

বাংলাদেশের মানুষ আজ জেনে গেল তারেক রহমান সাহেব ১৭ বছর বিলাতে থাকলেও মাথার ঘিলু পিপড়ার চাইতেও একটু কম আর তেলাপোকার থেকে একটু বেশী রয়ে গেছে।
এই জন্য ডাঃ জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন “ বাপু তুমি কিছু পড়াশোনা কর। “ তার সময় হয়নি পড়াশোনার। ২০০৫ বা ২০০৬ সালে এক টিভি সাক্ষাৎকারে যে জ্ঞান নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন এখনো পরিনত বয়সেও সেই জ্ঞানের দেখা পাই আমরা জনগন।
তিনিই বলেছিলেন “ দেশে কোন সরকারের পক্ষেই সম্ভব না শতভাগ বিদ্যুৎ দেওয়া !”
তখন আমরা দেখেছি ৬৪ হাজার মাইল শুধুই খাম্ব্বা । দৈনিক প্রথম আলো নাম দিল টেন পার্সেন্ট।
তবে এই মিঃ টেন পার্সেন্টকেই আমাদের জনগনের অনেকেই ডাকেন “দেশ নায়ক”! যিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবার পরিবর্তে জনগনকে শুনিয়েছেন বিদ্যুত বিষয়ে হতাশার কথা। তিনি এমন দেশ নায়ক যে ১৭ বছর নিজেকে নিরাপদে রেখে বিলাসী জীবন কাটিয়েছেন লন্ডনের সবচেয়ে দামী এলাকা কিংসটনে। টেক্স রিটার্ন দিতে গিয়ে পেশা লিখেছিলেন জুয়াড়ি। লন্ডনের সেই স্বঘোষিত জুয়াড়ি
এমন এক জ্ঞানী দেশ নায়ক এখন বলছেন ফ্লাই ওভার ঢাকায় লস প্রোজেক্ট । ৩কোটি মানুষের ঢাকা শহরে ২০% এর জন্য ফ্লাইওভারের দরকার উনি বুঝতে অপারগ। ২০% মানুষ যে ফ্লাইওভার ব্যবহার করেন সেই ফ্লাইওভার হওয়ার সুফল উপভোগ করেন প্রতিদিন ঢাকায় ঢুকা আরও এক কোটি মানুষ। ঢাকার ৬০/৭০ লাখ মানুষ যখন ফ্লাইওভারে উঠে যান তখন নীচের ৩/৪ কোটি মানুষ আগের ৩ ঘন্টার সফর এখন শেষ করেন আধ ঘন্টায়। কত কর্ম ঘন্টা সময় বাঁচে জনগনের এখন তাকেই বলি হিসাব করে নিন। নিশ্চয়ই তার সাথে এইসব হিসাব করার জন্য যথেষ্ট জ্ঞানী মানুষ আছেন। ৬০/৭০ লক্ষ মানুষ ফ্লাইওভারে না উঠলে তাদের চলাচল হত নীচের রাস্তায় আর তখন কি হত বুঝতে পারার জন্য বিলাতে সতেরো বছর যখন কাটিয়েও কোন লাভ হয় নি আপনার কাছে এই দেশে কি পাবে ?
মিথ্যা বলার শিক্ষা আপনার বরাবর তা জানি কিন্তু লন্ডনে বেড়ে উঠা ব্যরিষ্টার কন্যাকেও তাতে সামিল না করলেও পারতেন। উন্নত দেশের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার উচ্চ শিক্ষিত মেয়েটি আগামীতে যোগ্যতা দিয়েই না হয় রাজনীতিতে পা রাখতো ! প্রথম বক্তব্যটাই দিয়ে দিল জালিয়াতির । দাদুর শিক্ষা ব্যবস্থার মিথ্যাটুকু দিয়ে যাত্রা না করানোই উচিত ছিল। সুন্দর বক্তব্য এবং ভাল কাজের মাধ্যমে রাজনীতিতে কন্যার অবস্থান দৃঢ় হউক তাতে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে এই কামনা করি।
৫ই আগষ্ট কেন হল ? ভোট না মেধা কোনটা পরিবর্তন হয়েছে? গত সতেরো মাসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের কিছু কি হয়েছে ? যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে এত লাশ এত ধ্বংস এত রক্তপাত ক্ষয়ক্ষতি করার দরকার কি ছিল ? কাল্পনিক মিথ্যার আশ্রয়ে নিয়ে গেলেন স্বদেশ সত্যি সত্যি মিথ্যার পথে। আজ স্বাধীনতার চেতনা বিক্রিতে নেমেছেন আপনারা রাজাকারের দলের বিরুদ্ধে। বহুদলীয় গনতন্ত্রের নামে ৩০ লক্ষ শহীদের সাথে গাদ্দারি করে আপনার জেনারেল পিতা এই রাজাকারদের স্বাধীন বাংলাদেশে আবার রাজনীতি করতে দিয়েছিলেন আওয়ামীলীগকে প্রতিহত করার জন্য। আজ সেই সাপের ছানারা মুক্তিযোদ্ধার তথাকথিত দলটাকে সন্তান পুত্রবধূ নাতনী সহ গিলে খাবে মনে হচ্ছে।পাকিস্তান ভাঙার প্রতিশোধ নিতে জামাত ও জঙ্গি গোষ্টি শেষ চেষ্টা করছে। তাদের একমাত্র টার্গেট মসনদ। একবার আম্মার সাথে চার আনা পেলেও এইবার তাদের পুরোটা চাই।
তিনি কি বুঝতে পারছেন তিনি নিজের জন্য যে নিশ্চিত নিরাপত্তা ও ক্ষমতার আশ্বাস পেয়ে দেশে সতেরো বছর পর ফিরে এসেছেন সবই এখনো মারাত্মক হুমকির মুখে।
খেল আবি বাকি হে মিঃ টেন পার্সেন্ট।
লেখকঃ তওহীদ ফিতরাত হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট ।