

স্টাফ রিপোর্টার: প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও ঢাকা-৫ আসনের আওয়ামী লীগের প্রয়াত এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ফুলেল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার মধ্যদিয়ে স্বরণ করেছে সাবেক ছাত্রনেতা ও এলাকাবাসি। গতকাল শুক্রবার মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল, ১২শত মুসল্লি ও এতিম শিশুদের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
এদিন পরিবারের পক্ষ থেকেও ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মসজিদ-মাদ্রাসা এবং এতিম খানায় রান্না করা খাবার বিতরণ করেন তার জেষ্ঠ্যপুত্র ও ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সজল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার ছোট ভাই ও ৬৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান মোল্লা বাবুল, বৃহত্তর ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কৌশিক আহমেদ জসিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন মোল্লা, বৃহত্তর ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল ইসলাম এনাম, ৪৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মাতুয়াইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল খান, ৬৬নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি রাসেল ভূঁইয়া, বামৌইল ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন, জামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, নজরুল ইসলাম বাবু ও ঢাকা মহানগর দক্ষিন কৃষকলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হাসান মাহমুদ অপুসহ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
এরআগে মাতুয়াইল কাঠেরপুলে এক স্বরণ সভায় উপস্থিত সাবেক ছাত্রনেতারা বলেন, ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকা এক সময় বিএনপি-জামায়াতের (প্রধান ঘাটি) আশ্রয়স্থল ও নিরাপদ ঠিকানা ছিল। সেই ঘাটি ভেঙ্গে দিয়ে ধীরে ধীরে ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকাকে আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিনত করেছেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। একইসাথে নেতাকর্মীদের ভালোবাসার মধ্যদিয়ে গণমানুষের নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ঢাকা-৫ আসনের চায়ের দোকানি থেকে শুরু করে রিকসা-ভ্যান ও মেহনতি মানুষের সাথে নিবির সর্ম্পক গড়ে তুলেছিলেন প্রয়াত সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা। প্রতিটি মানুষের মাঝে সর্বদায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বক্তারা আরো বলেন, এই এলাকার প্রতিটি পরিবারের খবর রাখতেন তিনি। সরকারবিরোধী প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনের কাতারে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতি করতে গিয়ে সামরিক সরকার থেকে শুরু করে বিএনপি-জামায়াত সরকারের রোষানলে পড়েছেন। জেল খেটেছেন। কিন্তু কখনোই বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপস করেননি।

তিনি কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন। রাজনীতিতে কর্মী তৈরি, এলাকার উন্নয়নে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মশিউর রহমান সজল বলেন, বাবা অমৃত্যু এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। সন্তানের চেয়ে এলাকার মানুষ তার কাছে বেশি আপন ছিল। সব কর্মীর জন্য তার দরজা খোলা ছিল। আমার বাবা যেভাবে আপনাদের সেবা করেছেন আমরাও আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকতে চাই। বৃহত্তর ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কৌশিক আহমেদ জসিম বলেন, এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা ছিলেন নিরহঙ্কারী মানুষ।
তিনি তিলে তিলে কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতী মানুষদের দোয়ারে দোয়ারে গিয়ে নৌকার কর্মী সমর্থন তৈরি করেছেন। যখন আওয়ামী লীগের দুর্দিন তখন কেন্দ্রীয় অফিস পাহাড়া দিতেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। এতে তাকে অনেক সময় বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো পিছপা হন নাই।
সফলতা নিয়েই ঘরে ফিরেছেন। শুধু তাই নয়, সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করে গেছেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। প্রসঙ্গত, ৬ মে ২০২০ সালে এমপি থাকা অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি।