

নবীগঞ্জে পরীক্ষার খাতা না দেখানোর জন্য সহপাঠিদের হাতে ছুরিকাঘাতে রাইসুল হক তাহসিন (১৯) হত্যার তিনদিন পর রবিবার বিকালে ১১জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনদিন অতিবাহিত হলে এখনও মামলার এজাহার ভুক্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। তবে দ্রুত আসামীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন নবীগঞ্জ থানার ওসি মাসুক আলী।
নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র সৈয়দ রাইসুল হক তাহসিন (১৯) বানিয়াচং উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নবীগঞ্জ শহরের শেরপুর রোডের রাজন ওয়ার্কশপের সত্বাধিকারী সৈয়দ রাজন মিয়ার ছেলে। রবিবার সন্ধ্যায় রাজন মিয়ার স্ত্রী মাহফুজা সুলতানা বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। গং ৫/৬জন আসামী করা হয়েছে। আসামীদের মধ্যে তাহসিনের সহপাটি মান্নাকে প্রধান আসামী করা হয়েছে বলে জানা যায়।
মামলার মধ্যে কারন দেখানো হয়েছে, মান্নার সাথে পরীক্ষার খাতা দেখানো নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। পরে পরীক্ষার হল থেকে বাহির হয়ে মান্না ও তার সাথীরা তাহসিনের মুখের উপর থু থু ফেলে। এনিয়ে বিরোধের সুত্রপাত হয়। পরে রাতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আসামীদের মধ্যে রয়েছে রিহাত, সাঈফ, সাজু, মিজু,শাহ জাকির,মারুফ, লাদেন, সাফি, তায়েফ, রিমন, জুয়েল, রাহিদ প্রমুখ।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পুর্ব বিরোধের জেরে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী রাত ৯ টার দিকে ওসমানী রোডের চৌদ্দহাজারি মার্কেটের সামনে প্রতিপক্ষের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সৈয়দ তাহসিন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট প্রেরণ করেন। অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে তাহসিন মারা যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ জেকে উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিহত কলেজ ছাত্র তাহসিনের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বানিয়াচং উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামে তাহসিনের দাফন করা হয়।
এদিকে তাহসিনকে মারধর সংক্রান্ত সিসি টিভি ফুটেজ ও পুর্ব আক্রোশের জের ধরে তাহসিনকে দাফনের আগেই নবীগঞ্জ শহরে দু’গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে নবীগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শুরু হয়েছে নতুন গল্পের। অন্ধকারে চলে যাচ্ছে তাহসিন হত্যাকান্ডের মুটিভ। অপরদিকে কলেজ ছাত্র তাহসিন হত্যার তিন দিনপর মামলা দায়ের হয়েছে।
ওসমানী রোডের বাসিন্দা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে এ প্রতিবেদককে জানান- আমার ছেলেকে স্কুলে দিতে ভয় হয়, এমনকী নিজেই শহরে চলাচল করতে মনে ভয় কাজ করে। দুদিন পর পর বাজারে সংঘর্ষ মারামারি, বিশেষ করে তাহসিন নামে যে কলেজ ছাত্রটি খুন হলো এ ঘটনার পর থেকে মনের ভিতরে এক অজানা ভয় কাজ করে, তিনি তাহসিন হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।
তাহসিনের পিতা সৈয়দ রাজন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- তাহসিনের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমার ছেলেকে যারা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। আশা করছি পুলিশ দ্রুত তাদেরকে গ্রেফতার করবে।
এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী বলেন, আমরা এ ঘটনাটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। নিহত তাহসিনের মা মাহফুজা সুলতানা বাদী হয়ে ১১জন কে আসামী করে মামলা করেছেন। আশা করছি খুব দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।