

শাহারুল ইসলাম ফারদিন: যশোরের শার্শা বাগআঁচড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ধাবক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ নভেম্বর (শনিবার ভোর রাতে) মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বাগআঁচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আঃ খালেক খতীব ধাবকের ছেলে।
বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস মার্কা) আ.খালেক ধাবক জানান, গত ১৬ নভেম্বর রাতে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইলিয়াস কবির বকুলের সমর্থকরা তাকে দেশী ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়রা জানান, শার্শা বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আ. খালেক ধাবকের সমর্থকরা বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুরহাট থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় বেড় হন। তারা বাগআঁচড়া বায়তুল মামুন জামে মসজিদের সামনে পৌঁছালে ওই ইউনিয়নের নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী ইলিয়াস কবির বকুলের সমর্থকরা তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেকের সমর্থক মোস্তাফিজুর রহমান ধাবকসহ আরও দুজন গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে মারা যায় মোস্তাক ধাবক।

এদিকে মোস্তাক ধাবকের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকালেই বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আ. খালেকের সমর্থকরা বাগআঁচড়া বাজারে জড়ো হয়ে তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে যান চলাচাল বন্ধ করে দেয়। এসময় নৌকার অফিস ভাঙচুর করে বিক্ষোভ করে তারা। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে টহল ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জুয়েল ইমরান জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। নির্বাচন নিয়ে কোনভাবেই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে দেওয়া হবে না। ২৮ তারিখ জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।
শার্শা থানার ওসি বদরুল আলম জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় আহত মোস্তাক ধাবক ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকাত মারা গেছেন। এ ঘটনায় বাগআঁচড়া এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । দ্রুত আসামীদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।