সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু ফুয়েল কার্ড চেক করার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর হামলা পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে কটাক্ষের দায়ে যুবক আটক স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ পঞ্চগড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন ভারি বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সামসুল হক ও সম্পাদক গোলাম রাব্বানি নির্বাচিত খাল খননে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে তিন দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা

এক রোগীকে দুই রকম সনদ, চিকিৎসককে দায়িত্ব না দেওয়ার নির্দেশ আদালতের

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৬২ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার, নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় একটি মারামারি মামলায় দুই ধরনের চিকিৎসা সনদ (এমসি) দিয়েছেন নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে কর্মরত তিন চিকিৎসক। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ওই চিকিৎসকদের তলব করা হয়।

পরে তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক আদালতে হাজির হয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেন। এরপর বিচারক হাজির হওয়া ওই চিকিৎসককে শারীরিক আঘাত বা কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডের ফলে জখমি পরীক্ষা ও সনদ প্রদান থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সোহেল ম্রং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে এই নির্দেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে যে বা যেসব সহায়ক কর্মী ওই ঘটনায় জড়িত, তাকে বা তাদেরকে উদঘাটন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক হলেন ডা. শ্রদ্ধানন্দ নাথ। তিনি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত রয়েছেন।

পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের সিংহেরগাঁও গ্রামে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তাসলিমা আক্তার নামের এক নারী আহত হন। ঘটনার পর দুজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর গত ৩০ মে আসামি শাহ আলম ও নুরে আলম স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আবেদনে জখমি তাসলিমার চিকিৎসার সনদ (এমসি) পত্রের ফটোকপি দাখিল করা হয়।

সনদপত্রে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা ডা. শ্রদ্ধানন্দ নাথ, ডা. টিটু রায় ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) একরামুল হাসান উল্লেখ করেন, ‘ধারালো অস্ত্র ও আঘাত সাধারণ’। এর প্রেক্ষিতে আদালত আসামিদের মূল মেডিকেল সার্টিফিকেট আসা পর্যন্ত জামিন প্রদান করেন।

পরে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত কাজ শেষ করে গত ৩০ জুন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসা সনদপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্মারক নাম্বার, ইস্যুর তারিখ ও তিন চিকিৎসকের নাম এক। কিন্তু একটি এমসিতে সাধারণ জখম, অন্যটিতে গুরুতর জখম।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট তিন চিকিৎসকে আদালত তলব করেন। পরে চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথ আদালতে হাজির হন। তিনি অসাবধানতাবশত দুটি চিকিৎসার সনদই ইস্যু করেছেন মর্মে স্বীকার করেন। হাসপাতালের সহায়ক কর্মচারীরা তাকে ভুল উপস্থাপন করেছেন বলে তিনি আদালতকে জানান। এ ধরনের ভুল ভবিষ্যতে আর কখনো হবে না বলে তিনি ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) একরামুল হাসান বলেন, তিনি একটি সনদ পত্রেই স্বাক্ষর করেছেন। যা পুলিশ আদালতে জমা দিয়েছে। অন্যটির বিষয়ে চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথই ভালো করে বলতে পারবেন। আর আদালত যে নির্দেশ দিবেন তা আমরা মানতে বাধ্য।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এএসএম মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে আদালতের নির্দেশের চিঠি এখনো পাইনি।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102