শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

নবীগন্জে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগ

এম এ আহমদ আজাদ
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৯১ এই পর্যন্ত দেখেছেন

নবীগঞ্জে অবাধে পাহাড় কাটা চলছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড় কেটে লাল মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে বিলুপ্ত হতে চলছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। ঐতিহ্যবাহী দিনারপুর পরগণার পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় কাটা চলছে প্রতিদিনই।

বৃহস্পতিবার দিনারপুর পানিউমদা লাল টিলা কাটা নিয়ে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন । এবিষয়ে ৩জনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অল্প কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের প্রকাশ্যেই শুরু হয়েছে পাহাড় নিধন। কিছু অসাধু উর্ধ্বতন কর্মকর্তার ছত্রছায়াঁয় প্রভাবশালীদের তত্ত্বাবধানে পাহাড়ের এ ধংসযজ্ঞ চলছে। কখনো গভীর রাতে আবার ভোরের সুর্যোদয়ের আগে আবার কখনো দুপুর কিংবা বিকেল বেলা সবার চোখের সামনে এমন কর্মকান্ড চলে আসছে।

পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালীদের হাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ফয়জুল্লাহ (৬০) নামে এক বৃদ্ধ। তাকে পার্শ্ববর্তী  বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। পাহাড় কাটায় প্রশাসনের নিরবতা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন কোন ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে সচেতন লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, টাইলস তৈরি করার জন্য পাহাড়ি লাল এটেল মাটি প্রতি ট্রাক ১০/১৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হয় । ঢাকা, গাজীপুর ও শাহজিবাজার সিরামিক্স টাইলস কোম্পানির এজেন্টদের কাছে এসব মাটি বিক্রি করা হয়। দিনারপুর পরগণার পাহাড় কেটে সমতল করা চক্রের সদস্যরা প্রতি ট্রাক মাটি বিক্রির টাকা বিভিন্ন শ্রেনীর লোকজনের মধ্যে ভাগ হয়। এভাবেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কুচক্রী মহল। এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।

এলাকাবাসী জানান, গত বৃহস্পতিবার নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পাহাড়ি এলাকার পানিউমদা লালটিলা নামক এলাকায় আতাউর রহমান গংরা জোর পুর্বক একটি বড় টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে। উক্ত টিলার কাটার জন্য পার্শবর্তী টিলার বাসিন্ধা ফয়জুল্লাহ মিয়ার বাড়ি ভাঙ্গন ধরে ও ইউনিয়ন পরিষদ সড়কটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তিনি ও তার স্ত্রী প্রতিবাদ করেন এখানে টিলা না কাটার জন্য। বৃষ্টি হলে তার বসত ঘর ভেঙ্গে নীচে পড়ে যাবে। কিন্তু জোর পুর্বক মাটি কাটা অব্যাহত রাখলে ফয়জুল্লাহ আবার আপত্তি জানান। এনিয়ে আতাউর গংরা ফয়জুল্লাহর পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করে। এতে তার স্ত্রীসহ ৫জন আহত হন। গুরুতর আহত ফয়জুল্লাহকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি আতাউর গংদের উপর মামলা করেন। দুপুরে গোপলার বাজার তদন্ত্র কেন্দ্রের এসআই শওকত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

লালটিলার বাসিন্ধা আহত ফয়জুল্লাহ মিয়ার জানান, তাকে মারপিট করে জোর পুর্বক লাল টিলার মাটি কাটা হয়েছে এবং মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে।

আতাউর রহমান বলেন, তিনি জোর করে মাটি কাটেননি, তিনি নতুন বাড়ি নির্মানের জন্য টিলা কেটে মাটি অন্যত্র সরিয়েছেন। মারামারি হয়েছে তাদের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে।

গোপলার বাজার তদন্ত্র কেন্দ্রের এসআই শওকত আলী জানান, তিনি মামলার অভিযোগে ঘটনান্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পানিউমদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাদের পারিবারিক বিরোধ, এখানে টিলা কেটে মিল করা হয়েছে, মাটি কোথায় নেয়া হয়নি। আমরা বিষয়টি আপোষে মীমাংসার চেষ্টা করছি।

হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক ইউসুফ আলী বলেন, আমরা এখনও এই ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

নবীগঞ্জ উপজেলা কমিশনার (ভুমি) প্রত্যয় হাশেম জানান, পাহাড় কাটা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন আমরা তদন্ত করে লালটিলা কাটার সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102