

যুক্তরাষ্ট্র অফিস: বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসাবে পিটার ডি হাস চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। বর্তমান রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। এ বছর জুলাইয়ে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসাবে পিটারের নাম আসে। এরপর মার্কিন সিনেট তার মনোনয়নে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। শনিবার মার্কিন কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পিটার ডি হাসের দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারক হিসাবে তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পিটার ভারতের মুম্বাইয়ে মার্কিন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্যারিসে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের উপমিশন প্রধান হিসাবে তার কাজ করারও অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাকার্তায় মার্কিন দূতাবাসের অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা এবং লন্ডন ও রাবাতে মার্কিন দূতাবাসে ইকনোমিক কাউন্সেলর হিসাবে তিনি কাজ করেছেন। এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপীয় অ্যাসিস্ট্যান্স অফিস, হাইতি ও জার্মানির বার্লিনে মার্কিন দূতাবাসের ইকনোমিক অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী- পিটার ডি হাস ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। ১৯৮৮ সালে তিনি ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ও জার্মানে স্নাতক সম্পন্ন করেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে তিনি একজন মার্শাল স্কলার হিসাবে যোগদান করেন। যেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি এবং তুলনামূলক সরকার উভয় ক্ষেত্রেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের একাধিক পারফরম্যান্স পুরস্কারও তিনি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- জেমস ক্লিমেন্ট ডান অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ও কর্ডেল হুল অ্যাওয়ার্ড ফর ইকোনমিক অ্যাচিভমেন্ট। ইংরেজি ছাড়াও জার্মান ও ফরাসি ভাষায় তিনি সাবলীল। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। ২০১৮ সালের নভেম্বরে মিলার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন। তিনি রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।
এদিকে, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ফ্রান্স, মোনাকো ও চিলিতেও নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মনোনীত করেছে বাইডেন প্রশাসন। এরিক এম গারসেতিকে ভারতের, ডেনিস ক্যাম্পবেলকে ফ্রান্সের এবং বেরনাডেটে এম মিহানকে চিলির রাষ্ট্রদূত হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী- যেকোনো একজন সিনেটর চাইলে কোনো রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ আটকে দিতে পারেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে চলমান বৈরিতার কারণে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল এতদিন। তবে বড়দিনের ছুটির আগে বিষয়টি সমাধান না হলে চাক শুমার সিনেট অধিবেশন দীর্ঘায়িত হওয়ার হুমকি দিলে ভোটগ্রহণে সম্মত হন সিনেটররা।