শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন

রাণীশংকৈলে কোন মাদ্রাসায় নেই শহীদ মিনার

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ২৬৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ঠাকুরগাঁও  সংবাদদাতাঃ ৭০ বছর আগের ভাষা আন্দালনের পথ ধরে স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়েছে দেশে। এরপরও ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষাশহিদদের স্মরণে তৈরি করা হয়নি শহীদ মিনার। এ অবস্থা উপজেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজগুলোতে।উপজেলার কোনো মাদ্রাসায় নেই শহীদ মিনার। এতে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে পারেনা শিক্ষার্থীরা।

রাণীশংকৈল উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন বাদে ২৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার আছে মাত্র ৪৫ টিতে। ভাষা দিবসটি দায়সারাভাবে পালন করা হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানে। এতে ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, উপজেলার ১৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে নেকমরদ, গাজীর হাট, বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আটটিতে রয়েছে শহীদ মিনার। অপরদিকে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫ টিতে ও ১২টি কলেজের মধ্যে ৩ টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। অপরদিকে ১৯টি মাদ্রাসার মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক কিন্ডারগার্টেন এর মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাঁশ, কাঠ, ককসিট দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় তারা। শহিদদের স্মরণে প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্থায়ি শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি তাদের।

প্রশাসন বলছে সরকারি বরাদ্দের কথা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরির জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ নেই। এ ছাড়া নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি যে, শহীদ মিনার করতেই হবে, তাই নিজ উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরি করতে হচ্ছে তাদের।

শহীদ মিনার না থাকা প্রসঙ্গে রাণীশংকৈল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক বলেন, ‘মূলত একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিগুলো রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের সঙ্গে প্রশাসন যৌথভাবে করে দেয়। এ জন্য আমাদের কলেজে তেমন কোনো কর্মসূচি পালন হয় না।’

রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি আমাদের উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। তাহলে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে সৃষ্টি হবে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিম উদ্দীন জানান, সরকারিভাবে নির্দেশনা রয়েছে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করার। এই উপজেলায় এখনো যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন হয়নি সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খুব দ্রুত শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের তাগাদা দেওয়া হবে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী শাহরিয়ার জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102