

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগ কখনোই গণতন্ত্রের বিশ্বাস করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে কারাবন্দি সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে রুহুল আমিন গাজী মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগই সেই দল যারা ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলো সমস্ত দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে, পত্রিকা সব বন্ধ করে দিয়েছিলো।
তিনি বলেন, আমার দুঃখ হয়, কষ্ট হয় যে- এই সংবাদপত্রের কর্মী বা সংবাদপত্রের যারা মালিক, তাদের একটা বিরাট অংশ আজকে উচ্ছিষ্ট ভোগী হয়ে গেছে। তারা সরকারের একটু সুন্দর দৃষ্টি দেখলে, সরকারের একটু আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে চাটুকারিতা করছে। যার ফলে একটা ভিন্নভাবে একটা সংবাদমাধ্যম তৈরি হয়ে গেছে বাংলাদেশে।
‘আপনি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলো দেখুন-কী অবস্থা তৈরি হয়ে গেছে, আপনি প্রিন্টিং মিডিয়াগুলো দেখুন কী অবস্থা তৈরি হয়েছে। একটা-দুইটা পত্রিকা, যারা একটু লিখতেন তারাও লিখতে সাহস করেন না। আমি তাদেরকে দোষারোপ করি না, আমি বলছি যে, দেশে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।’
সরকার হটাতে জনগণের অভ্যুত্থান ছাড়া কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটা অভ্যুত্থান, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে উঠে আসা-এটা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আমাদের হাতে অস্ত্র নেই, আমরা অস্ত্রবাজ নই। আমরা সশস্ত্র সংগ্রামের বিশ্বাস করি না। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিজয় অর্জন করতে চাই।
রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে ঢাকায় একটি কনভেশন অনুষ্ঠানের পরামর্শ দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন গাজী সাহেবের মুক্তির আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলি, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিলের জন্য আমরা আন্দোলন গড়ে তুলি, আমরা যে সমস্ত নিবর্তনমূলক আইন আছে তা বাতিলের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলি।
আয়োজক সংগঠনের আহবায়ক সাংবাদিক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আমিরুল ইসলাম কাগজীর সঞ্চালনায় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারোয়ার, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, কামাল উদ্দিন সবুজ, বাকের হোসাইন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোরসালীন নোমানী, কারাবন্দি নেতা রুহুল আমিন গাজীর ছেলে আরফান আবরার আমিন প্রমূখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।