

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে ৩৫ মিলিয়ন দিরহামের বিগ টিকেট ড্র জিতলেন আল আইন শহরের বাংলাদেশি প্রবাসী মো. রাইফুল ইসলাম। তিনি আবুধাবি বিমানবন্দরের ডিউটি ফ্রি শপের মেগা র্যাফেল ড্রতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জিতেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
আল আইন প্রবাসী রেফুল লটারী জেতার পর কর্তৃপক্ষ বারবার চেষ্টা করেও ফোনে তাকে পাচ্ছিলেন না।
পরে যখন তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয় তখন তিনি লটারি জেতার আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। তিনি ১০ ডিসেম্বর এই লটারি টিকেট কিনেছিলেন।
মো. রাইফুল ইসলাম পেশায় একজন পিকআপ চালক। ১২ বছর ধরে তিনি আমিরাতে বসবাস করছেন এবং ৯ বছর ধরে ডিউটি ফ্রি শপের টিকেট কিনছেন। মো. রাইফুল ইসলাম জানান, তিনি কখনো ভাবেননি যে তিনি লটারি জিততে পারবেন। তবে পুরস্কারের অর্থ দিয়ে কী করবেন তা তিনি এখনো ঠিক করেননি।
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) নতুন বছরের প্রথম ‘বিগ টিকিট র্যাফেল ড্রতে’ প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিজয়ী প্রবাসী মো. রাইফুল ইসলামের (৩৬) গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। নিজ বাড়িতে বসতভিটা না থাকায় থাকেন শ্বশুর বাড়িতে।
মো. রাইফুল ইসলাম নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরঈশ্বর রায় গ্রামের হাজী আসলাম মিয়ার বাড়ির মৃত খুরশেদ আলমের ছেলে।
জীবিকার তাগিদে ২০১১ সালে দুবাই পাড়ি দেন মো. রাইফুল ইসলাম। ৪ ভাইয়ের মধ্যে রাইফুল ৩য়। মা-বাবা হারানো রাইফুলের নিজ বাড়িতে নেই বসতভিটা। থাকেন একই গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে। তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
মো. রাইফুলের বড় ভাই মো. বাবুল উদ্দীন স্থানীয় খাবার হোটেলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। মেঝো ভাই মো. সাইফুল ইসলাম স্থানীয় একটি মসজিদে মোয়াজ্জেমের দায়িত্ব পালন করেন। একবারে ছোট ভাই মো. রুবেল উদ্দীন দুবাই থাকেন।
রাইফুলের লটারি জয়ের খবরে এলাকায় বইছে খুশির হাওয়া। স্ত্রী ইসরাত জাহান রিসা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার স্বামীর ভাগ্য পরিবর্তন হইসে। আল্লাহ আমাদের দিকে তাকাইসেন। আমরা সবাই অনেক খুশি। আর আমার স্বামীকে প্রবাস করতে হবে না।
ইসরাত জাহান রিসা আরও বলেন, ১০ জানুয়ারি আমার স্বামীর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। টিকেট কেটে রাখসেন। এখন আসতে দেরি হবে। আল্লাহ যেন আমার স্বামীকে প্রবাস থেকে সহি সালামতে আনেন আমাদের জন্য সেই দোয়া করবেন।
রাইফুলের বড় ভাই মো. বাবুল উদ্দীন বলেন, আমার ভাই ১২ বছর ধরে বিদেশ করে। এখনও বাড়িতে ঘর তুলতে পারে নাই। এবার দেশে আসলে ঘর নির্মাণের কথা ছিল। ভাগ্য সহায় হইসে আমার ভাইয়ের। আমরা সবাই অনেক খুশি। আল্লাহ আমার ভাইয়ের ভালো করুক।
রাইফুল ইসলামের শ্যালক মেহেদী হাসান হৃদয় বলেন, আমার একমাত্র বোনের জামাই হলেন রাইফুল ইসলাম। দুই বছর আগে আমার বোনের সঙ্গে উনার বিয়ে হয়েছে। তিনি খুব সাধারণ মানুষ। লটারি জয়ী হওয়ার পর আমার বোনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি খুব খুশি হয়েছেন লটারি পেয়ে। বাড়ির সবাই খুব খুশি।
হাতিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, হাতিয়ার অনেকেই বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। যারা ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিদেশ গমন করেছেন। তবে রাইফুলের মতো ভাগ্য কারও হয়নি। আমরা অনেক খুশি হয়েছি। রাইফুলের পরিবারসহ সবার সুন্দর দিন কামনা করছি।
প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবিতে ২৪৭ সিরিজের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটি জেতেন মো. রাইফুল ইসলাম। লটারিতে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ৩৫ লাখ দিরহাম। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৮ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ২৯৫ টাকা। তিনি আরব অমিরাতের আল আইন শহরের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন গাড়িচালক।
লটারি জেতার পর রাইফুল বলেন, আমি গত ১২ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছি। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমি (এটা) জিতেছি। আমি খুব আনন্দিত।
নিউজ/এম.এস.এম