

স্টাফ রিপোর্টার: প্রস্তাবিত ১০টি নাম নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। নতুন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রস্তাবিত এই ১০ জনের নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবে কমিটি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সার্চ কমিটির সদস্যদের বঙ্গভবনে ঢুকতে দেখা যায়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সার্চ কমিটির সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন।
সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত এই নাম থেকে একজন সিইসিসহ অনধিক পাঁচজনকে নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেবেন রাষ্ট্রপ্রধান, যারা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজন করবে।
জানা যায় অসুস্থতার কারণে সার্চ কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বঙ্গভবনে যেতে পারেননি। তিনি ছাড়া অন্য সদস্যরা বঙ্গভবনে গেছেন।
সার্চ কমিটির সদস্য বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, লেখক-অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক, মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইনের পাশাপাশি কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্বপালনকারী মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামও উপস্থিত হয়েছেন বঙ্গভবনে।
নাম পাওয়ার পর কবে নাগাদ নতুন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ হতে পারে- জানতে চাইলে প্রেস সচিব আগে বলেছিলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। তিনি যখন মনে করবেন, তখন নিয়োগ দেবেন। রাষ্ট্রপতির আদেশের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন করবে।
এর আগে ২০১৭ সালে তখনকার সার্চ কমিটি যেদিন রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ তুলে দিয়েছিলেন, সেদিনই নিয়োগের আদেশ হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি গঠিত এবারের সার্চ কমিটি মঙ্গলবার তাদের সপ্তম বৈঠকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করে। কাদের কাদের নাম প্রস্তাব করছেন, তা প্রকাশ করেনি সার্চ কমিটি। তারা বলছে, এটা প্রকাশের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। তবে সার্চ কমিটি রাজনৈতিক দলসহ সবার কাছে চাওয়ার পর যে ৩২২টি নাম এসেছিল, তা প্রকাশ করেছে।
আর সার্চ কমিটির প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান যেহেতু বলেছেন, তারা নিজেরা নতুন কোনো নাম যোগ করেননি, সেহেতু প্রস্তাবিত ১০ জনের নাম ৩২২ জনের তালিকার মধ্যে রয়েছে।
সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে কাউকে সুপারিশের ক্ষেত্রে তার তিনটি যোগ্যতা থাকতে হবে। তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে; বয়স ন্যূনতম ৫০ বছর হতে হবে; কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত পদে বা পেশায় পদে অন্তত ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আইনে বলা হয়েছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে সার্চ কমিটি। আইনে বেঁধে দেয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে সিইসি পদের জন্য দুইজন এবং নির্বাচন কমিশনারের শূন্য পদের প্রতিটির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে তারা দুজনের নাম প্রস্তাব করবে।