

যে সড়ক-মহাসড়কে দাঁড়িয়ে আজ আপনারা বুক ফুলিয়ে চলছেন, যে পদ্মা সেতু দক্ষিণবঙ্গকে সারা বাংলাদেশের সঙ্গে এক সুদৃঢ় বন্ধনে যুক্ত করেছে—সে অভূতপূর্ব উন্নয়নের বিরুদ্ধে যখন শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের বিপক্ষে একজন উপদেষ্টা-খ্যাত বিড়ি ব্যবসায়ী বশির কিংবা বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের বক্তব্য শুনি, তখন মনে হয় তারা রাজনীতি নয়, যেন শিশুকালের “রান্না-বাটি” খেলায় নেমেছেন।
শেখ হাসিনার বিরোধিতা করবেন—এটাই স্বাভাবিক। তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, তিনি আপনাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাঁকে বিরোধিতা না করলে তো ২১ আগস্ট কিংবা ৫ আগস্টের ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার আড়াল ঢেকে রাখা যায় না। তাঁকে বিরোধিতা না করলে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করা কঠিন হয়ে পড়ে, পাকিস্তানের সঙ্গে অদ্ভুত মিতালি গড়ার যুক্তিও দাঁড় করানো যায় না।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এমন বালখিল্যতা কি সত্যিই মানায়?
যারা দিব্যি ডেস ডেস হাদীকে ‘জাতির হিরো’ বানাতে পারে, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে তাকে কবর দেওয়ার পক্ষে সাফাই গায়, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তনকে গর্বের সঙ্গে সমর্থন করে—তাদের মগজের পরিমাপ বিবেচনায় নিলে এমন উদ্ভট ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ছাড়া আর কী-ই বা প্রত্যাশা করা যায়? তখন অনিচ্ছায় মনে পড়ে যায় সেই গান—
“বেশি কিছু আশা করাই ভুল।”
একটি দেশের উন্নয়নের মেরুদণ্ড হলো তার যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমাদের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যদি উন্নত ও কার্যকর না হতো, তাহলে কৃষক উৎপাদন করে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকত, পণ্য মাঠেই পচে যেত। আজ যে অর্থনৈতিক গতিশীলতা, তার ভিত্তিই হলো এই যোগাযোগ অবকাঠামো।
সুতরাং যারা আজ যোগাযোগ উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের কাছে একটি সাধারণ অনুরোধ—একসময় ‘ইরিগেশন’ এর নাম করে যে খাল খননের গল্প শোনানো হয়েছিল, সেই খালগুলোর কোদাল-টুকরির হিসাবটা দিন। জানাবেন তো—সেই খালগুলো ঠিক কোথায় গিয়ে উন্নয়নের মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে?
শেষ কথা হিসেবে শুধু এটুকুই বলব—
আল্লাহ আপনাদের শুভবুদ্ধির উন্নতি দিন, যেন ভবিষ্যতে অন্তত বেফাঁস ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে পারেন।
লেখকঃ তওহীদ ফিতরাত হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট