

স্টাফ রিপোর্টার, ফরিদপুর: ফরিদপুরে আল-মদিনা নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে রুপা আক্তার (২০) নামের এক গর্ভবতী মাকে প্রশিক্ষণবিহীন নার্স নামধারী আয়া সিজার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নবজাতকের মাথাসহ শরীরের কয়েক জায়গায় কেটে ফেলেন সেই নার্স। প্রসূতি মায়ের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ এলাকায়।
শনিবার সকালের দিকে জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হাসপাতালটিতে গর্ভবতী মায়ের সিজার করার সময় নবজাতকের মাথার কয়েক জায়গায় কেটে ফেলেন চায়না বেগম নামের এক নার্স। পরে সদ্য ভূমিষ্ট নবজাতকের মাথায় ৯টি সেলাই দেয়া হয়। তবে নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়। পরে নবজাতকসহ মাকে উদ্ধার করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক পলাশ মোল্যা (৪৫) ও প্রসূতি মাকে সিজার করা চায়না বেগম (৩৫) নামের ওই নার্সকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও এর আগে ৫০ থেকে ১শ’ জন গর্ভবতী নারীর সিজার ও ডেলিভারি করান ওই নার্স। তবে হাসপাতালটির নার্স চায়না বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে প্রশিক্ষণ নেয়ার কথা বললেও স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে কোনো প্রশিক্ষণ সনদ দেখাতে পারেননি। একজন নার্স কোনো প্রসূতি মাকে সিজার করতে পারেন কি-না এ নিয়ে ফরিদপুরে আলোচনার ঝড় বইছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্বাভাবিক ডেলিভারি হতে পারতো। তবে ওটি চার্জ পাওয়ার লোভে গর্ভবতী মাকে সিজার করার জন্য তড়িঘড়ি করেন ওই নার্স। ওটি চার্জ হাতছাড়া হওয়ার লোভে তিনি দ্রুত ওটিটে ঢোকায় সিজার করার জন্য। কিন্তু তারা জানতেন ডাক্তার সিজার করবে। তারা নার্স ও হাসপাতাল মালিকের বিচার চান।
পরে খবর পেয়ে প্রাইভেট হাসপাতালটিতে পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুল আলম, জেলা স্বাচিবের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আব্দুল জলিল।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ হাসপাতালে এরকম অনিয়ম হয় তা জানা ছিলো না। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালটির মালিক পলাশ ও নার্স চায়নাকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।