বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন

শিম-টমেটো চাষে লাভবান যশোরের চাষিরা

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
  • ৩১৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর: গ্রীষ্মকালীন শিম এবং টমেটো চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন যশোরের শার্শার চাষিরা। অসময়ে শীত মৌসুমের ফসল হাতে পেয়ে কৃষকেরা যেন সোনার হরিণ হাতে পেয়েছেন। অল্প জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করে বেশি মুনাফা পাওয়ায় তাদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি।

সরেজমিনের দেখা যায়, উপজেলার শ্যামলাগাছি, নারায়ণপুর, কাশিপুর গ্রামের মাঠে মাঠে গ্রীষ্মকালীন শিম ও টমেটোর চাষ হচ্ছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গরমের সময়ও টমেটো ও শিম চাষে সফলতার মুখ দেখছেন চাষিরা। বেগুনি আর হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে এলাকা। গত সপ্তাহে বেনাপোল এবং নাভারনের কাঁচা বাজারে প্রতি কেজি শিম ৭৫-৮০ টাকা এবং টমেটো ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হয়।

এছাড়া, শার্শা উপজেলায় পলি শেড আর নিচে বেড করে টমেটোর চাষ হচ্ছে। ভাল ফলন এবং বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদার পাশাপাশি দাম বেশি পাওয়ায় অধিক লাভের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা।




কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টমেটোর ক্ষেত্রে বাহার, বিনা টমেটো-৪, বিনা টমেটো-৫, বারি টো টো-২ বা রতন, বারি টমেটো-৩, ৪ এবং হাইব্রিড এর মধ্যে সবল, মিন্টু, বারি টমেটো-৫ খুব ভাল ফলাফল দিচ্ছে। জাতভেদে চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পাকা টমেটো সংগ্রহ শুরু করা যায়। পাকা ও কাঁচা দুই অবস্থাতেই টমেটো সংগ্রহ করা যায়। আর প্রতি গাছ থেকে অন্তত সাত থেকে আটবার টমেটো সংগ্রহ করা যায়। জাতভেদে টমেটোর ফলন ৮০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

শার্শার ডিহি ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের শিম চাষি রহমান মিয়া জানান, প্রতি বিঘা শিম চাষে খরচ দাঁড়ায় প্রায় লাখ টাকা। টমেটোর বিঘা প্রতি খরচ একটু বেশি হলেও বাজারে ভাল দাম থাকায় লাভ দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বেনাপোলের নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক আবেদিন জানান, গত বছর এক বিঘা জমিতে বারি-৮ জাতের টমেটো চাষ করে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ করেন তিনি।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার বলেন, যশোর অঞ্চলে চাষিদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি প্রয়োগ করে নতুন নতুন সবজি উদ্ভাবনে চাষিরা এগিয়ে আসায় প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকায় গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ বাড়ছে। এতে চাষিরা যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি সারাবছরই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নতুন নতুন সবজি।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর শার্শা উপজেলার ২৭ একর জমিতে শিম এবং ৩১ একর জমিতে টমেটোর চাষ করা হয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে চাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102