

বদরুল মনসুর: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের দুদিন আগে পাক হানাদাররা এ দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের ধরে নিয়ে যায়।
নিষ্ঠুর নির্যাতনের পর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাঙালি জাগরণের অগ্রদূত এ দেশের সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিলো। আজ (১৪ই ডিসেম্বর) জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান দের হারানোর স্মৃতিঘেরা শোকাবহ দিন।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ইউকেবিডি টিভির উদ্দ্যোগে গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য সময় বিকাল ৫ টায় শোকার্ত হৃদয়ের শ্রদ্ধা” শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ভার্চুয়ালি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউকেবিডি টিভির চেয়ারম্যান, জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইউকের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মকিস মনসুর এর সভাপতিত্বে এবং ইউকেবিডি টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও বৃস্টল বাথ এন্ড ওয়েষ্ট যুবলীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল আলম লিংকন এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ভার্চুয়ালি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুলতান মাহমুদ শরীফ, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বার্মিংহামস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহকারী ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার হ্যার এক্সেলেন্সি স্বর্ণালী চন্দ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান উপ-কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলী শিকদার, ৬০ এর দশকে মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ কে সুজাউল করিম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সাবেক ডেপুটি সার্জেন্ট-এট- আর্মস সাদরুল আহমদ খান পলিট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ইউএস এর সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া ও মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফয়ছল মনসুরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিক শিল্পী শ্রাবন্তী বড়ুয়া।
যুদ্ধাপরাধী, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি, ১৫ আগস্টের খুনিদের দোসরদের দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত এবং তাদের মদদ দেওয়া আন্তর্জাতিক শক্তি সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক থাকার” আহ্বান জানিয়ে আলোচনা সভার প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে দখলদার পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি জাতি যখন বিজয়ের দ্বার প্রান্তে, এদেশের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় জাতি ও রাষ্ট্র গঠনে যখন তৎপর, ঠিক তখনই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাধ্যমে স্বাধীন পরবর্তী বাংলাদেশকে মেধা শূন্য করার নীল নকশা প্রণয়ন করে, নৃশংসভাবে তাদের হত্যা করে, সে ষড়যন্ত্র আজও বিদ্যমান।
আজ আমাদের শপথের দিন, ঘুরে দাঁড়াবার দিন বলে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের দেশীয় দোসর কুখ্যাত রাজাকার, আল বদর ও আল সামস বাহিনীর সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তাদের বেছে-বেছে হত্যার যে নীল-নকশা প্রণয়ন করেছিল, নৃশংসভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল, সে ষড়যন্ত্র আজও অব্যাহত রেখেছে স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের বংশধর।
আজও বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে, রাজনৈতিক সেমিনার-সভায় দেশের স্বাধীনতার পক্ষের বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, ধর্মী অপব্যাখ্যা ছড়িয়ে হত্যার ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন আজকেরতরুণ প্রজন্ম ছাত্র সংঘের কথা জানে না, জানে ছাত্র শিবিরের কথা। তারা বিএনপি-জামাতের অপরাজনীতির কথা জানে না, জানে খালেদা জিয়া অসুস্থতার কথা। নতুন প্রজন্মকে জানার আগ্রহ তৈরি করতে হবে।হাতের মোবাইল দিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় আমাদের জন্ম পরিচয় সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে, বন্ধুদেরও জানাতে হবে এবং স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ও রাজাকার বংশধরদের বয়কট করতে হবে।
তাদের সকল ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আমাদদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এই হোক আজকের এই দিনে আমাদের দীপ্ত শপথ।