চাষি রবিউল ঠিকাদারি ব্যবসা করেন।

বাবার পৈতৃক জমিতে বড় ভাই, কৃষক রেজাউল করিম রেজাকে সঙ্গে নিয়ে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে লিচুর আবাদ করেছেন। বাগানে ৪৭টি গাছের মধ্যে ৪২টি গাছে লিচুর বাম্পার ফলন পেয়েছেন। গায়ে খাটুনি সার-কীটনাশক বাবদ খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। লিচু বিক্রি থেকে আয় হবে খরচ ছাড়াই ৩ লাখ টাকা।

লিচু চাষি রেজাউল করিম জানান, বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করা হচ্ছে। লিচু পাড়ার পর দুই ভাগ করা হয়। লিচুর আকারভেদে যেগুলো বড় সেগুলো ২ হাজার ২শ টাকা হাজার। সেগুলো ঝুড়িতে, কার্টনে দেশের অন্তত ৩০ জেলায় পাঠানো হচ্ছে। আর আকারে ছোট লিচু স্থানীয় ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে ১ হাজার ৮শ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের চর-রূপপুর গ্রামে শিক্ষিত যুবক পলাশ আহম্মেদ। পড়ালেখা শেষ করলেও চাকরি পাননি। শেষে বাবার পৈতৃক জমিতে লিচু চাষ করছেন কয়েক বছর থেকে।

বুধবার সরেজমিনে ঈশ্বরদী উপজেলার লিচুগ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামগুলো অপরূপ সৌন্দর্যে উজ্জ্বল হয়ে আছে। দম ফেলার সময় নেই বাগানের লিচুর চাষিদের। সকালে থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত রোদ্র ছায়ায় বসে বেশ উৎসবের মত লিচু পাড়ার ধুম পড়েছে।

নাটোর-পাবনা-কুষ্টিয়া বিশ্বরোডের কৈলেরকান্দি বটতলা, মানিকনগর, জয়নগর, মিরকামারী, নতুনহাট। কুষ্টিয়া-পাবনা আঞ্চলিক সড়কের নতুন রূপপুর, ছিলিমপুর, আওতাপাড়া, বাঁশেরবাদা, সাঁহাপুর-দাশুড়িয়া গ্রামীন সড়কে জগন্নাথপুর, বক্তারপুর, ভাড়ইমারী, যতদূর চোখ যায় দেখা মিলবে সবুজ পাতার মাঝে থোকা-থোকা লাল রঙের লিচু।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102