

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এক প্রবাসী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হয়রানির অভিযোগ বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ে লিখিত ভাবে অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে পবিত্র রমজান মাসে এতেকাফে থাকা অবস্থায় এক প্রার্থীকে মারামারির মামলায় প্রধান আসামী করেছেন অপর প্রার্থীকে। একই গ্রামের দুই প্রার্থী হওয়ায় এক প্রার্থীর ভয়ে অপর প্রার্থী প্রচারণা করছেন না।এবিষয় নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে যে কোন সময় সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী লন্ডন প্রবাসী শ্রীমতপুর গ্রামের শেখ মোস্তুফা কামাল অভিযোগে বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থী হিসেবে প্রচারনা চালিয়ে আসছি।তিনি বলেন, তফসিল ঘোষনার পর আমি যথাযথভাবে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করি। আমার গ্রামে আরেকজন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আব্দুল মোছাব্বির মিয়ার পুত্র সুলতান মাহমুদ , তিনিও প্রচার প্রচারনা চালিয়ে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সময় আমাকে প্রার্থী না হওয়ার জন্য নানা রকম প্রান হুমকি দিয়ে আসছেন। গত ০৭/০৪/২০২৪ ইং ( ২৭ শে রমজান) আমি শ্রীমতপুর উত্তরহাটি জামে মসজিদে এত্তেকাফে প্রবেশ করি। আমি মসজিদে এবাদত থাকায় অবস্থায় গত ০৯/০৪/২০২৪ ইং রোজ মঙ্গল বার রাত অনুমান ১১.০০ ঘটিকায় কথিত মামলার বিবরন অনুযায়ী শ্রীমতপুর গ্রামের একটি মারা মারির ঘটনায় শ্রীমতপুর গ্রামের মুক্তার মিয়ার পুত্র নবীর হোসেন বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুটিসিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট কগ-০৫ আদালতে দায়েরকৃত মামলায় আমাকে এক নং আসামী করিয়াছেন। আমার প্রতিপক্ষ গ্রামের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান মাহমুদ এই মামলার পর থেকে তিনি আমাকে ও আমার কর্মীদের বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়ে আসতেছেন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য। আমি যদি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করি তিনি আমার প্রাননাশের চেষ্টা করবেন বলে হুমকি দেন।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান ২য় দাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হিসেবে আমার মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই ভয়ে কোন নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছি না। যে কোন সময় সুলতান মাহমুদের লোকজন আমার উপর হামলা করতে পারে।
এব্যাপারে শেখ মোস্তুফা কামালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমি শুধু জেলা প্রশাসক নয় আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযোগের ব্যাপারে সুলতান মাহমুদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, আমার সাথে মোস্তুফা কামালের কোন বিরোধ নেই। গ্রামের মানুষ মারামারির ঘটনায় উনাকে আসামী করেছে, আমি এই বিষয়ের সাথে জড়িত নয়। আমি কখনও তাকে প্রান নাশের হুমকি প্রদান করি নাই, তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।