

স্টাফ রিপোর্টার: সড়কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ঢেউ লাগল সংসদেও। সব ধরনের গণপরিবহণে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া প্রচলনের দাবি জানিয়ে শনিবার সংসদে বিএনপির সংসদ-সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, এজন্য সংসদে নতুন আইন পাশ করতে হবে। উত্তরে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিআরটিসি বাসে হাফ ভাড়া চালু করা হয়েছে। এটা ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এটা সারা দেশেই বিআরটিসি বাসের জন্য চালু হবে। তবে বেসরকারি যে গণপরিবহণ রয়েছে তাদের ওপর আমরা জোর করে চাপাতে পারি না। তারা তো সরকারের অধীনে না। বেসরকারি গণপরিবহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত তাদের নেওয়া দরকার। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় তাদের অনুরোধ করা হয়েছে, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকেও অনুরোধ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে শনিবার ‘মহাসড়ক বিল-২০২১’ পাশের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগ বিবৃতি দিয়ে ছাত্রদের হাফ ভাড়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। যেখানে সাংগঠনিকভাবে হাফ ভাড়ার পক্ষে সেখানে তারা হামলা কেন করতে যাবে? যিনি হামলার কথা বলেছেন তাকে বলব তারা যে ছাত্রলীগ তা প্রমাণ করুন।
পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের চাপে সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ সংশোধন করে শাস্তি কমানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রুমিন ফারহানা। উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক কিছু অ্যাডজাস্ট করতে হয়। এখানে অনেক সমস্যা আছে, যখন চেয়ারে বসবেন অনেক কিছু মোকাবিলা করতে হয়। এটা একটা চ্যালেঞ্জিং জব। এখানে আমরা কিছু কিছু বিষয় অ্যাডজাস্ট করি। কিন্তু সংসদে যেটা বলা হয়েছে তা মোটেও ঠিক নয়। আপনি আইনটির সংশোধিত রূপটি এখনও দেখেননি। এটা সংসদে আসেনি। ওয়েবসাইটে আছে। আইন শাখা এটা ইতোমধ্যে ভেটিং করেছে। তারপরও আমাদের ওয়েবসাইটে রেখেছি। মতামত নিচ্ছি। তিনজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা খুব সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সংশোধিত রূপ দাঁড় করিয়েছে।
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এ আইনে সাজার শৈথিল্য বা কঠোরতা কোনোভাবেই শিথিল করা হয়নি। কোনো সাজা কমানো হয়নি। আইনের যে কঠোরতা, আইনের যে স্পিরিট অরিজিনাল আইনে যা ছিল সেটাই আছে। সেটাই থাকবে। শুধু ভাষাগত ও প্রতিশব্দের বিষয় এবং প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটিকে আমরা যুগোপযোগী করেছি। এছাড়া অন্য কিছু এখানে নেই। এখানে সাজা কমিয়ে কাটছাঁট করে কারও সঙ্গে প্রতারণা করিনি। জনবান্ধব শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে না। এ সরকার জনস্বার্থেই কাজ করে। সড়কে দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহণমন্ত্রী বলেন, সড়কের দুর্ঘটনা বন্ধ শুধু সরকারের কাজ নয়। সবার সহযোগিতা দরকার। সাধারণরা আইন মানলেও আপনি ভিআইপি হয়ে রং সাইডে যেতে চান, সেখানে কী সড়কের শৃঙ্খলা থাকবে? মা শিশুকে কোলে নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে আইল্যান্ড ক্রস করছে। মোবাইল ফোন কানে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে-দুর্ঘটনা হবে না? এজন্য কী শুধু চালকরা দায়ী? বেপরোয়া ড্রাইভিং অবশ্যই দায়ী, আমি সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমরা জনগণ যারা রাস্তা ব্যবহার করি তারা সচেতন নই। শুধু চালক নয় পথচারীরাও বেপরোয়া হয়ে যায়। তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তার জন্য বিলটি আনা হয়েছে, রাস্তায় শৃঙ্খলার জন্য বিল আনা হয়েছে। ডিসিপ্লিন সড়কে দরকার, পরিবহণেও দরকার।
শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্র : শহিদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার শামসুল আলম খান মিলনের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে গণতন্ত্র এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের ক্রমবিকাশমান ধারা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষে আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চলবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ডা. মিলনের বলিদান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিল। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এ আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকা পালন করেন। গণতন্ত্রের শৃঙ্খলমুক্তি ঘটে। তবে এ কথা সত্য যে, আমরা আজও গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারিনি। এজন্য আরও সময়ের প্রয়োজন। সব রাজনৈতিক শক্তির সহযোগিতা ও ঐক্যের প্রয়োজন।
এ সময় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।