

ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের ফলে দেশটির কয়েকশ স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে মার্কিন বিমান পরিষেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি ফ্লাইট। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইট অ্যাওয়ারের ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, উচ্চগতির বাতাস ও ভারী তুষারসহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে বুধবার দেশটির ১ হাজার ৬৪০ বিমান ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতি।
সিএনএন জানিয়েছে, স্থানীয় এয়ারলাইন স্কাইওয়েস্ট ৩৫০টিরও বেশি বিমান ফ্লাইট বাতিল করেছে। এই স্কাইওয়েস্ট ইউনাইটেড, ডেল্টা, অ্যামেরিকান, আলাস্কা এয়ারলাইনের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে পার্টনারশিপে কাজ করে। ওই বিমান সংস্থাগুলোও একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। দেরিতে ছেড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার বিমান। এসবের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও ছিল।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা মিনেপলিস, ডেনভার এবং ডেট্রয়েট বিমানবন্দরের। এই বিমানবন্দরগুলোতে পরিষেবা কার্যত থমকে গেছে। এছাড়াও টরন্টো বিমানবন্দরের পরিস্থিতিও ভয়াবহ।
শিকাগোর একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় বৃহস্পতিবারের ৪০০টি বিমান ফ্লাইট বাতিল। সব মিলিয়ে আমেরিকার ১২টি বিমানবন্দরে আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কবে এই পরিস্থিতি শেষ হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে নর্থ ও সাউথ ডাকোটা এবং কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের শতাধিক স্কুল। ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পর্বতগুলোর জন্য বিরল একটি তুষারঝড় সতর্কতা জারি করা হয়, যা ১৯৮৯ সালের পর জারি করা প্রথম সতর্কতা। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, ডয়েচে ভেলে।
নিউজ /এমএসএম