শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাওয়ে মামলায় গণ হারে আসামী। হয়রানির আশংকায় আতংকে মানুষ

ঠাকুরগাও সংবাদদাতা
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৩৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় টানা ক্ষমতায় থাকার পর  ৫আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েপাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ তাঁর  মন্ত্রী-এমপিদের অনেকেই। পটপরিবর্তনেই সারাদেশে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীরবিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

সারাদেশের মতো ঠাকুরগাঁও জেলায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগনেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা সহ একাধিক মামলা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে সরকার পতনের ২ মাসে বিদায়ী সরকারের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র আন্দোলনে নিহত-আহত ওবোমা হামলার ঘটনায় ৮ টি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যেভাঙচুর ও আন্দোলনে হত্যার চেষ্টা ও হাসিনা পতনের দিনঅগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪ জন নিহতের ঘটনায় মামলাও হয়েছে।

এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৩ জন সাবেক সংসদ সসদ্য ও পৌরসভার মেয়রকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে  তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের আটকের জন্য চলছেপুলিশের অভিযান। গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামীলীগের অগণিত নেতাকর্মীরা।

এসব ঢালাও মামলায় শুধু আওয়ামী দলীয় লোকজনই নয়, মামলাগুলোর কয়েকটিতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই এমনব্যক্তিবর্গ, বিএনপি সমর্থক ও ব্যবসায়ীদের নাম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। বিশেষ করে ওয়ার্ড যুবদলে প্রচার সম্পাদক শ্রী দেবদাস ঘনার নামে মামলা হওয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম নিয়েছে দলের ভিতরে ও বাইরে। আগস্টেপুলিশি কার্যক্রম শুরুর পর থেকে গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এইসব মামলা দায়ের হয়েছে।

এসব মামলায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নিহতের ঘটনায় আগস্টে৩টি, সেপ্টেম্বরে ৩টি এবং অক্টোম্বরে ২টি। ২টা মামলায় আবার বিএনপির  কয়েকজন নেতাকর্মী কেও আসামি করা হয়েছে। যদিও মামলার বাদীরা বলছেন, ভুল করে অনেকের নাম মামলায় দেওয়া হয়েছে আর কেউ কেউ বলছেন আসামীদেরকে তারা চিনেন না।

৮ মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রায় ৫০০জনেরও বেশির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতআসামি করা হয়েছে আরো ২ হাজার।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থাসংস্কারের দাবিতে সবশেষে ১ জুলাই আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সেই আন্দোলনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাকর্মী আর আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিকহামলা চালানো শুরু করে। এক পর্যায়ে ১৫ জুলাইয়ের পর থেকেদেশব্যাপী গণহত্যায় নামেন আওয়ামী লীগ। আন্দোলনেদেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে ঠাকুরগাঁও জেলায় ১৫ জুলাইথেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হাজারো ছাত্র-জনতা গুলি বৃদ্ধ হয়েআহতের তথ্য মিলেছে। টানা ৩৬ দিনের তীব্র আন্দোলনেশতশত ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে নতুন করে স্বাধীনতারমুখ দেখেন দেশের মানুষেরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীশিক্ষার্থীদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, গুরুত্বর জখম, ভয়ভীতিও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার মামলাগুলোর মধ্যে বিদায়ীসরকার প্রধান শেখ হাসিনার এমপি রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামসুজন, ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকদীপক কুমার ও ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ওপ্রকাশনা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সাবেকউপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অরুনাংশ দত্ত টিটো, ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমীর, সাবেক উপজেলাচেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম সরকার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগেরসভাপতি সাদ্দাম হোসাইন, ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সাবেকসভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষেদেরচেয়ারম্যান সহ জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অসংখ্যনেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ মামলারপ্রধান আসামি রমেশ চন্দ্র সেন, অরুনাংশ দত্ত টিটো, আব্দুলমজিদ আপেল ও দেবাশীষ দত্ত সমীরকে করা হয়েছে।

অন্যদিকে মামলার বাদীর আইনজীবীকে তা বাদী মাহাবুব হোসেন নিজেই জানেন না। আর কিভাবে এজাহারে ৮৫ জনের নাম এলো তাও তিনিনিশ্চিত করে বলতে পারেননি বাদী। একমাত্র ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়া কাউকে চেনেন না বাদী। বাদীর ভাষ্যমতে, অচেনা কয়েকজন সমন্বয়ক পরিচয়ে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনের ছবি ও নাম দেখিয়ে মামলার এজাহারে তার স্বাক্ষর করিয়ে নেন।পরবর্তীতে মামলায় কিভাবে ৮৫ জনের নাম এলো খোদ তিনি নিজেইজানেন না। এমনকি মামলায় স্থানীয় যুবদলের ওয়ার্ড প্রচার সম্পাদকেরনাম থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাদী নিজেই।

আরেক মামলার বাদী শামীম ইসলাম (সিফান) জানান, অনেকের নাম ভুল করে মামলায় দেয়া হয়েছে। পরে আমি বুঝতে পেরেছি।কিন্তু যাদের নামগুলো দিয়েছি, তাদের আমি চিনি না। তা সংশোধন করা হবে।

এখন পর্যন্ত রুজু হওয়া মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, আমি সদ্য জয়েন করেছি থানায়।আমাদের নিয়মিত সকল পুলিশিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। আশাকরছি আর অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু গুছিয়ে উঠতে পারবো।

হত্যা মামলা সহ অন্যান্য মামলার আসামিদের গ্রেফতারের প্রশ্নে তিনি বলেন, অতি শীঘ্রই আসামিদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযানে নামবো। সকল আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102