রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে ৭ শতাংশ নবজাতক জন্ম নিচ্ছে ত্রুটি নিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২১৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

প্রতি বছর দেশে শতকরা ৭ শতাংশ নবজাতক শারীরিক বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। প্রতিষ্ঠানটির নবজাতক বিভাগে ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আসা ১১ হাজার ২৩২ জনের ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

রবিবার (২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে বিশ্ব জন্মগত ত্রুটি দিবস ২০২৩ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনার ও আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

গবেষণা বলছে, গত ৮ বছরে বিএসএমএমইউর নবজাতক বিভাগে শারীরিক বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে ৭৮৯ জন শিশু। এই সংখ্যা গত ৮ বছরে চিকিৎসা নিতে আসা মোট শিশুর ৭ দশমিক ০২ শতাংশ; যা উন্নত বিশ্বে শিশুর জন্মগত ত্রুটির হারের চেয়ে বেশি।

সেমিনারে জানানো হয়, পৃথিবীব্যাপী জন্মগত ত্রুটির হার প্রতি ১০০ জনে ৩ থেকে ৬ জন (৩ থেকে ৬ শতাংশ)। সারা বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় জন্মগত ত্রুটির হার সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর শুধুমাত্র জন্মগত ত্রুটির জন্য জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ শিশু মারা যায়। শিশু মৃত্যুর এই হার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অনেকাংশে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

আলোচনা সভায় জন্মগত ত্রুটির হার নির্ণয়, ত্রুটির কারণ, প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনার ওপর আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। উপাচার্য নবজাতকদের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ এবং এর চিকিৎসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন উন্নততর চিকিৎসা সেবা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে একের পর এক নতুন ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছে। জেনেটিক ল্যাবও প্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে জন্মগত ত্রুটির ক্ষেত্রে ট্রান্সজেন্ডারের (তৃতীয় লিঙ্গ) বিষয়ে করণীয় কি হতে পারে সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। রোগীদের সুবিধার্থে ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে ডাবল শিফটে ওটি (অস্ত্রোপচার বা সার্জারি) কার্যক্রম চালু করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেসথেসিওলজিস্ট নিশ্চিত করা হবে; যাতে করে অ্যানেসথেসিয়া দেয়ার অভাবে ওটি কার্যক্রম সেবা ব্যাহত না হয়।

নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জন্মগত ক্রটির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন বিসিপিএসের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা। আলোচনা সভায় ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাহরীন আক্তার, শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তোসাদ্দেক হোসেন সিদ্দিকী, লাইন ডিরেক্টর ডা. সাইদুজ্জামান, ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ডা. নুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। জন্মগত ত্রুটি সম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. ইসমাত জাহান।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102