

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে গত মঙ্গলবার বিএনপি নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে পুলিশ ১৮৭ রাউন্ড গুলি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন ও প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত শেষে তিনি অভিযোগ করেন।
এর আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলকে নিয়ে জিয়ার কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন বিএনপি মহাসচিব।
গত মঙ্গলবার জিয়াউর রহমানের কবরে পুম্পমাল্য অর্পনের কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার চন্দ্রিমা উদ্যানে প্রবেশে পুলিশ ব্যাপক কড়াকড়ি করে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ২৫ থেকে ২৬ জন নেতাকে পুলিশ কবরপ্রাঙ্গনে প্রবেশ করতে দেয়।
পুলিশের এমন আচরনে ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গত মঙ্গলবার একটা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হওয়ার কথা। বরাবরই এখানে মহান নেতার কবরে ফুলের স্তবক দিয়ে, জিয়ারত করে, মোনাজাত করে নেতা-কর্মীরা চলে যায় এবং সেটাই ছিলো উদ্দেশ্য।
‘নতুন একটা কমিটি হয়েছে কর্মীদের একটা আবেগ ছিলো। সেই আবেগ নিয়ে তারা সেদিন এখানে এসছিলো। এটাকে তারা সহ্য করতে পারেনি। বেশি জমায়েত হলে তারা সহ্য করতে পারে না। তখন তারা অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। ১৮৭ রাউন্ড গুলি করেছে তারা (পুলিশ), নিজেরা স্বীকার করেছে। আমি এফআইআরটা দেখেছি। এফআইআরের মধ্যে বলা হয়েছে, ১৮৭ রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। এ কিরে ভাই! একটা গণতান্ত্রিক দেশে গণতান্ত্রিক একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও করতে পারবো না। এভাবে চলে না।’
সরকার দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, শুধু বরিশালে নয়, সারাদেশে তারা এরকম সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এখন লেট লুজ। এটা একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব, এটা তো একটা রেইন অব টেরোর। আপনি দেখেন, আসিফ নজরুল সাহেবকে কীভাবে তালা লাগিয়ে দিয়েছে এবং কিভাবে তাকে থ্রেট করেছে। এটাকে কি কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশ বলবেন? এটা তো পাকিস্তানিদের থেকেও খারাপ।
এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইয়াসীন আলী, সাদরেজ জামান, রফিক হাওলাদার, মনির হোসেন, ফখরুল ইসলাম রবিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।