শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

তেতুলিয়ায় আমের মুকুলের ঘ্রাণে মধুমাসের আগমনী বার্তা

খাদেমুল ইসলাম
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন
Exif_JPEG_420
পঞ্চগড় জেলার  তেতুলিয়া উপজেলায় বাতাসে ভাসছে আমের মুকুলের মৌ-মৌ সুবাস। প্রকৃতিজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বসন্তের আবেশ। শীতের জড়তা কাটিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে তেতুলিয়া উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে ছোট-বড় আমগাছে ফুটতে শুরু করেছে নতুন মুকুল। মুকুলের হলুদাভ আভা আর মন মাতানো ঘ্রাণ যেন মধুমাসের আগমনী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে চারদিকে। মৌমাছির গুনগুন আর কোকিলের কুহুতানে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি।
তেতুলিয়া  উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বাড়ির আঙিনা,পুকুরপাড় কিংবা রাস্তার ধারে প্রায় সর্বত্রই আমগাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। ধীরে ধীরে প্রতিটি ডাল ভরে উঠছে মুকুলে, বাড়ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
স্থানীয়দের মতে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর কিছুটা আগেই আমগাছে মুকুল এসেছে। মাঘের শেষ আর ফাল্গুনের শুরুতেই অধিকাংশ গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। যদিও তেতুলিয়া  উপজেলায়  বাণিজ্যিক ভাবে বড় আকারে আমচাষ হয় না, তবুও স্থানীয়রা বিভিন্ন হাট-বাজার,স্থানীয় নার্সারি  থেকে চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় আমগাছ রোপণ করে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, আমের মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা ও অতিবৃষ্টি, ঝড়ের  কারণে অনেক সময় মুকুল ঝরে পড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়। তবে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনের সম্ভাবনা ভালো বলেই আশা করছেন তারা।
তেতুলিয়া ঊপজেলার ৩নং তেতুলিয়া ইউনিয়নের বুড়িমুটকি গ্রামের স্কুল শিক্ষক লিটন বলেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় বেশি মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তেতুলিয়া ইউনিয়নের রণচণ্ডী  গ্রামের আব্দুল রহমান   জানান, অন্যবারের চেয়ে কিছুটা আগেই মুকুল এসেছে। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের পরিচর্যা শুরু করেছি। রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পেতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ স্প্রে করছি।
তেতুলিয়া  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবরিনা আফরিন বলেন, এবার আগাম মুকুল এসেছে। কোথাও কোথাও গাছে একসঙ্গে মুকুল ও নতুন পাতা দেখা যাচ্ছে। তেতুলিয়া নির্দিষ্ট কোনো বাণিজ্যিক আমবাগান নেই। তবে কেউ বাণিজ্যিকভাবে আমচাষে আগ্রহী হলে উপজেলা কৃষি অফিস প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেবে।
তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মুকুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম। আমের মুকুল সুরক্ষায় উকুননাশক এভোমেট্রিন ও ছত্রাকনাশক মেনকোজেভ স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ উপজেলায় মাটি ও আবহাওয়া আমচাষের জন্য উপযোগী। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আমচাষের সম্ভাবনাও রয়েছে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102