বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হৃদয়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত প্রবাসীদের অর্থায়নে খাদ‍্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদের দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হযরত শাহ জালাল (র.) মাজারে রাজনৈতিক শ্লোগানের নিন্দা ও প্রতিবাদ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ট্রলি সেবায় টাকা আদায়ে নিষেধাজ্ঞায় স্বেচ্ছাসেবকদের ক্ষোভে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল সাউথ ওয়েষ্ট রিজিওনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সোয়ানসি মৌলভীবাজার এসোসিয়েশনের ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত যশোরে হোটেল থেকে ব্যবসায়ীর মৃতদেহ উদ্ধার

নিরাপদ অভিবাসন এখন বড় চ্যালেঞ্জ, বেদনা নিয়ে দেশে ফিরছেন অনেকেই

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩৫০ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ইউকেবিডি ডেস্ক: স্বাধীনতা অর্জনের পাঁচ বছর পর থেকেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশে কর্মী পাঠাতে শুরু করে। এই ৪৫ বছরেও অভিবাসন প্রক্রিয়া নিরাপদ হয়নি। নানা আইন-কানুন হলেও বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছেন মানুষ।

আশাভঙ্গের বেদনা নিয়ে দেশে ফিরে আসছেন অনেকে। অনিরাপদ উপায়ে অভিবাসনে এমনকি প্রাণ হারাচ্ছেন কেউ কেউ। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন বিদেশে যাওয়া নারী শ্রমিকরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপদ অভিবাসনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ৷

রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন কোটি প্রবাসী

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে এক কোটি ৩৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন। এর মধ্যে কতজন দেশে ফিরেছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে বিভিন্নভাবে এখন কর্মরত রয়েছেন এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি।

সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে সৌদি আরবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে ৪৫ লাখ ৮১ হাজার ৩৩০ জন গেছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৩ জন, ওমানে ১৫ লাখ ৬২ হাজার, মালয়েশিয়ায় ১০ লাখ ৫৭ হাজার, সিঙ্গাপুরে ৮ লাখ ১৪ হাজার, কুয়েতে ৬ লাখ ৩১ হাজার মানুষ গেছেন। এটি গত নভেম্বর পর্যন্ত হিসাব।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, জনশক্তি রপ্তানির এখনও সবচেয়ে বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্য। বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ইউরোপের দেশগুলোতে সরকার নজর দিলেও শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য আসেনি।

বিদেশ কষ্টার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ দেশে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন প্রবাসীরা। তাদের সেই অর্থে চাঙা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অভিবাসন খাত বিশ্লেষক অধ্যাপক সি আর আবরার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার তারা প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দিচ্ছেন। সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য এটা একটা বড় ধরনের সুবিধাজনক অবস্থানে তারা নিয়ে এসেছেন।

প্রতি বছর যে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বিদেশে যাচ্ছেন তারা যদি দেশে থাকতেন তাহলে রাষ্ট্রকে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হতো। সেদিক থেকেও তারা রাষ্ট্রকে নিষ্কৃতি দিচ্ছেন। সে প্রেক্ষিতে বলা যায়, তারা বড় ধরনের ভূমিকা রাখছেন। অনেকে গার্মেন্টসের কথা বলেন, কিন্তু গার্মেন্টসের উপকরণ আমদানি করতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। সেদিক থেকে এখানে কোন খরচ নেই।

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরীফুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘সারা পৃথিবী বাংলাদেশকে যে ঋণ দেয় তার আট থেকে ১০ গুন টাকা প্রবাসীরা পাঠান। আজকে যে বাংলাদেশ ঋণনির্ভর দেশ না, সেটা প্রবাসীদের কারণে সম্ভব হয়েছে। আমাদের রিজার্ভ যে ৪৩-৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে সেটাও তাদের কল্যাণে’।

ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের এমন গুরুত্বপূর্ণ অবদানের পরও তাদের বিদেশ যাত্রার প্রক্রিয়া নিরাপদ করা যায়নি। চলতি বছরও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনে অনেক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। যেমন, জুলাইতে তিউনিশিয়ার কাছে সাগরে নৌকাডুবে প্রাণ হারিয়েছে ১৭ জন বাংলাদেশি। গত জুলাইতে ইউএনএইচসিআর এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের প্রথম ছয়মাসে অবৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশের তালিকায়ও শীর্ষে ছিল বাংলাদেশিরা।

অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘এখানেই একটা বড় সমস্যা। প্রতি বছরই আমরা দেখছি, অভিবাসীরা একটা বড় রকমের সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। প্রথমত, তারা যেখানে যাচ্ছেন সেখানে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাষ্ট্র। সেটাও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যায়নি। এখানে অনেকেই দালালদের দোষারোপ করে থাকেন। কিন্তু দালালদের সঙ্গে রেজিস্ট্রার্ড রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সম্পর্ক রয়েছে, ফলে দালালদের যে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার সেটা শুরু হয়েছে কিন্তু এখনও সম্পন্ন হয়নি। বিদেশে থাকার কারণে তাদের যে সেবার প্রয়োজন ছিল, সেটা একেবারেই প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। আমাদের দূতাবাসগুলোকেও এ ব্যাপারে ভূমিকা নিতে হবে’।

আরেক অভিবাসন খাত বিশ্লেষক আসিফ মুনির ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘৪০-৪৫ বছর ধরে অভিবাসন চলছে। আমরা আংশিক অর্জন করেছি। আইনি প্রক্রিয়া কিছু হয়েছে এবং সেগুলো প্রয়োগের একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটা কার্যকরী করতে কিছু সময় লগবে। আইন না মেনে অভিবাসন তো আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল, সেটা থেকে বের হতে তো আমাদের কিছু সময় লেগেছে। এখানে যে মধ্যসত্ত্বভোগী আছে তাদের অনেক সময় আইনী কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এখনও আমাদের অনেক কাজ বাকি আছে সেগুলো করতে হবে’।

তবে সরকার অভিবাসীদের স্বার্থকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখে কীনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিবাসন খাত বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘একজন কর্মী যখন বিদেশ থেকে আসেন বিমানবন্দরে তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। একজন শ্রমিক হিসেবে তাকে দেখা হয়। একই সঙ্গে তাদের যখন বিদেশে পাঠানো হয়, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এক কাজের পরিবর্তে আরেক কাজ দেওয়া হয়।

ওই সব দেশে যে মিশনগুলো আছে তারা শ্রমিকদের সহযোগিতা করে না। ফলে শ্রমিক পাঠানো দেশ হিসেবে আমরা এখনও বলতে পারি না, আমরা অভিবাসীদের নিরাপদে সেখানে পাঠাতে পারছি৷ করোনার সময় আমরা দেখেছি, যখন সকল খাত মুখ থুবড়ে পড়ছিল তখন অভিবাসী শ্রমিকরা বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। এখন আমাদের দক্ষ কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে৷ তাদের বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে’।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে নারী অভিবাসীরা

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এক কোটি প্রবাসীর মধ্যে ১০ লাখ নারী। এখানে নারীদের অভিবাসনে কোনো খরচ হয় না। একজন পুরুষ যে উপার্জন করেন তার কিছুটা তারা নিজেরা খরচ করেন। কিন্তু নারীরা যা উপর্জন করেন তার পুরোটাই তারা পাঠিয়ে দেন। এখন কথা হলো, যে নারীরা সেখানে যাচ্ছেন তারা কিন্তু একটা নাজুক অবস্থানে থেকে যাচ্ছেন’।

তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত পাঁচশ নারী শ্রমিক মারা গেছেন। তাদের অধিকাংশই আত্মহত্যা করেছেন। করোনার মধ্যে অনেক নারী অভিবাসী শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘নারী অভিবাসনকে আমরা ততটা নিরাপদ করতে পারিনি৷ নারী অভিবাসনকে আমরা শ্রমিক হিসেবে মর্যাদাটুকুও দিতে পারিনি।

তিনি বলেন, আর যদি নৈতিকতার কথা বলি, নারী শ্রমিকদের সঙ্গে যে দাস আচরণ করা হয়, সেটাও আমরা প্রতিকার করতে পারিনি। কারণ আমরা তাদের যাদের কাছে পাঠাই তারা আমাদের চেয়ে আপারহ্যান্ডে থাকে। গত পাঁচ-ছয় বছরে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রে কিছু কাজ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবিক থেকে আমরা খুব একটা এগুতে পারিনি’।

অর্থনীতিতে তাদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা যে উপার্জন করেন তার শতভাগই অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। একজন নারী অভিবাসী মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করেন। তার পুরো টাকাটাই তারা পাঠিয়ে দেন। এখন ১০ লাখ নারী বিদেশ থেকে এই টাকা পাঠাচ্ছেন। ফলে অর্থনীতিতে তাদের অবদানটা পরিসংখ্যান দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে’।

নারীদের অভিবাসন কেন নিরাপদ করা যাচ্ছে না? জানতে চাইলে শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘নারীরা যেহেতু নাজুক অবস্থান থেকে আসে, ফলে তার এই অবস্থানের সুযোগটি নেওয়া হয়। এখন তারা যদি গৃহকর্মে না গিয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক বা নার্স এই ধরনের কাজে যায় তাহলে তাদের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। ফলে এখনও আমরা তাদের অভিবাসনটা নিরাপদ করতে পারিনি। প্রশিক্ষণ, বয়স, কাগজপত্র যেন ঠিক থাকে সেগুলো দেখতে হবে৷ পাশাপাশি ওই সব দেশে আমাদের যে দূতাবাস আছে সেখানে তাদের এই দায়িত্ব নিতে হবে’।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102