যশোরে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে র্যালি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, জেলা প্রশাসন ও যশোর পৌরসভার উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এসব কর্মসূচিতে চিকিৎসক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পৌরসভার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়েতের নেতৃত্বে আয়োজিত এই র্যালিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা। এছাড়াও যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এইচ এম আহসান হাবিব, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল, ডা. হিমাদ্রি শেখর সরকারসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও ওয়ার্ড বয় অংশগ্রহণ করেন। প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জন সদস্যের অংশগ্রহণে র্যালিটি হাসপাতাল চত্বর থেকে শুরু হয়ে ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হয়ে সামনের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ১ নম্বর গেট দিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে। পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে শান্তিপূর্ণভাবে র্যালিটি শেষ হয়। র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যদিকে একই দিনে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে যশোর পৌরসভার আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা সৃষ্টি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান ফগার মেশিন চালিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার জন্ম হয় এবং মাত্র তিন দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশার প্রজনন সম্ভব। তাই ড্রেন, ডোবা, নর্দমা বা বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকার সুযোগ রাখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ থেকে বাঁচতে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে এবং নিজেদের বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখতে হবে। খুব শিগগিরই এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র শনাক্ত ও ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং কোথাও প্রজননক্ষেত্র পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর পৌরসভা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার যশোরের উপ-পরিচালক রফিকুল হাসান, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার এবং যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জায়েদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় বিডি ক্লিন যশোর এবং স্কাউটস সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
এদিকে এর আগে সকাল ৯টায় যশোর শহরের ঘোপ বউবাজার এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। যশোর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা শরফুদ্দৌলাহ ছোটলু, প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মারুফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান সোহেল এবং সাবেক কাউন্সিলর সুফিয়া বেগমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের স্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচির বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ করা এবং মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।