বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় থাকত। দীর্ঘদিন পর দেশে ভোট হতে যাচ্ছে। ভোট দিয়ে জনগণ সরকার নির্বাচন করবেন। তবে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন।
সোমবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন মাঠ এবং বড় খোচাবাড়ি জগন্নাথপুর এলাকার সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আগে নির্বাচনে ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীক ছিল। এবার নৌকা নেই। নৌকার কাণ্ডারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের ফেলে ভারতে পালিয়ে গেছেন। দিল্লিতে বসে আছেন, আর দেশের মানুষকে বিপদের মুখে ফেলে গেছেন।
সমাবেশের একপর্যায়ে নিজের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে তিনি বলেন, এবারে যে নতুন মার্কা এসেছে, তার একজন প্রার্থী দেলাওয়ার এখানে দাঁড়িয়েছে। সে এই এলাকারই ছেলে, ভালো ছেলে। তবে বয়সে ছোট। লেগে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে পারবে। আমার বয়স হয়েছে, আমাদের সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। তিনি আরও বলেন, আমি সংসদ সদস্য ছিলাম, সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিক্ষকতা করেছি বলেই সবাই আমাকে ‘স্যার’ বলে। এই নামেই আমি পরিচিত। কেউ আমার সম্পর্কে খারাপ কিছু বলতে পারবে না। আমরা রাজনীতির নামে ব্যবসা করি না। বিএনপি একটি বড় দল, জনগণের অধিকার রক্ষা করে, মা-বোনদের অধিকার রক্ষা করে।
জামায়াত প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি কোনো দল বা পার্টির বদনাম করতে চাই না। তবে ১৯৭১ আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। যুদ্ধ করে আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছি। যারা সেই সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তারাই আজ ভোট চাইতে আসে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের আমরা ভোট দিতে পারি না।
হিন্দু ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। সবার অধিকার সমান। কেউ ভয় পাবেন না। সাহস নিয়ে চলবেন। আমার ভাইয়েরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকবে, পাহারা দেবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচনী পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।